সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বাধীন দেশের প্রথম ভোর আজ

12নিউজ ডেস্ক:ভোরের সূর্যটা আজ তেতে না উঠলেও লাল আভা ছিলো চোখ ধাঁধানো। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। আর আজকের ভোরটা ছিলো মুক্ত, ছিলো স্বাধীন। দেশমাতৃকাকে শক্রুমুক্ত করতে কী পরিমাণ ত্যাগ-তিতীক্ষা, রক্ত, অপমান আর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তা কল্পনা করা অসম্ভব। স্বাধীন দেশের প্রথম ভোরের কুয়াশাটাও যেন বারে বারে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বিগত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কথা।

ডিসেম্বরের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধ যেন নতুন মোড় নেয়। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ৯ ডিসেম্বর দেয় ভুটান। এই দিন এক বার্তায় গভর্নর মালিক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছে দেন, “সামরিক পরিস্থিতি নাজুক। শত্রু (মুক্তিবাহিনী) যেকোনো দিন ঢাকার উপকণ্ঠে পৌঁছে যাবে।”

এরপর ১০ ডিসেম্বর গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ও মুখ্য সচিব পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসার মুজাফফর হোসেন ক্যান্টনমেন্টে জেনারেল নিয়াজির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে ঢাকায় জাতিসংঘের প্রতিনিধির কাছে ‘আত্মসমর্পণের’ আবেদন হস্তান্তর করেন।

ড. জাফর ইকবাল রচিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, এতে (‘আত্মসমর্পণের’ আবেদনপত্রে) অবশ্য কৌশলে আত্মসমর্পণ শব্দটি বাদ দিয়ে অস্ত্রসংবরণ কথাটি ব্যবহার করা হয়। আবেদনে আরো লেখা ছিল, ‘যেহেতু সংকটের উদ্ভব হয়েছে রাজনৈতিক কারণে, তাই রাজনৈতিক সমাধান দ্বারা এর নিরসন হতে হবে। আমি তাই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দ্বারা অধিকারপ্রাপ্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ঢাকায় সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাই। আমি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানাই।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের শীর্ষ সামরিক প্রতিনিধিরা ইচ্ছার বশে আত্মসমর্পণ করেনি। তারা বাধ্য হয়েছিলেন। প্রথমত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যাকে অস্থিরতা হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। আর সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়। যেখানে ভেটো দেয় রাশিয়া।, দ্বিতীয় মিত্র বাহিনী পাক হানাদার বাহিনীর সকল শক্তি ধ্বংস করে ফেলে। সবশেষ, সামরিক বাহিনীর রসদ ও জ্বালানি বিনষ্ট হয় ভারতীয় বিমান হামলায়। পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় জ্বালানির একমাত্র ডিপো ছিলো নারায়ণগঞ্জে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা এই ডিপো জ্বালিয়ে দেয়। আর এতেই ঘাবড়ে যায় গোটা পাক সামরিক গোষ্ঠী। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সেনারা ঘেরাও করে ঢাকা। আত্মসমর্পণ করার জন্য বিমান থেকে লিফলেট বিলি করা হয়।

অবশেষে নিয়াজীর অনুরোধে ১৫ই ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভারতীয় বিমান আক্রমণ স্থগিত রাখা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজী হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতার সামনে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করে। এসময় প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে। তবুও মুক্তির স্বাদ যেন পাওয়া না পাওয়া দোলাচলে দুলতে থাকে। শীতের কুয়াশার মতো তীব্র শৈত্য মনে হতে থাকে স্বাধীনতা। কারণ ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও সারাদেশে সকল পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণ করাতে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত লেগে যায়। অবশেষে সূর্যের আলো কড়া হতে থাকে, মিষ্টি রোদ পোহানোর মতো, স্বাধীনতা-বিজয় আজ মধুর, গর্বের, অহঙ্কারের।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: