সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এখন নয়, কয়েক বছর পর বাচ্চা নেব: হ্যাপী

165452_1বিনোদন ডেস্ক: এক সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত অভিনেত্রী ছিলেন নাজনীন আক্তার হ্যাপী। ক্রিকেটার রুবেলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। এরপর হঠাৎই শোবিজ দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেলেন। বেছে নেন ধর্মকর্মের পথ। এরপর থেকে অমূল পরিবর্তন। এক সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী এখন হিজাবী ও ধর্মপরায়ণ নারী।

রুবেলের সাথে ফেলে আসা অতীত স্মৃতিকে মুছে ফেলে আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছেন হ্যাপী। মিরপুর মাদ্রাসার এক শিক্ষককে বিয়ে করেছেন হ্যাপী। বিয়ের পর এই প্রথম দু’জনের ছবিও পোস্ট করলেন ফেসবুকে! তবে তা আবার পিছন থেকে তোলা ছবি। কারো মুখই দেখা যাচ্ছে না। সেই পোস্টে স্বামী সম্পর্কে কিছুই বলেননি হ্যাপী। সেই পোস্টটি ছিলো ৩১ ডিসেম্বর।

এর আগে হ্যাপীর বিয়ে নিয়ে তার বোন বলেছিলেন, ‘আপুর সুন্নত তরিকায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। হ্যাপির বর মিরপুরের এক মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। বিয়ের সময় দুই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
তবে ০২ জানুয়ারি বিকেলে হ্যাপী তার ফেসবুক বাচ্চা নেয়া প্রসঙ্গে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন হ্যাপীর সেই স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

‍‘‘কথা বলার একটা ভয়ানক ভুল। যা আকীদা-বিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। বিয়ের পরে কাউকে কাউকে এমন কথা বলতে শোনা যায়, ‘এখন বাচ্চা নেব না, কয়েক বছর পর বাচ্চা নেব’।

‘বাচ্চা নেব না’ বলার দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য থাকে তারা এমন কোন অষুধ ব্যবহার করবে বা এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করবে, যা সাধারণত গর্ভে বাচ্চা আসতে বাধা প্রদান করে থাকে। এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা হলো শরীয়াতসম্মত কোনো ওযর (কারণ) ছাড়া এরূপ করাই ঠিক নয়। তাছাড়া এসব করলেও কারো কাছে বলার মতো বিষয় নয়, কিন্তু এরচেয়ে জঘন্য ব্যাপার হলো তাদের একথা বলা যে, ‘এখন বাচ্চা নেব’ বা ‘আমি বাচ্চা নেব না’, যেন বাচ্চা হওয়া বা না হওয়া তাদের নিজেদের কব্জায় অথচ প্রত্যেক মুসলমানই একথা জানে যে, এটি সম্পূর্ণ আল্লাহ তায়ালার কুদরতের অধীন। স্বামী-স্ত্রী যদি গর্ভ সঞ্চারে বাধাদানকারী কোনো কিছু অবলম্বন নাও করে আর হাজারও চেষ্টা করে, তবও অনেক সময় দেখা যায় গর্ভসঞ্চার হয়না, হলেও স্থায়ী হয়না, স্থায়ী হলেও জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় না।

পক্ষান্তরে গর্ভ বাধাদানকারী কোনো অষুধ বা কোনো পদ্ধতি অবলম্বনের পরও আল্লাহ তায়ালার হুকুমে বাচ্চা হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তায়ালা যে ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন, তা রূখবার কেউ নেই এবং যা সেখানে মঞ্জুরকৃত নয়, তা পাওয়ারও কোনো পথ নেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন-

‘নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা করেন, যাকে ইচ্ছা মেয়ে দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা ছেলে দান করেন। অথবা তাদেরকে ছেলে-মেয়ে উভয় দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।’ (সূরা – শূরা, আয়াত- ৪৯-৫০)

আল্লাহ আরো এরশাদ করেন-

‘আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত খুলে দেন তা রুখবার কেউ নেই এবং তিনি যা রূখে দেন তা তিনি ব্যতীত কোন প্রেরণকারী নেই তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।’

হাদীস শরীফে আছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘আযল’ (সহবাসে বাইরে শুক্রক্ষরণ ঘটানো) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এরশাদ করেন, তা তোমরা কেন করতে যাবে? কেননা যত প্রাণী সৃষ্টি হওয়ার তা তো আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করবেনই।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস- ১৪৩৮/১৩২)

তিনি আরো এরশাদ করেন, ‘যে পানি থেকে সন্তান হওয়ার তা যদি পাথরেও ফেলো, তা থেকেও আল্লাহ তায়ালা সন্তান সৃষ্টি করবেন। আল্লাহ তায়ালা যত প্রাণী সৃষ্টি করার তা তিনি সৃষ্টি করবেনই।’ (মুসনাদে আহমদ ৩/১৪০)

মোটকথা যে জিনিস বান্দার হাতে নেই, বরং তার সম্পর্ক তাকদীরের সঙ্গে এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত ও রহমতের সঙ্গে, সে ব্যাপারে এরূপ শব্দবলি ব্যবহার করা, যা দ্বারা সন্দেহ হয়, যেন তা বান্দার কব্জায় -এরূপ আচরণ কোনো মুমিনের জন্য কখনো শোভনীয় নয়। তাই এধরণের কথা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

কিতাব- ‘প্রচলিত ভুল’ (মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক)’’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: