সর্বশেষ আপডেট : ৪২ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাজকীয় সম্মাননা ‘এমবিই’ খেতাব পাওয়া ৩ সিলেটী

1-daily-sylhet-0-17যুক্তরাজ্য সংবাদদাতা:: ব্রিটেনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতি বছর রাণীর জন্মদিন ও নববর্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরির খেতাব প্রদান করা হয়। ১৯১৭ সালে চালু হয় এই খেতাব প্রদান।ব্রিটিশরা ছাড়াও এশীয় ও কৃষাঙ্গসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা সম্মাননা পেয়েছেন। ব্রিটেনের অন্যতম রাজকীয় সম্মাননা ‘এমবিই’ খেতাবে পাওয়া বাংলাদেশীদের প্রায় অধিকাংশই সিলেটী । বিভিন্ন সুত্র থেকে পাওয়া ৩ জনের কথা সুরমা নিউজ টুয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মেম্বার অব দ্য মোস্ট এক্সেলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এমপায়ার সংক্ষেপে এমবিই সম্মাননার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ফর গড অ্যান্ড দ্য এম্পায়ার। গত বছর অনুরূপ একজনকে নাইট, দুইজনকে সিবিই, দশজনকে ওবিই এবং চারজনকে এমবিই সম্মাননা দেয়া হয়। প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রাণীর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় এ মর্যাদা। ব্রিটেনসহ গোটা বিশ্বের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে থাকে এ স্বীকৃতি।

বজলুর রশিদঃ

২০১২ সালে এমবিই’ মনোনীত হয়েছিলেন বাংলাদেশি রেস্তারাঁ সমিতির তৎকালীন সভাপতি বজলুর রশীদ,এমবিই। শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হিসেবে অনন্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ব্রিটেনের শীর্ষ বেসামরিক রাজকীয় পদক বিজয়ী বজলুর রশিদ এমবিই একজন সফল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। ১৯৮০ সালের শুরুতে উদীয়মান রেস্তোরাঁ ব্যবসায় একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পথ চলা শুরু হয় তার। ২০০৬ সাল থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। জানা যায়, বর্তমানে এ সমিতির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে ব্রিটেনের সর্বাধিক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ।
বজলুর রশীদের জন্ম সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বলিয়াকান্দি গ্রামে। ১৯৭৮ সালে প্রথম লন্ডন আসেন তিনি। সেই থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের সাথে তিনি জড়িত রেখেছেন নিজেকে। প্রথম বছরেই ভাইয়ের সাথে অংশীদার ভিত্তিতে কেন্টের ডোভারে একটি রেস্তোরাঁ খোলেন বজলুর রশিদ এমবিই। কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিগগিরই আরো অনেকগুলো ব্যবসা চালু করেন তিনি। এক পর্যায়ে অ্যাশফোর্ডের ভেতরে ও আশেপাশে ১৬টি রেস্তোরাঁ গড়ে ওঠে তার। এছাড়াও তিনি গড়ে তুলেছেন একটি আবাসন কোম্পানি, একটি বীমা কোম্পানি, একটি অবকাশকেন্দ্র, বাংলাদেশে একটি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালের পাশাপাশি তিনটি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

ফয়েজ উদ্দিনঃ

একই বছর বৃটেনের রাণী কর্তৃক এমবিই খেতাবে ভূষিত হয়েছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবী,যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের প্রথম বৃটিশ বাংলাদেশী প্রিন্সিপাল অফিসার মো.ফয়েজ উদ্দিন। সম্প্রতি বাকিংহাম প্যালেসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই খেতাব ও পদক প্রদান করেন বৃটেনের রানী। ফয়েজ উদ্দিন এমবিই’র জন্মস্থান সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শ্রীরামপুর গ্রামে। তিনি বাংলাদেশের খ্যাতনামা নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা.আলাউদ্দিনের ছোট ভাই। ফয়েজ উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাজ্য গমণ করেন। তিনি লন্ডনের সিটি ব্যাংকিং কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন।যুক্তরাজ্যে যাবার পর থেকেই তিনি বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ শুরু করেন ও পরবর্তীতে কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত প্রিন্সিপাল অফিসার নিযুক্ত হন। অভিবাসী বাংলাাদেশী ও ক্ষুদ্র জাতি সত্বার বৃটিশ নাগরিকদের জন্য তার সেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি বৃটিশ রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪ সন্তানের জনক।

তৈয়বুর রহমানঃ

ব্রাডফোর্ডের বাসিন্দা সমাজসেবী তৈয়বুর রহমানের খেতাব নেওয়া হয়নি। এর আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। গত নভেম্বরে তিনি পরলোক গমন করেন। জানা যায় তার পরিবারের সদস্যরা ব্রিটেনের রানীর কাছ থেকে খেতাব গ্রহন করবেন। জনাব তৈয়বুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সুপরিচিতি । ব্রাডফোর্ড লোকাল অর্থরিটিতে সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ৫০ টি পরিবারকে শিশু দত্তক নিতে সহায়তা করেন তিনি। এই কাজের স্বীকৃতির জন্য এমবিই খেতাব পেলেন এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি। ১৯৪৩ সালে সিলেটে জন্ম নেওয়া তৈয়বুর ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন। ব্রাডফোর্ডে সত্তরের দশকে উত্তরা ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করা তৈয়বুর ব্রাডফোর্ডের বৃহত্তম বাংলাদেশি কমিউনিটি সংঘটন ‘বাংলাদেশ পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’ এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: