সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ১ মে, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের ৪৬টি বোরো হাওর রক্ষায় রাবার ড্যাম নির্মানের প্রয়োজন

downloadজাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর:: সুনামগঞ্জ জেলার অর্থনীতির মূল চাবিকাটি হিসাবে এক ফসলী বোরো ধানের উৎপাদন। আর এই কষ্টের ফলানো সোনালী ফসল রক্ষায় ৪৬টি হাওরের ঝুকিঁ পূর্ন নদী,খাল ও ক্লোজার এলাকায় রাবার ড্যাম নির্মানের প্রয়োজন। হাওর রক্ষায় প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মানের নামে পুকুর চুরির কারনে হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার কষ্টের ফলানো হাওরবাসীর সোনার ফসল। আর রাবার ড্যাম নির্মান হলে প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরের বাঁধ নির্মানের নামে পুকুর চুরি বন্ধ হবে এবং সরকার বাঁধ রক্ষায় কোটি কোটি টাকা খরচের হাত থেকে রক্ষা পাবে। সুনামগঞ্জের একটি প্রবাধ আছে তা হল মৎস,পাথর ও ধান এই নিয়েই হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জবাসীর প্রান। কারন জেলায় বছরের ছয় মাস বোরো ফসল চাষাবাদ,বিভিন্ন হাওরে মাছ আর ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে বয়ে বয়ে আসা একাধিক নদীতে বালু উৎপাদন দিয়েই সুনামগঞ্জবাসী তাদের সম্মান ধরে রেখেছে। বোরো ধান উৎপাদনে বহুলাংশে প্রাকৃতির শিলাবৃষ্টি,পাহাড়ী ঢল,অনাবৃষ্টি,উপর নির্ভশীল হলেও দুটি রাবার ড্যাম নির্মানের ফলে পাহাড়ী ঢলে ব্যাপক উপকার পাওয়ায় রাবার ড্যাম নির্মানের পক্ষে মত দিয়েছেন জেলার সচেতন মহল। রাবার ড্যাম নির্মান হলে জেলার বড় বড় হাওর গুলোতে কোটি কোটি টাকা কৃষকের ফলানো কষ্টের উৎপাদিত বোরো ফসল প্রতি বছর আগাম বন্যায় পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকা থাকবে না। একেই সঙ্গে ঐ সব রাবার ড্যাম এলাকায় পানি আঠকিয়ে রেখে চাষাবাদের কাজে লাগোনো যাবে। সুনামগঞ্জ এলজিইডি কার্য্যালয় সূত্রে জানাযায়,জেলার বোরো হাওর রক্ষায় ঝুকিঁ পূর্ন নদী,খাল ও ক্লোজার এলাকায় ১৫টি রাবার ড্যাম নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি।

জেলার করচার হাওরের গজারিয়া ও গাগটিয়ার ক্লোজারের বাঁধ নির্মান করার জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে এই বাঁধ প্রায় সময়েই ভেঙ্গে না হয় বাঁধ উপচিয়ে পানি হাওরে প্রবেশ করেছে। গত ২০১৫সালে এলজিইডির উদ্যোগে গজারিয়ায় ২২কোটি টাকা ও ঘাগটিয়া ৪কোটি ৮০লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি রাবার ড্যাম নির্মান হয়েছে। এর ফলে এই অন্যান্য হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ী ঢলের পানি হাওরে প্রবেশ করলেও এই খান দিয়ে প্রবেশ করতে পারে নি। এছাড়াও জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিএডসি কতৃত নির্মিত মিছাখালী নদীতে ৩৫কোটি টাকার রাবার ড্যামটি প্রায় ৫০কোটি টাকা বোরো ফসলের উপকার হয়েছে। ১৫টি রাবার ড্যাম নির্মানের প্রয়োজন সেগুলো হল,জেলার নলুয়ার হাওর রক্ষায় তিনটি রাবার ড্যাম হবে। এগুলো হচ্ছে বড় ডহরের পাশে কাটা গা্ংেগ,কলইখড়ার নিকট এবং বেতাইকার পাশে। দেখার হাওর রক্ষায় উতারিয়ায়,ধর্মপাশা উপজেলার মহেশখলা,রুপনগড়,তাহিরপুর উপজেলার বাগলিছড়া,লাকমা ছড়া,ভোগলাখালি,গাগলাখালি,টঙ্গি ও উবদাখালি,জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী নদীতে,দিরাই উপজেলায় বৈশাখী খালৈ ও বোয়ালিয়ায় রাবার ড্যাম নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া নিয়েছে এলজিইডি কতৃপক্ষ। জেলার সচেতেন নাগরিক গন জানান,এই রাবার ড্যাম নির্মিত হলে প্রতি বছর হাওর রক্ষার নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালির বাঁধ তৈরী করে জেলার হাওর পাড়ের অসহায় কৃষকদের একমাত্র সম্পদ বোরো ফসল নিয়ে চিনিমি খেলা বন্ধ হবে এবং সরকার প্রতি বছর হাওর রক্ষায় যে পরিমান টাকা খরচ হয় তা লাভবান হবে। বিভিন্ন এলাকার হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান,প্রতি বছর ফসল রক্ষার হাওরের বাঁধ নির্মানে পানি উন্নয়ন বোর্ডেও পুকুর চুরির কারনে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হয়। আমরা পথে বসে গেছি গত বছর সঠিক ভাবে বাঁধ না হওয়ায় সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাবার ড্যাম নির্মান হলে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে চলা চল করতে পারব,মাছ উৎপাদনে সফলতা অর্জন হবে ও রাবার ড্যামে পানি আঠকিয়ে রেখে চাষাবাদের কাজে লাগিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে। সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান জানান,রাবার ড্যাম নির্মানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। রাবার ড্যামের মূল লক্ষ্য জেলার হাওর গুলোর কে অকাল বন্যা ও ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর স্বার্থে। যেখানে রাবার ড্যাম বসানো হলে হাওর বেষ্টিত জেলার বৃহত্তর হাওর গুলোর ফসল হানী থেকে রক্ষা পাবে সেই নিদির্ষ্ট কিছু স্থান চিহ্নিত করে সেখানে রাবার ড্যাম স্থাপনের জন্য আমরা তালিকা তৈরী করেছি এখন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যা ভাল মনে করেন। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,রাবার ড্যাম তৈরী করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন সরকারের অর্থ করছ হলেও সেই খরচের বেশি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হতে পারলে রাবার ড্যাম স্থাপন করলে সরকার ও জেলার হাওরবাসী উপকৃত হবে।

fakhrul_islam

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: