সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে মুক্তিযোদ্ধা কানাই লাল দাস

unnamed-3ছাতক প্রতিনিধি:: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে এসে ছাতকের রনাঙ্গনের বীর সেনানী ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধা কানাই লাল দাস শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের মতো দেশের জেলায়-উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রাজাকারদেরও বিচার দেখে এবং নিজের ভিটেতে পরিবারের ঠাই করে মরতে চান তিনি। যেসব রাজাকার, আলবদর-আলসামসরা বাংলার নিরীহ মানুষদের হত্যা, ধর্ষন ও সম্পদ লুন্ঠন করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে তাদের ফাঁসীর দাবী করেন এ বীর সেনানী। এসব নরপশুরা এখনো দাপটের সাথে বাংলার বুকে অশুভ বিচরন করছে দেখে মুক্তিযোদ্ধা কানাই লাল দাসের ক্ষোভ হয় মন্তব্য করে তার যুদ্ধকালীন কিছু ভয়াবহ স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।

১৯৭১ সালে কানাইলাল দাস এক টগবগে যুবক ও ছাতক সিমেন্ট কারখানার একজন নতুন শ্রমিক। ২৫ মার্চ কালোরাত্রীতে পাকিস্থানী হায়েনাদের বর্বোচিত হত্যা যজ্ঞ তিনি বেতারে শুনেছেন এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ ছাতকে হানাদার বাহিনীর নির্মম আক্রমন দেখে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার দীপ্ত শপথ নেন। ২৮ মার্চ বিকেলে ভারতের চেলাবাজারে বাঙ্গালী শরনার্থী শিবিরে অন্যান্যদের সাথে যোগ দেন তিনি। ২৯ মার্চ ৭নং ব্যাচে ৬০ জনের একটি দল ট্রেনিং গ্রহনের জন্য বিএসএফ’র গাড়ি দিয়ে মেঘালয়ের জুরাইন নামক স্থানে পৌছেন। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং সেন্টার ইকু-ওয়ান-এ ২৮দিন ট্রেনিং গ্রহন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন কানাই লাল দাস।

এসময় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছাতকের এমএনএ আব্দুল হক, ডাঃ হারিছ আলী, কমরেড মানিক মিয়া, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে আসা ইউছুফ আলী, ফনী ভুষন চৌধুরী, হেমেন্দ্র দাস পুরকায়স্থ, আমির আলী, সুনিল চক্রবর্তী, ডাঃ শুধাংশ দে, ডাঃ অশোক বিজয় দাশগুপ্ত, রবীন্দ্র নাথ মিন্টু, অরুন চক্রবর্তী, স্বরাজ দাস, আলকাছ আলী, লিলু মিয়া, হোসেন আলীসহ অনেকেরই সাথে তার দেখা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আর্মস-এমোনিশন নিয়ে ক্যাপ্টেন হেলাল উদ্দিনের নির্দেশে ইউছুফ কোম্পানী ও শহীদ কোম্পানীর অধীনে ৬০ জনের একটি মুক্তিযোদ্ধা দল পাক-বাহিনীর দখলে থাকা পাথরঘাটা, টেংরাটিলা, বেটিরগাঁও, হরিনাপাটি দখলে নিতে অপারেশনে যান। দু’দিন যুদ্ধ করে এসব গ্রাম মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আনা সম্ভব হয়। ওইদিন সুরমা নদী পথে আসা পাকাবাহিনীর একটি খাদ্যভর্তি জাহাজ আটক করেন তারা। বেটিরগাঁওয়ের যুদ্ধে পাক সেনাদের হাতে ৩০ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরের দিন মুক্তিযোদ্ধারা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে কান্দাগাঁও ও মহব্বতপুর ডিফেন্স নিলে পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ৭ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয় এবং অল্পের জন্য বেঁচে যান ক্যাপ্টেন হেলাল। ভোরে ক্যোপ্টন হেলালের নির্দেশে সেকশন কমান্ডার উজির মিয়ার সাথে তিনিসহ মুক্তিযোদ্ধা অজয় ঘোষ, অমরেন্দ্র কর, শ্যাম সুন্দর রায়, পরেশ চন্দ, মতিলালসহ কয়েকজন পাকসেনাদের বাঙ্কারে গ্রেনেট হামলা করে ১১জন পাক সেনাকে হত্যা করতে সক্ষম হন। এসময় দোয়ারার কাঁকন বিবি তাদের খবরা-খবর এনে দিতেন।

পরবর্তীতে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকসেনাদের দখল থেকে কৈতক হাসপাতাল মুক্ত, ডাবর ফেরী ধ্বংস, শ্রীপুর ও লক্ষীপুর, গন্ধবপুর, আলমপুর, মৈশাপুর দখলে নেয়া হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবর্ষনে ১২ জন রাজাকার নিহত হয়েছিল। পরদিন ঝাওয়া রেলওয়ে ও সড়ক ব্রীজ ধ্বংসে ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে আব্দুল হালীম, আমীর হোসেন, উজির মিয়া, মজিদ মিয়া, মানিক লাল নাথ, মতিলাল, সিকান্দর আলী, অজয় ঘোষ, পরেশ চন্দ, অমরেন্দ্র কর, শ্যাম সুন্দুরসহ মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশনে অংশ নেন। পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর টানা যুদ্ধে ছাতক হানাদার মুক্ত করা সম্ভব হয়। এসময় দুর্বিণটিলা, হাদাটিলা ও সিমেন্ট কারখানায় পাকসেনাদের ফেলে যাওয়া গোলাবারুদ ও রসদ খুঁজতে গিয়ে প্রতিটি বাংকারে ২-৩ জন করে ধর্ষিতা নারী পাওয়া যায়। তাদের উলঙ্গ শরীর সবস্থানেই নরপিচাশদের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তারা।

এছাড়া পাকবাহিনীর সাথে তাদের বটের খালে ২দিন, ভুরকীতে ৫দিন টানা যুদ্ধ চলে। পরে কর্নেল এমএজি ওসমানীর নির্দেশে গ্রামে-গ্রামে তল্লাসী চালিয়ে, গোলাবারুদ, গ্রেনেড, বেয়নেট উদ্ধার করে বিশ্বনাথের রামসুন্দর স্কুল মাঠে এনে জমা করেন। দেশ স্বাধীনের পর তার ব্যবহৃত এলএমজি-৫৭৮ অস্ত্রটি ক্যাপ্টেন হেলালের কাছে জমা দিয়ে পুনরায় ছাতক সিমেন্ট কারখানায় চাকুরিতে যোগ দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কানাইলাল দাস। মাষ্টার টেকনিশিয়ান হয়ে ২০০৭সালে তিনি অবসর গ্রহন করেন। বর্তমানে ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধা একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে অবস্থান করে রাজাকারদের বিচার দেখে মরতে চান রনাঙ্গনের এ সৈনিক।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: