সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট-আখাউড়ায় চুরি হয়ে যাচ্ছে রেল লাইনের ক্লিপ-হুক

1-daily-sylhet-0-7নিজস্ব সংবাদদাতা:: বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট-আখাউড়ায় রেল লাইন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রেলপথ থেকে অব্যাহতভাবে চুরি হচ্ছে ক্লিপ-হুক। রেল লাইনের সাথে সংযুক্ত ক্লিপ-হুক চুরির ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে রেল লাইন। সেকশনের রেলসেতু ও কালভার্টসমূহের উপর জীনশীর্ণ কাঠের স্লিপারের সাথে পেরেক দিয়ে বাঁশের ফালি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে রেলপথের পাথর ছিটকে যাচ্ছে। রেলপথে স্লিপারসমূহে নাট-বল্টু দিয়ে রেল লাইন আটকানো থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে ক্লিপ, নাট-বল্টু নেই। রেলপথ থেকে এসব যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। ভানুগাছ, শমশেরনগর, টিলাগাঁও স্টেশনের মাঝখানে অসংখ্য স্থানে ক্লিপ-হুক নেই। দু’লাইনের জোড়া দেয়া স্থানেও ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে। দিনের পর দিন ক্লিপ-হুক, নাট-বল্টু, ফিশপ্লেট চুরি হয়ে যাওয়ায় সেকশনটি অধিকতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশ দ্রুত লাগানোর নিয়ম থাকলেও বছরের পর বছর তা লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই সেকশন দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কি.মি. বেগে প্রতিদিন যাত্রীবাহী আন্ত:নগর ও লোকাল মিলিয়ে ২০টি ট্রেন ঝুঁকি নিয়েই আপ-ডাউন করছে। সাথে থাকছে দু’একটি মালবাহী ট্রেনও। অপরদিকে সেকশনের রেলসেতু ও কালভার্টসমূহের ৩০-৪০ বছরের পুরনো কাঠের স্লিপারের অধিকাংশ বিনষ্ট হয়ে গেছে।

মনু রেলসেতুসহ রেলপথের কয়েকটি কালভার্ট ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরনো জীর্ণশীর্ণ এসব কালভার্টের অধিকাংশই বিনষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও স্লিপারসমূহ সরে ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে এসব কালভার্ট ও সেতুর উপরে বিনষ্ট হওয়া স্লিপার স্থানচ্যুত না হতে স্লিপারের সাথে পেরেক লাগিয়ে ফালি করা বাঁশ দিয়ে টানা দেয়া হয়েছে। সেতু কিংবা কালভার্টসমূহের হুক-ক্লিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। মনু রেলসেতু এলাকায় সম্প্রতি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা নাট-বল্টু লাগিয়ে স্লিপারের সঙ্গে নিচের গার্ডারের সংযোগ স্থাপনের কিছু কাজ সম্পন্ন করেছেন। মনু বাজারের পল্লী চিকিত্সক মঈনুদ্দীন আহমদ, বয়োবৃদ্ধ উসমান আলী, যাত্রী সিরাজ মিয়া বলেন, মনু রেল সেতুর এই অবস্থা দেখলেই বুঝা যায় এটি কিভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। রেলের কাঠের স্লিপারগুলো ভেঙে ভেঙে পড়ছে। তাছাড়া মনু স্টেশনে মাস্টারসহ কোনো লোকবল না থাকায় অধিকতর ঝুঁকির মুখে যেকোনো সময়ে দুর্ঘটনা আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের শ্রীমঙ্গলস্থ ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলী আজম বলেন, ব্রিজ ও কালভার্টসমূহে কাঠের স্লিপার জায়গা মতো না থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই পেরেক দিয়ে বাঁশের টানা দেয়া হয়েছে। চুরি হয়ে যাওয়া স্থানে হুক-ক্লিপ লাগানো হচ্ছে। তাছাড়া পুরো রেলপথে ১৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর প্রকৌশলীরা পর্যবেক্ষণ করছেন। রেলপথ ঠিক রাখতে যথাসম্ভব চেষ্টার কোনো ত্রুটি হচ্ছে না এবং কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান বলেন, রেল সেতু ও কালভার্ট সেতুসমূহের উপর কাঠের স্লিপারগুলো ২০-২৫ বছরের পুরনো হয়ে গেছে। স্লিপারগুলো টানা দেয়ার জন্য বাঁশ দেয়া হয়েছে। কাঠের সংকট থাকায় নতুন স্লিপার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ব্রিজে কংক্রিটের স্লিপার লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন স্লিপার স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে এবং ব্রিজ-কালভার্টসহ রেলপথ পর্যবেক্ষণে আছে। ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: