সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অপরূপ সৌন্দর্য্যমণ্ডিত শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া হ্রদ

vhaura-lakeনিজস্ব প্রতিবেদক::
এতো নির্জন-নির্মল শান্তির হাতছানি কার সাধ্য এড়িয়ে যায়? মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত ভাড়াউড়া হ্রদ (লেক), যা ফিনলে কোম্পানীর ভাড়াউড়া চা বাগানের ভেতরে অবস্থান বলে এই নাম। ভৌগলিক অবস্থান অনুসারে, লেকের দক্ষিণ-পূর্বে হোটেল গ্র্যান্ড সুলতানের সীমানা, পশ্চিমে মূল ভাড়াউড়া চা বাগান, উত্তরে রেললাইন ও পূর্বে লাউয়াছড়া উদ্যান। শ্রীমঙ্গল সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার হবে। পায়ে হেঁটে আসার যে জো নেই, তাতো বোঝাই যাচ্ছে।
চারদিকে লাল-নীল-সবুজের ক্যানভাস। দু’ধারে যতোদূর চোখ যায় শুধু চা বাগানের সবুজ সমারোহ। মাথাল পরে নিপুণ হাতে চা তুলছেন চা’র দেশের কন্যারা। কোনোদিকে তার তাকানো বারণ। হঠাৎ হঠাৎ মাথায় কাঠবোঝাই যুবা কিংবা গরু তাড়িয়ে কিশোর চলেছে আপন গাঁয়ে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, দৃষ্টিনন্দন কোনো চিত্রকর্মের চরিত্ররা প্রাণ পেয়েছে যেনো। তাতে আকাশ রয়েছে, রয়েছে মুখ টিপে হেসে চলে যাওয়া পেজা মেঘ, রোদের উঁকিঝুঁকি, দু’একটি পাখি আর ছড়ানো প্রশান্তির পরশ। গগনচুম্বী গাছেদের সঙ্গে সই পাতিয়ে এর মধ্য দিয়ে এক চিলতে জায়গা নিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে পথ। সব পথ নদীতে গিয়ে থামে।
ভূগোলবিদ্যা বলছে, হ্রদ (ইংরেজিতে লেক) হচ্ছে ভূ-বেষ্টিত লবণাক্ত বা মিষ্টি স্থির পানির বড়ো আকারের জলাশয়, হ্রদ উপসাগর বা ছোটো সাগরের মতো কোনো মহাসমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত নয়। তাই এতে জোয়ার-ভাটা হয় না। বিভিন্ন ভূ-তাত্ত্বিক কারণে মাটি নিচু হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে। স্তরীভূত শিলায় ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে অনেক বড়ো আকারের শিলাস্তর ফল্টের আকারে স্থানচ্যূত হলে কিংবা ভূমিধ্বসের ফলে পাহাড়ি নদীর গতিপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে।
সরাসরি বৃষ্টিপাত ও হ্রদে পতিত হওয়া নদী বা জলধারা হ্রদে পানি সরবরাহ করে। ভাড়াউড়া হ্রদও উল্লিখিত কোনো একটির কারণ। যে যানবাহনেই যাওয়া হোক না কেনো, মনে হবে এই উল্টে গেলাম! ঠিক তখনই বুঝতে হবে, হ্রদ সামনে এসে গেছে। একেবারে টিলার মাথায় বামে শিবঠাকুরের মন্দিরের কোল ঘেঁষে নেমে গেছে সরু গলি। বুনো লতা-পাতার গন্ধ গায়ে মেখে নেমে পড়ুন অনিন্দ্য সুন্দরলোকে। টিলার চূড়ায় দাঁড়িয়ে প্রায় দুই একরের হ্রদ পুরোটা দেখা যায় না। যারা কষ্ট করে শেষমাথা অব্দি যাবেন, তাদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে মিলবে আরও খানিকটা মিঠে পানির অভিনন্দন। চারদিকে চা পাতার অবোধ্য ইশারা।

পানিতে বাতাসের দোলায় ঝিরিঝিরি কারুময় ঢেউ। জলজন্মের স্মৃতি বুকে নিয়ে মেঘেরা ভীড় জমায় হ্রদের আয়নায়। বামদিক দিয়ে হাঁটা ধরলে চোখে পড়বে অসংখ্য ফৎনা তোলা ছিপের লাঠি। এখন বর্ষাকাল হওয়ায় এটুকু পানির দেখা মিলছে । অনেক দূর থেকে মানুষ আসেন এই ধারা দেখতে। আগে ধারার পানির শব্দে অনেকেই কাছে যেতে চাইতেন না। কিন্তু এখন আর পানি নেই’। কারণ কোথাও কোথাও ভরাট হয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাতে বসা এই লেক ও ধারা দেখার আগ্রহ থাকলেও বাহন না থাকা ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মেলায় অনেককেই তেঁতো অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এর চেয়ে কম সুন্দর হ্রদ আছে, যা শুধু ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বিশেষ দেখভালের কারণে জনপ্রিয় হয়ে গেছে। ভাড়াউড়া হ্রদের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হলে এখানে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: