সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আশকোনার আস্তানার ১৯ গ্রেনেড নিষ্ক্রিয়, মিলেছে বিস্ফোরকও

image-13576নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানা থেকে মোট ১৯টি গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আস্তানার ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গি আফিফ কাদেরী নাবিলের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

অভিযানের একদিন পর রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আফিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ওই আস্তানায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও সোয়াত এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট।

শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। পরদিন ভেতরে থাসা চারজন এবং তিনটি শিশুকে জীবিন উদ্ধারের ওপর জোর দেয় পুলিশ। এ কারণে বল প্রয়োগ করতে চায়নি পুলিশ। একাধিকার আহ্বান জানানোর পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই নারী তাদের সন্তানসহ পুলিশের কাছে ধরা দেন।

এরপর দুপুরে আরও একজন নারী চার বছরের একটি শিশুকে নিয়ে আত্মসমর্পণের ভান করে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা করে। শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তিনি নিজে নিহত হন। আহত হয় তার সঙ্গে থাকা শিশুটি।

আর আস্তানার ভেতরে থাকা কিশোর ‘জঙ্গি’ আফিফও নিহত হয় অভিযানে। তবে সে কীভাবে মারা গেছে, এটা এখনও নিশ্চিত নয়।

রবিবার সকালে পুলিশ বাসায় ঢুকে একটি কক্ষ থেকে পাঁচটি গ্রেনেড উদ্ধার করে। তবে আফিফ যে কক্ষে ছিল সেটিতে গ্যাসের কারণে প্রথমে ঢুকেননি কর্মকর্তারা। পরে ওই কক্ষ থেকে আরও বেশি বিস্ফোরক ও গ্রেনেড পাওয়া যায়।

দিনভর অভিযান শেষে সন্ধ্যায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম পুরো দিনের ঘটনা নিয়ে ব্রিফ করেন উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে। তিনি জানান, সূর্যভিলার যে কক্ষে আফিফ কাদেরীর মরদেহ পাওয়া গেছে সেই কক্ষে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একটি ভেস্টে ছয়টি গ্রেনেড, অপরটিতে চারটি গ্রেনেড পাওয়া গেছে। এছাড়া বাসাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আরও সাতটি গ্রেনেড। গতকাল পাওয়া যায় দুইটি গ্রেনেড। সবগুলোকেই নিস্ক্রিয় করেছে পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিট।

মনিরুল ইসলাম জানান, আফিফ কাদরীর কক্ষ থেকে ম্যাগাজিনসহ দুইটি পিস্তল এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ টাকা, ‍গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ল্যাপটপ পুড়িয়ে ফেলার আলামত পাওয়া গেছে।

মনিরুল জানান, গতকাল যে দুই নারী আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের তথ্যমতে এই বাসায় ১২ লাখ টাকা ছিল। মনে হচ্ছে সেই টাকা আফিফ কাদরী মারা যাওয়ার আগে পুড়িয়ে ফেলেছে।

এই বাসা থেকে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জানিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান মনিরুল।

বাসার ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে মনিরুল বলেন, ওই রুমে বোমার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে আফিফ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি আত্মঘাতী বোমায় তার প্রাণ গেছে, সেটি এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পর এ সম্পর্কে জানা যাবে।

অভিযানটি পুলিশের জন্য বড় একটি অধ্যায় উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, গতকালের অভিযান ছিল পুলিশের নতুন একটি অধ্যায়। একটি সফল নতুন অধ্যায় রচনা করেছে পুলিশ। পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ ও আলামত সংগ্রহ করছেন বলেও জানান মনিরুল।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: