সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন : চলছে শেষ মুহুর্তের প্রচারণা

zill-porishod-election-bg20161126100055সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। জনপ্রতিনিধিদের ভোটেই নির্বাচিত হবে চেয়ারম্যানসহ ২১ জন। তার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্য।

প্রথমবারের মত সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হতে নির্ঘুম প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন ও বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক নুরুল হুদা মুকুট সহ প্রবাসী দুই প্রার্থী চঞ্চলা রাণী দাশ ও আহবাব মিয়া চৌধুরী।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা মুল লড়াই হবে আওমীলীগ বনাম আওয়ামীলীগের মধ্যে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় শীতের কুয়াশা ভেদ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ব্যক্তিগত, দলীয় ও ব্যবসায়ী পরিচয়ে চলছে ভোট প্রার্থনা। স্বশরীরে ভোটারদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে কুশল বিনিময়, মোবাইল ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভোট প্রার্থনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। সীমিতসংখ্যক ভোটার হওয়ায় মোবাইল ফোনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চলছে প্রচারণার ঝড়। প্রার্থীর ছবি দিয়ে রং-বেরংয়ের পোস্টার তৈরী করে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা ফেইসবুকে চালাচ্ছেন নিয়মিত প্রচারণা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষ ততই আগ্রহী উঠছেন।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক নুরুল হুদা মুকুটকে নিয়ে বিভক্ত দলটির নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। দুই প্রার্থীর পক্ষে শেষ মূহূর্তে জেলাজুড়ে উত্তেজনাও বিরাজ করেছে। ২১ ডিসেম্বর রাতে জেলার তাহিরপুরে ছুরিকাঘাতে একজন ইউপি সদস্য আহতও হয়েছেন। গুরুতর আহত এই ইউপি সদস্য বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২০১১ সালের ২০ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। এরপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর তাঁকে আবার জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন।

এদিকে নির্বাচনী মাঠে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমান, দলের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ আয়ুব বখত জগলুলসহ বেশ কিছু নেতা-কর্মী ব্যারিস্টার ইমনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নুরুল হুদা মুকুট ২০০১ সাল থেকে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দলীয় সমর্থন পাননি। জেলা কমিটির কয়েকজন সাবেক নেতা জানান, গত জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগে দুটি বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে আছেন জেলার দলীয় ৫ সাংসদেরা। ব্যারিস্টার ইমন আছেন সাংসদদের বলয়ে।

অন্যদিকে আছেন জেলা সভাপতি মতিউর রহমান, সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট ও মোঃ আয়ুব বখত জগলুলসহ অন্যরা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখত জগলুল প্রকাশ্যে প্রচারণায় রয়েছেন নুরুল হুদা মুকুটের পক্ষে। নুরুল হুদা মুকুট বলেছেন, দল একজনকে সমর্থন দিয়েছে, যেহেতু দলীয় প্রতিকে নির্বাচন হচ্ছে না তাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমাকে প্রার্থী করেছেন। তাঁরা আমার সঙ্গে আছেন। মুকুটের অভিযোগ, দলের স্থানীয় সাংসদেরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যারিস্টার ইমনের পক্ষে কাজ করছেন। ভোটারদের নানাভাবে প্রভাবিত করছেন।
বিশেষ করে সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নাম উল্লেখ করে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে তুলে ধরেন । নিজের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে মুকুট বলেন, বুধবার রাতে তাহিরপুরে যে ইউপি সদস্য ছুরিকাহত হয়েছেন, তিনিও তার পক্ষেই ছিলেন, পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রভাব খাটিয়ে তাকে ব্যারিস্টার ইমনের পক্ষে নিয়েছেন। ঐ ইউপি সদস্য (মতিউর রহমানকে) তাঁর কোন সমর্থক আঘাত করেনি বলে দাবি তাঁর। ব্যারিস্টার ইমন বলেছেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থী।

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বার বার যারা অবস্থান নিয়েছে এবং স্বাধীনতা বিরোধী হিসাবে চিহ্নিতরা আমার বিরুদ্ধে নেমেছে। ইনশাল্লাহ ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রায় দেবেন জনপ্রতিনিধিরা। তিনি বলেন, নির্বাচনী সহিংসতা ছড়ানোরও চেষ্টা হচ্ছে। বুধবার রাতে মতিউর রহমান নামের একজন ইউপি সদস্যকে তাহিরপুরে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ভীতি ছড়ানোর জন্য এরা এই কাজ করছে। জনপ্রতিনিধিরা এইসব আচরণের দাঁত ভাঙা জবাব দেবে। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রতিদ্বন্দ্বি ছাড়াও সাধারণ সদস্যপদে ৭৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ২০ জন প্রার্থী আছেন।

জেলায় মোট ভোটার ১ হাজার ২১৫ জন। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন দুজনেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক বলেন প্রতিবছরের ন্যায় ডিসেম্বর মাসের ২৪ তারিখ আমের তল গ্রামের বাড়িতে আমার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে শিরনি বিতরণ করা হয় এতে আলেম উলামা সহ বিভিন্ন রাজনীতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। বাবার শিরনি বিতরণ করলে যে আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয় তা আমার জানা নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: