সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিগত বছরে নির্যাতিত হয়েছে ১৪১৫ নারী

full_1175884850_1483272319নিউজ ডেস্ক:: ২০১৬ সালে পারিবারিক কলহ, ধর্ষণ, যৌতুকের দায়সহ বিভিন্ন ঘটনায় সারাদেশে ১ হাজার ৪১৫ জন নারী নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সেন্টার’র (এইচআরএসসি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে এইচআরএসসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে পারিবারিক কলহের নির্যাতনে ৪০৯টি ঘটনায় ২৮৯ জন নারী নিহত হয়েছেন, আত্মহত্যা করেছেন ৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৬ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩৯ জন নারী এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনে ২২৭টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫০ জন, আত্মহত্যা করেছেন ০৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৭২ জন নারী। এছাড়া এসিড নিক্ষেপের ৩৫ টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন নারী।

এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে সরাদেশে অপহরণ হয়েছে ৩৯৭ জন, অপহরণের পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৮৯ জনকে এবং অপহরণের পর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনের। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ৩৪ জনকে অন্তর্ধান (গুম) করা হয়েছে এবং গুম করার পর ৯ জনকে বিচার বহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। এ বছরে ১৬৭ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ২১৭ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও ২০১৬ সালে কারা হেফাজতে মারা যান ২৭ জন।

এ বছরে ৭২৩ টি সহিংস হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৪৭ জন, আহত হয়েছে ৬৭৩ জন এবং গুলিবিদ্ধ ১১৪ জন। এছাড়াও গণপিটুনির ১১১ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০৪ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৩৬১ জন পুরুষের, ১৪৭ জন মহিলার এবং ২২৯ জনের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে।

এ বছরে ৪২৩ টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০১ জন, আহত হয়েছে ৩ হাজার ৬১৩ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৮২ জন, যার অধিকাংশ ঘটনায় সরকার দলীয়কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৮১ টি হামলার ঘটনায় মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলাসহ নিহত হয়েছে ১১ জন, আহত হয়েছে ৬৩ জন।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ৬৯ টি হামলার ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ২৮ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে ২৮ জনকে

এবং গ্রেফতার হয়েছে ৩৫ জন। এছাড়াও মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) কর্তৃক ৬টি হামলার ঘটনায় আহত হয়েছে ৭ জন এবং গ্রেফতার ১৫ জন।

ব্যাপকভাবে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি’২০১৬ নির্বাচন কমিশন ছয়টি ধাপে মোট ৪ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করার পর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২২ মার্চ নির্বাচন শুরু হয় এবং ছয়টি ধাপে এই নির্বাচন ৪ জুন শেষ হয়। ছয় ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় মোট ৮৬ জন নিহত, অন্ততপক্ষে ২ হাজার ৬০৫ জন আহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২৩২ জন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হামলায় সাংবাদিক আহত হয়েছে অন্ততপক্ষে ৬০ জন, গ্রেফতার হয়েছে ১০ জন। এছাড়াও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে ১০ জন এবং হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ১১ জন সাংবাদিক।

এইচআরএসসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে জনগনের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। তাই দেশের সকল সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠন গুলোকে আরো সোচ্চার হতে হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: