সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হে পিতা তুমি ওদের ক্ষমা কর…

unnamedবড় দিন কি আসলেই বড় দিন । এটা কে বড় দিন কেন বলা হয় আজও জানা হল না । এটা কি খীষ্ট্রানদের সবচেয়ে বড় উ্যসব তাই বড় দিন । আমেরিকায় বড় দিন কে যতটা না ধমিয় তার চেয়ে এটাকে হলিডে হিসাব পালন করা হয় । আসলে পুরো ডিসেম্বরকে আমেরিকানরা হলিডে ক্রীসমাসের আমেজে কাটায় । ২৫ ডিসেম্বর যিশুর জন্মদিন, খ্রীষ্টানদের ঘরে ঘরে আনন্দ । দু হাজার বছর আগে ফিলিস্তিনের জেরুজালেম এর বেথেলহেম নামক গ্রামে কুমারী মাতা মেরীর গভে এক গোশালায় যিশু জন্ম গ্রহন করেছিলেন । আগে জানতাম খ্রীষ্টানরা হয়ত একটি গোত্রের আমেরিকায় আসার পর দেখতে পেলাম খ্রীষ্টানরা ৭/৮ জাতে বিভক্ত ,তাদের বাইবেল এক নয় । নানা রংয়ের মিশ্রনে তারা বিভক্ত , রাস্তার ডানে বামে চাচ আর চাচ । সবাই বাইবেল অনুসরন করে বলে কিন্তু তারা এক নয় । তারা বড় দিন পালন করে তবে তারা এক চাচে যায় না । পেন্টাকোষ্টাল,ক্যাথলিক,ব্যাপটিষ্ট, জাহোভা, সেভনস এনিভারস নানা নামে খ্রীষ্টিয় ধর্ম পালন করছে ।unnamed

যীশু যখন জন্ম গ্রহন করেন, তথান ইহুদিরা পরাধীন । ইহুদি রাজা হেরদ জ্যোতিষি মাধ্যমে জানতে পারেন আশ্চয সংবাদ । এক সদ্যজান শিশু ভবিষ্যতে হবে ফিলিস্তিনির রাজা । কিন্ত কোথায় জন্ম গ্রহন করেছে নবজাতক তা জানতে না পেরে হেরেদ সকল নবজাতকে হত্যা করেন । হায়েনা দের হাত থেকে নবজানতকে বাচাতে মেরী নবজাতক যিশুকে গোপনে কোলে করে পালিয়ে যান মিশরে । হেরদের মুত্যুর পর অবশেষে মা মেরী যিশুকে নিয়ে ফেরেন যিশুর জন্মস্তানে । পাপের পথ ত্যাগ করে আত্বমানবতার ও শান্তির কাফেলায় শামিল হওয়ায় আহবান যিশু ধারন করেন । ৩০ বছর বয়সে যিশু প্রকাশ্যে শুরু করেন শান্তির বানী প্রচারে । অসত্য , অন্যায় ,অন্ধকারের পথ পরিহার করে সত্য সুন্দরের পথে এগিয় আসার জন্য আহবান জানান সকলকে ।

শত্রুকে ভালবাসতে বলেন যিশু, তার আহবানে দলে দলে মানুষ সমবেত হতে থাকেন । বাড়তে থাকে তার অনুসারীরা ,ইহুদি পুরোহীনতার তার শত্রুতে পরিনত হন । সে সময় জেরুজালেমে ইহুদিরা খুব জমজমাট ভাবে পালন করত ধমীয় উ্যসব । মন্দিরে মন্দিরে বলি দেয়া হত পশু, অকাতরে পশু বলি যিশুকে ব্যাথিত করে তুলে । পরের বছর পুজার আগে পশু বিক্রেতার পশু বিক্রি করতে জড়ো হল জীব হত্যার কষ্ট অনুধাবন করে যিশু তাদের বাধা দেন পশু হত্যার । পরে পশু বিক্রতারা পশু বিক্রিতে বাধা প্রাপ্ত হয়ে নালিশ কের পুরোহীতদের কাছে । পুরোহীতরা ভিষন ক্ষীপ্ত ছিল যিশুর নানা আচরনে । পশু বিক্রেতারা ও পুরোহীতরা ইশ্বরদ্রোহী হিসাবে তাকে আখ্যায়িত করে তার বিচার দাবী করে রোমান সম্রাট পাইলটের কাছে । যীশুর বিশেষ আস্তাভাজন ১২ জন শীষ্যের মধ্যে জুডাসকে শত্রুরা হাত করে অথের লোভে রোমানদের হাতে ধরীয়ে দেয় যীশুকে । বিচারের নামে চলে প্রহসন, যীশুকে দেয়া হয় মৃত্যু দন্ড । ক্যালভারী পাহাড়ে ক্রুশকাঠে ঝুলিয়ে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেরেক মেরে নিমম ভাবে হত্যা করা হয় যীশুকে । মৃত্যু আগ পযন্ত যীশু ইশ্বরের কাছে প্রাথনা করেন -হে পিতা , তুমি এদের ক্ষমা কর । এরা জানেনা তারা কি করছে । শান্তি সম্মৃতি ও ভালবাসা শান্তি দুত যীশু শান্তির ধম প্রচার করেছেন । সারা বিশ্বের জনসংখ্য সাত শত কোটি তার এক তৃতীয়াংশ মানুষ আজো যীশুকে ধারন করে আছে । তার হত্যার ক্রশ কাঠকে তারা সিম্বলিক হিসাবে বহন করে থাকে । নানা শাখা উপশাখায় বিভক্ত খ্রীষ্টিও ধম আজ্ও যীশুর ব্যাপারে এক ও অভিন্ন । শান্তির বানী , সম্প্রীতির বানী প্রচারক বিশ্ব ব্যাপী যীশু অসম্ভব জনপ্রিয় ।unnamed-4

আমি যখন ছোট মালনীছড়া চা বাগানে ৬ টি মুসলিম পরিবার ১ টি খ্রীষ্টান পরিবার ও কয়েকশত হিন্দু পরিবার । আমাদের মাশিমা ( ধাত্রী ) তিনি খ্রীষ্টান । বড় দিনে আমাদের সবাইকে আমন্ত্রন জানাতেনে । উনার বাসায় গিয় পাটিশাপটা খেতাম । বড় দিন বলতে ওই মাশিমার বাসায় যাওযা ও খাওয়া বোঝাত। মাশিমার হাতে সারা বাগানের শত শত শিশু ভুশিষ্ট হত । নানা ধমের শিশুরা খ্রীষ্টান মাশিমার হাতে পৃথিবীর আলো দেখতো । মাশিমা ছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলস এর প্রতিকৃতি । একজন আদশবান খ্যীষ্টান মহিলা । আজ কত নানা রংয়ের খ্রীষ্ঠান দেখি । সারা বাগানের প্রসুতি মহিলাদের অবলম্বন চিলেন মাশিমা । তিনি যেমন লেবারের ঘরে যেতেন ঠিক তেমনি বাবুদের ঘরে যেতেন ঠিক তেমনি সাহেবের বাংলোয় যেতেন । তিনটি শ্রেনীর কাছেই তিনি ছিলেন এক অনন্য মাদার তেরেসা ।

আমেরিকায় খ্রীষ্টমাস অন্যতম প্রধান ধমিয় উৎসব পাশাপাশি হলিডে । আমরা যারা মুসলিম তারা এ হরিডেকে উপভোগ করি । আমেরিকানরা পুরো ডিসেম্বর মাসটা তাদের বাসা বাড়ী লাইট দিয়ে আলোকউজ্জল করে রাখে । আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের গিফ্ট দেই । আমার প্রতিবেশী ব্রাজিলিয়ান এভেলিন আমাদের ইদের সময় আমাদের নানান ‍উপহার দেয়, আমার বাচচারা এভেলিনকে খ্রীষ্টমাসে অনেক গিফট দেয় । প্রত্যেকের কাজের জায়গায় ক্রীসমাস পাটি হয় , নানান ডেকোরেশনে কাজের জায়গায় হলিডেকে সেলিব্রেট করে । চলে ভেকেশনের নানা আয়োজন । আমাদের দেশে ইদে নানা উ্যসবে চলে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগীতা আর আমেরিকায় চলে তার বিপরীত । আমেরিকায় হলিডে শপিং এ চলে নানান সেল , নাগরিকদের উ্যসব পালনের বাজেটের কথা মাথায় রেখে চলে দাম কমানোর প্রতিযোগীতা । ক্রীসমাসে যাতে সবাই সবাইকে উপহার দিতে পারে তাই সবগুলো দোকানে কম মুল্য জিনিস বিক্রি করা হয় । নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাতে থ্যানক্সগিভিং ডে থেকে শুরু করে ক্রীসমাস ডে ও তার পর নিউ ইয়ার সব মিলিয়ে পুরো দেড় মাস চলে আমেরিকার হলিডের আমেজ । স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় উ্যসসবের আমেজ বিরাজ করে । ২৪ ডিসেম্বর সন্ধাবেলার খ্রীষ্টমাসে ইভ ও ২৫ ডিসেম্বর খ্রীষ্টমাস ডে হল আমেরিকানদের জীবননে বছরের সবচেয়ে আনন্দের দিন । ক্রীসমাসের দিন যারা কাজ করে তাদের কে বোনাস হলিডে বোনাস দিয়ে থাকেন । অনেকে বোনাস পাবার আশায় কাজ করতে চায় , আবার অনেকে ভাল ভাবে উ্যসব পালনের জন্য মাস দুয়েক আগে থেকে ছুটির আবেদন করে।

প্রবাসী বাংলাদেশীরা ও খ্রীষ্টমাসের ছুটিতে বাচচাদের স্কুলের লম্বা ছুটিতে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ান । অনেকে বাংলাদেশ বা সৌদি আরব চলে যান । বাংলাদেশী পিতা মাতারা বাচছাদের আনন্দ দেবার জন্য স্কুল শিক্ষাথীদের নানা পাকে ঘুরতে নিয়ে যান । দুসপ্তাহের স্কুল ছুটিতে হলিডের আমেজে অনেক প্লান করে থাকেন । বড় দিন হলেও আমেরিকায় দিনটা খুব একটা বড় নয় , দিন বড় রাত লম্বা । আমার এ সময়টায় নিউইয়ক, মিশিগান,বাফেলো,শিকাগো, নিউজাসি অনেক শহরে বরফে ঢাকা । সেখানকার আমেরিকানদের খ্রীষ্টমাস অন্যরকম । খ্রীষ্টমাসের এ আনন্দ ঘন মুহুতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা আনন্দ খোজার চেষ্টা করেন নানান আঙ্গিকে ।

লেখক:: গোলাম সাদত জুয়েল
সাংবাদিক -কলামিষ্ট ( আমেরিকা )
সম্পাদক : প্রবাসের নিউজ
SADAT734@GMAIL.COM

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: