সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভালোবাসার দুঃখপোকা

4085b02c63427937ba5fa1c2a9bc1314-24-copyদেলোয়ার হোসাইন::
কালো দু’চোখে তার জল-জোসনার মাখামাখি। এই চোখ দু’টি আমি চিনি। গোলাপের পাঁপড়ির মতো ঠোঁট আর সাদা দাঁতের স্বচ্ছ হাসি- তাও আমি চিনি। সেই কবে থেকে আমি শুধু তা-ই দেখছি, তবু আমার সাধ মিটেনা। আমি আমার দু’টি চোখ দিয়ে প্রতিদিন তাকে নতুন করে খুঁজে খুঁজে ফিরি। রাজ্যের ভাবনা নিয়ে সে বসত করে আমার মনের অন্তপুরে। তার স্বপ্নের সাথে স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আমার সখ্যতা হয়েছে জোসনার সাথে। সে অপার হয়ে মেলে দিয়েছে কল্পনার সিঁড়ি, আর আমি ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে হেঁটে যাই আগামীর পথে। তার ভালোবাসার যাত্রী ছাউনিতে সুখের ডানা ঝাপটাই অবেলায়, অবলিলায়…

সব্যসাচীর রঙিন প্রচ্ছদে তার ছাঁয়া পড়েছিল শৈল্পিক আঁচড়ে। এক বিকেলের মুগ্ধতায় আমি তাকে পেয়েছিলাম স্নিগ্ধ অবয়বে। সুখ, স্বপ্ন আর ভাবনার মোড়কে আমি তাকে সাজিয়ে তুলেছি ভালোবাসার চিত্রকল্পে। সে তানহা, ফারহানা আহসান তানহা। আমার ভালোবাসার আরাধনা। তার জন্য আমি আর আমার জন্য তাকে আপন করে পাওয়ার ব্যকুলতা…

এভাবে তাকে ভাবতে ভাবতে কেঁটে গেছে অনেক সকাল, দুপুর, রাত। এখন চোখ মেললেই আমি তাকে দেখতে পাই, হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারি। জোসনা প্লাবিত একটি রাত সে মুঠোভরে রেখেছিল আমার জন্য। জোসনাস্নানে আমরা ডুবে ছিলাম মধ্যরাত অবদি। তার উড়ো চুলে ছড়িয়ে ছিল মাতাল ঘ্রাণ। আমি তাতে হাত বুলিয়ে দিলাম। ইচ্ছে করলে আমি এখন তার মুখটাকেও ছুঁয়ে দেখতে পারি। অবশ্য মুখটা ছুঁয়ে দেখতে যে সাহসটুকু দরকার এই মুহুর্তে সেটা আমার নেই। এজন্য আমার কোন আফসোসও হয় না। কেননা- পাড়ার বন্ধুদের কাছে ‘ভীতু’ খেতাবি আমার একটা আলাদা ‘সুনাম’ও আছে !

আমি যখন এই কথাগুলো ভাবছিলাম, ঠিক সেই মুহুর্তে তানহা শান্ত ভাবে আমাকে বলল- আমার হাতটা ধরতে তোমার কি খুব বেশি লজ্জা করে ? না না লজ্জা করবে কেন ? সহসাই সে তার হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।

খেয়াপারের মাঝির মতো তানহা ভালোবাসার পাল উড়িয়েছে স্নিগ্ধ বাতাসে আর আমি তার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছি জোসনার মায়াবী আহ্বানে। কত লুটোপুটির সাক্ষী এই রাত, রাতের তারা…
ভালোবাসার প্রভাতফেরিতে সে আমার ডান হাতটি ধরেছিল শক্ত করে। তারপর হাতে হাত রেখে আমরা হেঁটেছি এসেছি অনেক দূর। অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আজ আমরা সুখের মিছিলে। তানহা সেদিন আমায় বলেছির- জানো মহিম, আমার ভালোবাসায় স্বার্থকতা আছে কিন্তু কোন রকম স্বার্থপরতা নেই। এইসব দিন-রাত্রি গুলো তোমার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে তা আমি জানি না, তবে আমাকে বদলে দিয়েছে তোমার ভালোবাসা। সে একটা কথা প্রায়ই আমাকে বলে- ভালোবেসে মরে যেতে আমার কোন আপত্তি নেই যদি ভালোবাসার মরণ না হয়। তানহার এই কথা গুলো শুনে আমি অবাক বিস্ময়ে তার মুখাবয়ে তাকিয়ে থাকি। আমার মনে হয়- তানহার মুখের দিকে তাকালে আমার চোখের দৃষ্টি আরও কয়েক গুন বেড়ে যায় । সহসা আমার দুই চোখ তার দুই চোখে আটকে যায়। মুহুর্তেই তানহার ঠোঁটের ফাঁক গলে একফালি রোদ ছড়িয়ে পড়ে…
সে আমার মন আকাশের সুখতারা। তার কড়া শাসনে আমাদের ভালোবাসার বয়স বাড়ছে পইপই করে। আমার ভুলো মন সে হিসাব কষে রাখেনি। নইলে আমরাও আজ ইতিহাস হয়ে যেতাম…

দৃশ্যপট গুলো ফিরিয়ে দেয় ঘুড়ি ওড়া দিনের আকাশ। মাছরাঙার ঠোঁটে শিকার আর গাংচিল উড়ে বেড়ায় আপন মনে। আপন মনে আমিও মাঝে মাঝে হারিয়ে যাই অন্য কোনখানে। যেখানে সাধ আর সাধ্য মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। আমি নিজেকে খুঁজে বেড়াই আমিত্বের অতল গভীরে। বুকটা খাঁ খাঁ করে। বুকের ভেতরে বেড়ে ওঠা স্বপ্নঘরে কালো মেঘের অমানিশা উড়ে বসে। উলঙ্গ অশ্রুজলে ভিজে যায় আমার স্বপ্নের মানচিত্র। জগতের সবকিছু কে খুব অচেনা লাগে। মনে হয় আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। না রোদ না জোসনা। সময় কে মলাট বন্দি করে, আমি কেবল ক্লান্ত স্বপ্নের দাঁড় টেনে নিয়ে যাই। তবু দিব্যি হাসি-খুশি একটা ছেলে আমি। সারাদিন ব্যস্ত থাকি বেঁচে থাকার তাগিদে। খাই-দাই, ঘুরি-ফিরি নাগরিক শহরে। অথচ বাহিরে থেকে দেখে ভিতরের অবস্থা কেউ বুঝতেই পারে না। যেমনটা বুঝতে পারে না তানহা। ও হলো স্বপ্ন সুখের বাসিন্দা আর আমি হলাম বাস্তবতার রাফখাতা। জীবনের পাতা জুড়ে কত শত ভুল বানানের ছড়াছড়ি। যার কোন ইয়ত্তা নেই। আমি কি পারবো তানহার জন্য মাধবীলতার ফুলসজ্জা সাজাতে ? মাধবীলতা না-কি পৃথিবীর একমাত্র ফুল- যার ঘ্রাণে মেয়েরা পাগল হয়ে যায় ! তানহার জন্য আমি মাধবীলতার ঘ্রাণ ছড়াতে পারবো কি-না জানি না। তবে আমার মন ও মোহের সবটুকু দখল করে আছে সে। তার জন্যই আমি শুদ্ধ হয়ে উঠি। তার জন্যই আমি বারবার আগুনের মুখে ছুটি…

কোন দৈব বানী শুনার জন্য আমি কান পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনি। দৈব ভাবে কেউ এসে আমাকে যদি বলতো- শুনো মহিম, আজ থেকে তোমার জীবনের সব অমানিশা কেঁটে গেছে। এখন শুধু তোমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন। তোমার মা আর না খেয়ে থাকবে না। তোমার বাবার মুখে হাসি ফুটানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বোনের বিয়ের জন্য কারো কাছে আর হাত পাততে হবেনা। তোমার ছোট ভাইটির পড়ালেখা আবার নতুন করে শুরু হবে। তোমাদের কাউকে মাথা নিচু করে আর চলতে হবেনা। শুরু হবে নতুন দিন, নতুন জীবন, নতুন গল্প, নতুন ইতিহাস…

‘আমি সবার আগে এই খবরটা তানহার কাছে পৌছে দিতাম’!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: