সর্বশেষ আপডেট : ১০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হুন্ডিতে হারাচ্ছে রেমিট্যান্স

1483419914নিউজ ডেস্ক:: প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু উদ্যোগ কাজে আসছে না। প্রতিমাসেই কমে যাচ্ছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। এমনিতেই বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের উপার্জন কম হচ্ছে। অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের নানা সঙ্কটে ইউরো ও পাউন্ডের দাম পড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর এসব কারণে একটু বাড়তি লাভের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ না পাঠিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন তারা। ফলে তা হিসাবে আসছে না।

ব্যাংকার, অর্থনীতিবীদ, প্রবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনটি বড় কারণে রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে। সেগুলো হলো, তেলের দাম কমে যাওয়া, ইউরো এবং পাউন্ডের বিনিময় মূল্য পড়ে যাওয়া এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ। এ কাজটা ব্যাংকিং আওয়ারের বাইরেও করা যায়। আর বিনিময় মূল্যও ব্যাংকের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়তি কিছু টাকা পাচ্ছেন। যেমন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠালে ডলারের বিপরীতে ৭৭ টাকা পাওয়া যায়। অন্যদিকে হুন্ডিতে পাঠালে মিলছে ৮৫ টাকা পর্যন্ত। এজন্যই তারা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন। বিশেষ করে অল্প পরিমাণের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমেই পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এতে ওই প্রবাসী লাভবান হলেও তা কোন দেশের হিসাবে না আসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।

রেমিট্যান্স কমার পেছনে বেশ কিছু কারণ শনাক্ত করেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের মতে, সামপ্রতিক সময়ে টাকার বিপরীতে পাউন্ড, ইউরো, রিয়ালের দর কমে গেছে। এ কারণে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে টাকা পাচ্ছেন কম। যে জন্য তারা এখন রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে ধরে রাখছেন। দর বাড়লে পাঠাবেন। সমপ্রতি হুন্ডির প্রবণতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেসব রেমিট্যান্স আসছে সেগুলোর বেশিরভাগই হচ্ছে হুন্ডি। এ ছাড়া হুন্ডি, মুদ্রাপাচার ও নগদ আকারে কিছু রেমিট্যান্স আসছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোয় বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এ জন্য কাজের ক্ষেত্র যেমন সংকুচিত হয়েছে, তেমনি বেতন-ভাতার পরিমাণও কমে গেছে। ফলে প্রবাসীদের আয়ও কমে গেছে। এসব কারণেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি যাওয়ার কারণে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোয় আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রযুক্ত ব্যবহার করে হুন্ডি কারবার করা হচ্ছে। অনলাইনে এ কাজ করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছে এ কাজে। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বৈধ পথে পাঠানো রেমিট্যান্স। অবশ্য প্রবাসীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর গাফিলতি ও হয়রানির কারণে অনেকে অবৈধ হলেও হুন্ডিতেই টাকা পাঠাচ্ছেন দেশে।

রেমিট্যান্স বাড়তে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বছর কয়েক আগে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্ন দেশের ক্যাম্পেইন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বিদেশে অবস্থিত এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে উত্সাহিত করতে বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা শিথিল করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিদেশী এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর নিরাপত্তা জামানত কমানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের (২০১৬ সালে) পুরো সময়ে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছে। রেমিট্যান্সের এই অঙ্ক এর আগের বছর অর্থাত্ ২০১৫ সালে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৭০ কোটি ১৩ লাখ ডলার বা ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কম। অথচ ২০১৫ সালের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা ২০১৪ সালে আসা রেমিট্যান্স থেকে ৩৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার বা দুই দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। এর আগে প্রায় এক যুগ পর ২০১৩ সালে রেমিট্যান্স কমে গিয়েছিল। ওই বছর ৩৪ কোটি ডলার বা দুই দশমিক ৩৯ শতাংশ রেমিট্যান্স কম এসেছিল।

এদিকে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিংয়ের (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিদায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত লাখের বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার জনশক্তি রপ্তানি হয়। ২০১৪ সালে রপ্তানি হয় চার লাখ ২৫ হাজার এবং ২০১৩ সালে হয় চার লাখ ৯ হাজার। সেই হিসাবে ২০১৩ সালের পর আবারও জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও রেমিট্যান্সে তার বাস্তব প্রভাব চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, হুন্ডির কারণেই মূলত রেমিট্যান্স কমছে। আর ব্যাংকের সঙ্গে খোলা বাজারে ডলারের দামের পার্থক্য অনেক বেশি হওয়ায় হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন প্রবাসীরা। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে বিদেশ আছেন এবং অল্প পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংকে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ভুয়া এজেন্ট সেজে যাতে কেউ এ কাজে সহযোগিতা করতে না পারে সে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালনাকারী বিকাশ, ডাচ-বাংলাসহ অন্যান্যদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও যাতে এজন্য সহযোগিতা করে সে বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: