সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে সিরীয় নারীদের প্রতি আসক্ত মিশরীয় পুরুষেরা

164352_1আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার যুদ্ধের ক্ষিপ্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিয়ের জন্য সিরিয়ার উদ্বাস্তু নারীদের চাহিদাও বাড়ছে। কখনো কখনো তা স্বেচ্ছায়, আবার কখনো অনিচ্ছায়। মিশরও এর ব্যতিক্রম নয়।

২০১১ সালের পর থেকে সিরিয়ার নারী এবং মিশরীয় পুরুষদের মধ্যে বিয়ের বৃদ্ধির খবর অতিরঞ্জিত কিনা তা বিচার করা কঠিন কিন্তু তাদের নিয়ে অনন্ত মুখরোচক গল্পের কোন ঘাটতি নেই।

উম্মে আম্মার (৩০) এর স্বামী এক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তিনি বিধবা হয়ে যান। বর্তমান একজন ‘সিঙ্গেল’ উদ্বাস্তু হিসেবে মিশরের শরনার্থী শিবিরে বাস করছেন। তার মতো অনেক সিরীয় নারীকে বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী হিসেবে বিবেচনা করছেন মিশরের অনেক পুরুষ। এর অন্যতম কারণ ‘কম যৌতুক’ যেটি পুরুষ কর্তৃক যৌতুক হিসেবে স্ত্রীকে দিতে হয়। বিষয়টি মিশর ও সিরিয়ানদের মধ্যে কিছুটা বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে।

মিশরীয় পুরুষদের সাম্প্রতিক এই আগ্রহ সম্পর্কে আল মনিটরকে উম্মে আম্মার বলেন, ‘তাদের এই বিয়ের প্রস্তাব বরং হয়রানিমূলক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি কি বলতে পারি? একজন বৃদ্ধ মানুষ যার দাঁত প্রায় সবগুলো পড়ে গেছে; আমার কাছে যখন তিনি আমার নম্বর চান। তিনি একজন সিরীয় নববধূকে পেতে চান কারণ তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে সুখী নন।’

তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিনই তাকে এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি একটি কাজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখন অত্যন্ত জরুরি না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বলে তিনি জানান।

সিরিয়ার নারীদের স্ত্রী হিসেবে পেতে পুরুষেরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। তারেক আল-শেখ, যিনি মিশরে বসবাসকারী সিরীয়দের বৃহত্তম ফেসবুক গ্রুপের একজন পরিচালক।

তিনি আল মনিটরকে বলেন, ‘অনেক পুরুষ মনে করে এই ধরনের সাইট সিরিয়ার নারীদের কাছে পৌঁছানোর একটি ভালো উপায়।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সব সিরীয়দের জন্য একটি উপাদেয় হিসেবে কাজ করছে। বিয়ের দালালেরা এই গুজব ছড়াচ্ছে যে, একজন সিরীয় নারীকে বিয়ে করতে যৌতুক হিসেবে একজন মিশরীয়কে মাত্র ৫০০ মিশরীয় পাউন্ড খরচ হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘এতে সিরিয়ার নারীরা যেমন অসন্তুষ্ট এবং তেমনি সিরিয়ার পুরুষেরাও রাগান্বিত।’

কায়রোতে ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ’ (সিডও) কমিটির প্রধান লামিয়া লুতফি এই গুজবের উৎস নিয়ে আলোচনা করেন।

‘আমি সবসময় এটিকে (মিশর) একটা চমৎকার দেশ বলে দাবি করতাম যে এখানে কোনো (শরণার্থী) ক্যাম্প নেই। কিন্তু আসলে, সিরীয়রা যখন এখানে আসে তখন তাদের থাকার জায়গা ছিল না। তারা শহরের কিছু মসজিদে থাকত এবং মিশরের বিত্তশালীরা ১,০০০ মিশরীয় পাউন্ডের বিনিময়ে নারীদের বিয়ে করত এবং তাদের একটি অ্যাপার্টমেন্ট প্রদান করত।’ লুতফি আল মনিটর বলেন।

লুতফি জানান, যদিও মসজিদে থাকার এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু দালালেরা এখনো রয়ে গেছে।

আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, কিছু লোক নারীদের অনুমিত দুর্বলতাকে ব্যবহার করে থাকে। এখনো অনেক মানুষ ‘সিটার’ শব্দ ব্যবহার করেন যার অর্থ দুর্বল নারীদেরকে রক্ষা করা। যদিও অনেক দেশের শরণার্থী শিবিরে নারীরা হুমকির মুখে রয়েছে।

কিছু মিশরীয় সিরিয়ার নারীদের বয়স, মতাদর্শ ও ধর্ম বিবেচনায় বিয়ে করতে চায়।

মিশরের একজন পুরুষ যিনি সিরিয়ার ফেসবুক গ্রুপের অনুসারী। নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমার বয়স ৫৫ বছর। আমি একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি গাড়ির মালিক। আমি আমার মিশরীয় স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন আছি এবং একজন সিরিয়ার নারীকে সামাজিকভাবে বিয়ে করতে চাচ্ছি।’

মিশরে বসবাসকারী সিরীয় তরুনী হালা মোহাম্মদ (২০) আল মনিটরকে বলেন, ‘কিছু মানুষের ব্যবহারের কারণে আমি ভেবেছিলাম বিবাহ হচ্ছে এক ধরনের শোষণ পদ্ধতি এবং আমাদের দিকে তাদের তাকানোর ভঙ্গি এবং তাদের এসব কথার মাধ্যমে তারা খারাপ মনোবাসনা হাসিল করতে চায়। একারণে বিয়ের প্রস্তাবের পূর্বেই কিছু লোককে সরাসরি ছলনাকারী বলে মনে হয়’

তিনি আরো বলেন, ‘তা সত্ত্বেও, আমি কিছু সম্ভ্রান্ত লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি। আমি মনে করি না বিবাহ কিংবা বিবাহেরধারণা ভুল।’

লুতফি বলেন, ‘মিশর ও সিরিয়ার নারীরা ভিন্ন নয়। কিন্তু মিশরে সিরিয়ার নারীদের নতুন ধরনের জীবনযাপনের কারণে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো বিকশিত হতে পারে এবং এটা সত্য যে, তারা বিদেশি।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত সিরিয়ার নারীরা মিশরীয় নারীদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত। তারা তাদের অধিকার সম্পর্কেও বেশি সচেতন। সিরীয়রা তাদের দেশের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। কিন্তু তারা এখন মিশরে উদ্বাস্তু এবং তারা যেকোন মুহুর্তে বহিষ্কৃত হতে পারেন। অতএব, তাদের বিনয়ী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

সিরিয়ার নারীদের মিশরীয় পুরুষদের বিয়ে নিয়ে মিশরে বসবাসরত কিছু সিরীয়’র মধ্যে উদ্বেগ আছে। কিন্তু সবাই একই ধারণা পোষণ করে না।

সিরীয় উদ্বাস্তু নারী রাফা ফায়েজ আল মনিটর বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমি একজন মিসরীয় ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তিনি সবসময় আমার জন্য দুঃখ অনুভব করতেন। তার এই প্রতিক্রিয়া আমাকে ভয় পাইয়ে দিত। কিন্তু তাকে বিয়ের পর … আমরা আনন্দের সাথে বসবাস করছি।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: