সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রসঙ্গ: মাওলানা, আল্লামা, মুফতি-আজম

14509431_10154154555449753_1442233251_n-1তাইসির মাহমুদ:
লেখাটি কোন ব্যক্তি বিশেষের উদ্দেশ্যে নয়। কাউকে ছোট করাও লক্ষ্য নয়। মাওলানা, আল্লামা, মুফতিয়ে আজম ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার নিয়ে একটি আলোচনামাত্র। তবে নিজের অজান্তে কেউ মনকষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী হচ্ছে ‘কামিল’। চূড়ান্ত সনদপত্রেও ‘কামিল’ শব্দ লেখা থাকে। কোথাও মাওলানা, আল্লামা, মুফতি, মুফতি আজম এসব খেতাব লেখা থাকে না।

মাওলানা শব্দটির অর্থ আমাদের প্রভু, আমাদের নেতা ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আনতা মাওলানা’, অর্থাৎ তুমি (আল্লাহ) আমাদের প্রভু। দুরুদ পড়তে আমরা বলি ‘মাওলানা মুহাম্মদ’ অর্থাৎ আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাঃ)। এখন আমি মাদ্রাসায় পড়েছি, কামিল পাশ করেছি এ জন্য যদি নিজের নামের আগে মাওলানা শব্দটি জুড়ে দিই, তাহলে অর্থ কী দাঁড়ালো?

আজকাল অনেকেই বিজনেস কার্ড ছেপে নিজ দায়িত্বে নামের আগে মাওলানাসহ বড়বড় পদপদবী জুড়ে দিয়ে নিজেকে নেতা বলে প্রচারণা চালাতে থাকেন।
একইভাবে মুফতি, আল্লামা ইত্যাদি খেতাবও কোনো সার্টিফিকেট দ্বারা দেয়া হয়না। নিজ দায়িত্বে নিজেই সংযোজন করেন অথবা অন্যের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে এইসব পদপদবী দ্বারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন। একসময় বাংলাদেশে ওয়াজ মাহফিলে এসব খেতাবের বাহার দেখতাম। বক্তা যখন মাহফিলে আসতেন, তখন দশ মিনিট সময় ধরে চলতো বাহারী শ্লোগান- ‘হযরত, আল্লামা মুফতি কদমপুরীর আগমন- শুভেচ্ছার স্বাগতম’ (কারো নামের সাথে মিলে গেলে দুঃখিত)। এরকম অনেক ঘটনাও ঘটতে শুনেছি, মাইকে ভালোভাবে প্রশংসামুলক প্রচারণা না হওয়ায় বক্তা ওয়াজ না করে ফিরে গেছেন। তাছাড়া, অনেকেই আবার ওয়াজে আসার আগেই একটা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন যে, কীভাবে তাঁর পদবী ঘোষণা দিতে হবে।

যাক, “মুফতি আজম” শব্দটি সম্পর্কে দুটো কথা লিখতে চাই। আরবি অভিধান ঘেটে যা দেখলাম তার অর্থ হলো ‘মহা-ফতোয়াবিদ’ বা ‘মহান ফতোয়াদাতা ব্যক্তি বিশেষ’। । আ’জম শব্দটি ইসমে তাফজিল-এর সিগা। আহমদ, আফজাল এর ওজনে। আহমদ অর্থ সর্বোচ্চ প্রশংসিত, আফজাল শব্দের অর্থ সর্বোত্তম। এভাবেই আ’জম শব্দের অর্থ মহা বা সবচেয়ে বড়। ইমাম আবু হানিফাকে ইমাম আজম বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ সবচেয়ে বড় ইমাম। ওই সময়ের চার ইমামের মধ্যে তিনি জ্ঞানের দিক থেকে সবচেয়ে বড় ছিলেন। তাই তাকে ইমাম আজম বলা হয়। আর এখন পর্যন্ত তিনিই আজম বা মহান হিসেবেই আছেন। তাঁর চেয়ে কোনো বড় ইমাম বা ইসলামি স্কলার এখনও আসেননি। বিশ্বের সকল ইমামই তার শরয়ী সিদ্ধান্তবলী অনুসরণ করে আসছেন।
এখন যদি আমরা আমাদের আলেমসমাজের প্রত্যেকের নামের আগে মুফতি আজম সংয়োজন করে দিই তাহলে অবস্থা কী হবে? এটা কি ইমাম আবু আবু হানিফার প্রতি অবমাননা হয়ে যায় না।

এখন আমি কিছুদিন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে নিজের নামের আগে ভক্ত মুরিদান দিয়ে মুফতি আজম শব্দটি জুড়ে দিয়ে যদি তা প্রতিষ্ঠিত করে নিই, তাহলে মুফতি-ই-আজম ইমাম আবু হানিফা আর আমার পদবীর মধ্যে পার্থক্য কী?

সম্মান তো আল্লাহ তায়ালার কাছে। আমরা জানিনা তাঁর কাছে কোন মানুষটি সবচেয়ে সম্মানিত। একজন মানুষ রাস্তায় মুচির কাজ করে। সেও আল্লাহ তায়ালার কাছে সম্মানিত হতে পারে। আর আরো একজন আরবের বাদশা হয়েও আল্লাহ তায়ালার কাছে ঘৃনিত হতে পারেন। কে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত তা নিশ্চিত তরে আমরা বলতে পারবোনা।

তাই কারো নামের আগে পদ-পদবীর বাহার জুড়ে দিয়ে তাকে সমাজে জোরপূর্ব সম্মানিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়? আর যে ব্যক্তির নামের আগে এতসব পদপদবী জুড়ে দেয়া হচ্ছে, তিনিও নীরব থেকে তা সানন্দে হজম করতে পারেন না। তার উচিত হবে, যারা তার নামের আগে এসব পদপদবী দিয়ে তোষামোদী করছে তাদেরকে নিষেধ করা, এসব থেকে বিরত থাকতে বলা। কারণ রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সামনে প্রশংসা করে তার মুখে ধুলো নিক্ষেপ করো। কারণ সামনে প্রশংসা মানুষের মধ্যে অহংকার ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে ধ্বংস করতে সহযোগিতা করে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার প্রকাশ্য প্রশংসা করছে সে আমাকে ধংস করতে সহযোগিতা করছে। তার কাছ থেকে আমার দুরে থাকা উচিত।

সর্বশেষ বলতে চাই, পৃথিবীর সবেচেয়ে সম্মানিত মানুষটির নাম হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। নামাজে আমরা দুরুদে তার প্রতি সালাম প্রেরণ করতে গিয়ে বলি- ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা মুহাম্মদ’। অর্থাৎ অহ আল্লাহ, মুহাম্মদ এর উপর দুরুদ প্রেরণ করো। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষটির আগে কোনো পদপদবী ব্যবহার করিনা। তাহলে কি তার প্রতি অসম্মান হয়ে যায়না। না তিনি অসম্মানিত হননা। তাহলে আমি যার একটি ধুলিকণার সমতুল্য নয়, তার নামের আগে এতোগুলো পদের বাহার? এটা কি আমার জন্য লজ্জাকর না?

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ, লন্ডন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: