সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টহল পুলিশ বিদায় করে দিয়েছিলেন এমপি লিটন

full_365386785_1483267327নিউজ ডেস্ক:: গাইবান্ধার সরকারদলীয় সাংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গতকাল সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে কর্তব্যরত টহল পুলিশদেরকে বিদায় করেন দেন। এর কিছুক্ষণ পরই নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। তার শরীরে গুলির পাঁচটি চিহ্ন পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যমের কাছে টহল পুলিশদেরকে বিদায় করে দেয়ার তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল ইসলাম। শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হন সাংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আইজিপি জানান, ‘হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান বিমল চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য লিটনকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তার শরীরে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি লেগেছে বুকে আর তিনটি লেগেছে হাতে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা যায়নি।

এমপির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার অনিল সাহা ও এমপির শ্যালক আবু নাসের মিরান জানান, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় সাংসদ লিটন তার দ্বিতল বাসভবনের নিচ তলার বৈঠক খানায় বসে ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলছিলেন। এসময় ৩ জন যুবক হেলমেট পরা অবস্থায় একটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসার সামনে আসে। তাদের একজন বাইরের আঙিনায় মোটরসাইকেলে বসা ছিল, তখন মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিনও চলছিল। অপর দু’জন এমপি লিটনের সাথে জরুরি কথা বলার অজুহাতে ঘরের ভেতরে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে আকস্মিকভাবে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। লিটন মাটিতে লুটিয়ে পড়েই অচেতন হয়ে যান। এসময় দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।

লিটনের স্ত্রী বড় ভাই বদিউল কারিমিন বাদল জানান, দুর্বৃত্তরা আসা এবং গুলি করার সময় এমপি লিটনের স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খুরশিদ জাহান স্মৃতি রান্না ঘরে ব্যস্ত ছিলেন। গুলির আওয়াজ শুনে তিনি ছুটে এসে তার স্বামীকে মাটিতে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের গুলির শব্দ শুনে বাড়ির এবং আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে ৩ জন যুবককে পালাতে দেখেন কিন্তু তাদের হাতে রিভলভার থাকায় কেউ সামনে যেতে সাহস করেনি। তারা দ্রুত রাস্তায় উঠে বামনডাঙ্গা-নলডাঙ্গা সড়ক ধরে পালিয়ে যায়।

একটি সূত্র জানায়, ওই সময় অন্ধকার থাকায় কাউকে চেনা যায়নি। এছাড়া এমপির বাড়িতে পৌছানোর পর থেকে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পালানোর সময় পর্যন্ত হামলাকারীরা মাথা থেকে হেলমেটও খোলেনি।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, এমপির নিরাপত্তার ব্যাপারে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্ধ ইউনিয়নের গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভকে গুলি করে সারা দেশে সমালোচনার মুখে পড়েন এমপি লিটন। তিনি তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে সৌরভকে গুলি করেন। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর এমপি লিটনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ রোববার সুন্দরগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালন করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: