সর্বশেষ আপডেট : ২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করুন: প্রধানমন্ত্রী

1483039195নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান বাংলাদেশে থাকবে না। এটা সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিশেষ করে ছোট শিশুদের জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। কোনোমতেই যেন কোমলমতি শিশুদের মনে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ গেঁথে না যায়, সে ব্যাপারে সবারই সজাগ থাকা প্রয়োজন। শিশুদের বোঝাতে হবে আমরা শান্তিপ্রিয় জাতি আমরা শান্তি চাই। সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের পথ কখনো ইসলামের পথ হতে পারে না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষার ফল গ্রহণকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, আমরা শান্তি চাই, সুন্দর ও উন্নত জীবন চাই। আর এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইসলামে যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই সে বিষয়গুলো সকলকে বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী সকল অভিভাবক, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই এগিয়ে যাবে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। সেটাই তো স্বাভাবিক। আর কোনো দেশে যদি সেই দেশের রাজাকার আলবদর এবং তাদের দোসররা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে তারা তো দেশকে এগোতে দেবে না। পিছিয়েই রাখবে। সেটাই ঘটেছিল বাংলাদেশের বেলায়। তারা এই দেশটাকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চেয়েছিল। তাদের সেই ষড়যন্ত্র এতদিনেও কিন্তু শেষ হয়নি। পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষা আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরীক্ষা ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি করছে। যে আত্মবিশ্বাস বোর্ডের উচ্চতর পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তারা (অভিভাবকেরা) পরীক্ষার ফল দেখেন কি না। পড়ালেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুব জরুরি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা আয়োজনের পেছনে আরেকটি কারণ ছিল। সেটি হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষার্থীদের মন থেকে বোর্ড পরীক্ষার ভীতি দূর করা। এই পরীক্ষা দেওয়ার পর ছোট বাচ্চারা যখন একটি সার্টিফিকেট পাচ্ছে তখন তার মনে হচ্ছে কিছু তো একটা করা হলো। এই সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীর সারাজীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকল এবং তার ভেতর একটি আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করবে। এর মাধ্যমে লেখাপড়ার প্রতি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের এক ধরনের বাড়তি সচেতনারও সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই পিইসি এবং জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না— এ বিষয়ে দেশে বিতর্কের অবতারণা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময়ে লোকজন এ ধরনের পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে ছিল না। তবে আমার মনে হয় জনগণকে এ ধরনের পরীক্ষা আয়োজনের কারণটা বোঝাতে হবে। আমি বুঝি না কেন তারা এর প্রয়োজনীয়তাটা বুঝতে পারছেন না।’ এর আগে পঞ্চম এবং ৮ম শ্রেণির জন্য দেশে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো এবং স্বল্পসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থীই এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান নিয়মে সব ছেলে-মেয়েই পরীক্ষা দেবে। সেখান থেকে যারা মেধাবী-দরিদ্র, তাদের বৃত্তির জন্য বেছে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, একটা ক্লাসে যদি ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকে সেখান থেকে ১০ জনকে বেছে নেওয়া হয় বৃত্তির জন্য। তারা আলাদাভাবে পড়াশোনা করবে, তাতে অন্যসব ছেলে-মেয়ে তো ভালো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সেখানেও তো ভালো ছেলে-মেয়ে থাকতে পারে, তারা কেন বঞ্চিত হবে? প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ যদি গড়তে হয় তাহলে সবচেয়ে আগে দরকার শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। তাছাড়া আজকের বিশ্বটা প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ব। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরও সেভাবে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তন একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু জনগণের কল্যাণের জন্য যেসব পদক্ষেপ আমরা হাতে নিচ্ছি সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে না কেন? সেটার সুফল জনগণ পাবে না কেন? ভালো কাজ যেগুলো জনগণের কল্যাণে আমরা করে গিয়েছিলাম দেখা গেল যে, এক এক করে সেসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন আমরা বৃদ্ধি করেছিলাম, সেটাও কমালো। এমনকি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমরা অর্জন করেছিলাম, সেটা কমিয়ে পুনরায় দেশে খাদ্য ঘাটতি করা হলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর ২০০১ সালে যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করি তখন আমাদের খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল ২৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য। আবার ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন দেখি বাংলাদেশ আবার ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির দেশ। যারা সরকারে ছিল তারা সব সময় লক্ষ্য রেখেছে আমদানি করলে ভালো ব্যবসা করতে পারবে, সেইদিকে। কৃষকদের খাদ্য উত্পাদনে যেসব সুযোগ সুবিধা আমরা দিয়েছিলাম সে সব একে একে বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে আবারো খাদ্য ঘাটতি দেখা দিল।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জেএসসি এবং জেডিসি (জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিইসি এবং ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর নিকট হস্তান্তর করেন। এ সময় শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: