সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কে টানাপড়েন

1482983889আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্র ও তার অন্যতম প্রধান মিত্র ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিদায় নেওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে যেতে চাইছেন। ওবামা প্রশাসন দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাইছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরাইলকে ফিলিস্তিন অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। আর ট্রাম্প ইসরাইলকে শক্ত থাকতে বলেছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জাতিসংঘের প্রস্তাবকে যুদ্ধ ঘোষণার সামিল বলে উল্লেখ করেছেন। এদিকে গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাব পাস হওয়ার পর ফিলিস্তিন অধিকৃত এলাকায় নতুন বসতি স্থাপন নিয়ে ভোটাভুটি স্থগিত করেছে ইসরাইল।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল বুধবার ফিলিস্তিন ও ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। তিনি দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের যে প্রচেষ্টা তা বিপজ্জনক পর্যায়ে আছে। জাতিসংঘও ইহুদিদের এই বসতি স্থাপন করে জমি দখল করার নিন্দা জানিয়েছে যা মার্কিন মূল্যাবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেরি বলেছেন, দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানই ইহুদি কিংবা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সমস্যার পক্ষপাতিত্বপূর্ণ সমাধান করতে চাই তাহলে ইসরাইলকে আমরা রক্ষা করতে পারবো না, আমাদের চোখের সামনেই দেশটি ধ্বংস হয়ে যাবে।

ওবামা প্রশাসন মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে চলা বিবাদ দূর করতে হবে। ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ও এ বিষয়ে একমত। ফলে প্রেসিডেন্ট ওবামা চাচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগেই শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। ফলস্বরূপ সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন বন্ধে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়। ইসরাইল এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ১২টি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে কাটছাট করার কথাও জানিয়েছে। ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকেও তলব করা হয়। বিশেষ করে প্রস্তাব পাস হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামাকে দায়ী করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রেসিডেন্ট ওবামাই যে কলকাঠি নেড়েছেন তার প্রমাণও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। আর ট্রাম্প ইসরাইলবিরোধী প্রস্তাব পাস হওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জাতিসংঘকে ‘বিনোদন ক্লাব’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ক্ষমতায় গেলে জাতিসংঘের অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে বলেও উল্লেখ করেছেন। গতকাল বুধবার ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় ইসরাইলকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, আমি আগামী মাসে শপথ নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শক্ত থাকুন। আমি এসব অমর্যাদা বরদাস্ত করবো না। শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প ইসরাইলের নীতিকে প্রাধান্য দেবেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগেই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

মার্কিন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল-২ কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি সমন্বিত একটি সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দলটি মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়ায় খুব একটা উন্নতি করতে পারিনি। কেরির ঘোষণা করা রূপরেখা আগামী ১৫ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের এক বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ৫ দিন পর ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিবেন। ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুকে বিচ্ছিন্ন করে ফিলিস্তিনের সঙ্গে একটি সমাধানে পৌঁছাতে চাপ প্রয়োগ করতেই ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ওই বৈঠকে তারা অংশ নিবে না।

নেতানিয়াহু অঙ্গীকার করেছেন, তার সরকারের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, ইসরাইলের এই উচ্চবাচ্য মূলত ট্রাম্পের কারণে। কারণ ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় আসলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমে নতুন বসতি স্থাপন শুরু করতে পারে। ফলে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

গত মঙ্গলবার মিসরের একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে ফিলিস্তিনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ফিলিস্তিনের কর্মকর্তা মার্কিন প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কারবি জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমে ৫শ’ নতুন বসতি স্থাপন নিয়ে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিতব্য ভোটাভুটি গতকাল স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত করার অনুরোধ করেন বলে জানা গেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: