সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শুভ নববর্ষ ২০১৭ : সেই একই সূর্য তবু উদয় ভিন্নতর

dsc_0085অহী আলম রেজা ::
সেই একই সূর্য, একইভাবে আজ কুয়াশার চাদর মুড়ে উঠেছে পূর্বাকাশে। তবু তার উদয় ভিন্নতর। আজকের দিনটি আলাদা, কারণ একটি নতুন বর্ষপরিক্রমা শুরু হলো আজ থেকে। খ্রিষ্টীয় ২০১৭ সালের প্রথম দিন আজ। আজ শুভ নববর্ষ।
নতুনের প্রতি সবসময়ই মানুষের থাকে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা। নতুনের মধ্যে নিহিত থাকে অমিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণ করার সুযোগ করে দিতে এল নতুন বছর। পুরনো বছরের গ্লানি, ব্যর্থতা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে নতুনকে আবাহন করার কথা বলেছিলেন কবিগুরু। সেই কথা স্মরণে রেখে দেশবাসী চিরাচরিত রেওয়াজ অনুসারে রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে স্বাগত জানিয়েছে নতুন বছর। নতুন বছর জাতির জন্য নিয়ে আসুক নতুন সম্ভাবনা- এমন প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন দেশের ১৬ কোটি মানুষ। এ বছরেই শেষ হোক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কার্যকর হোক সকল রায়-নতুন বছরে এ চাওয়া গোটা জাতির। সব মিলিয়ে আমরা আশাবাদী হতে চাই নতুন বছরকে নিয়ে, এগিয়ে যেতে চাই সামনের দিকে।

বিদায়ি বছরজুড়েই ছিল রাজনীতিবিদদের মধ্যে টানাপড়েন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, কেলেঙ্কারির নায়কদের রক্ষার কৌশল ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দান, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জঙ্গি আস্তানার সন্ধান লাভ, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন, ছাত্রলীগের ধারাবাহিক সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, আদালতের কাছে দুই মন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা, কুমিল্লায় তনু হত্যা, চট্রগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মিতু হত্যাকান্ড, সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজার উপর হামলা, নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন, মার্কিন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, সর্বশেষ উত্তাপহীন জেলা পরিষদ নির্বাচন-এ রকম নানা ঘটনা আলোচনার টেবিলে উত্তাপ ছড়ায় বছরজুড়েই।

এরই মধ্য দিয়ে নতুন বছর এল আমাদের জীবনে। একটি সমৃদ্ধ, শান্তিময়, মানবিক মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে বাঙালি যুদ্ধ করেছে। সফল হয়েছে। পরাধীনতার ইতিহাস বদলে দিয়েছে। কিন্তু স্বপ্নের সবটুকু পূরণ হয়নি; হবে না এমন নয়।
এই বিশেষ দিনটিকে উপলক্ষ্য করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষুদে বার্তা ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কর্পোরেট, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনও প্রতি বছর নিকটজনদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করে থাকে। এই দিনটিতে বিদায়ী বছরের সাফল্য ও ব্যর্থতা ফিরে দেখা হয় এবং নতুন বছরে কিভাবে লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সেজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বছরের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্যও কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়।

দেশবাসীকে খ্রিস্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও ব্যবহারিক জীবনে ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় খ্রিষ্টীয় নববর্ষ সকলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।কালের বিবর্তনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপন বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে মন্তব্য করে কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি যেন ‘মানুষের এই আনন্দধারায়’ বিঘœ ঘটাতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, বিগত বছরের সব অকল্যাণ ও ব্যর্থতার গ্লানি মুছে নতুন বছর আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সারা বিশ্বের সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণীতে ২০১৭ সালকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর বলে অভিহিত করেন।

শেখ হাসিনা তার শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৬ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর।জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারের জন্য বাংলাদেশেরআইটিইউ অ্যাওয়ার্ড অর্জনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।পদ্মা সেতুর মূল অংশ এবং রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরুসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক শান্তিসূচক, ক্ষুধাসূচক, খাদ্যসূচক, লিঙ্গ-বৈষম্যসূচক, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার, বৈশ্বিক সমৃদ্ধিসূচক, বিশ্বগণমাধ্যম সূচকসহ সকলক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে এবং অনেকক্ষেত্রে ভারতের চাইতে আমাদের অবস্থান ভালো।

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা দারিদ্র্যের নাগপাশ থেকে মুক্তির জন্য পুরানো ধ্যান-ধারণা, আত্মকলহ, বিদ্বেষ ত্যাগ করা জরুরি। সবাই মিলে এক হয়ে নামলে অনেক বড় শত্রুর বিরুদ্ধেও যুদ্ধে জয় করা যায়-এ অভিজ্ঞতা আমাদের হাতেকলমেই আছে। সেই মনোভাব নিয়ে যাত্রা শুরু করলে বাঙালিও পারবে অগ্রগামীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। তাদের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে যেতে। নতুন বছর আমাদের এভাবে অনুপ্রাণিত করুক। শুভ নববর্ষ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: