সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অগ্নিকান্ড নিয়ে সন্দেহ আর রহস্যের ধুম্রজাল…!

1-daily-sylhet-0-1হাসান মো.শামীম::
বিভাগীয় শহর সিলেটের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজার। শুধুমাত্র শপিংয়ের জন্য এই এলাকায় প্রতিদিন আগমন ঘটে প্রায় ১০ হাজার মানুষের। এছাড়াও এখানে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, অফিস এমনকি বাসা বাড়িও। এরকম একটি জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায়শই আগুন লাগার ব্যাপারটি ভাবিয়ে তুলছে সাধারণ মানুষকে। সর্বগ্রাসী আগুন এক নিমিষেই গত ১৩ ডিসেম্বর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ। জিন্দাবাজার মুক্তিযোদ্ধা গলিতে অবস্থিত ব্যস্ত ছাপাখানা এলাকায় আগুন লেগে ধ্বংস হয়ে গেছে ১০টি প্রেস মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ বই পুস্তক। অনেক ঘিঞ্জি এলাকা হলেও মুক্তিযোদ্ধা গলিতে এর আগে কখনো ছোট খাট আগুন লাগার ও ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ করে এত ভয়ংকর অগ্নিকান্ডের ব্যাপারটিকে রহস্যজনক বলে আখ্যায়িত করছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আগুন লাগানো হতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করছেন তারা।

কিছুদিন আগে সন্ধ্যা রাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে কাকলি শপিং সেন্টারে। পরে আবিস্কার হয় সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরো থেকেই আগুন লাগে ওই মার্কেটে। সে সময় মানুষজন আতংকিত হলেও তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ওই দিনের অগ্নিকান্ডে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা গলিতে আগুন লাগার কারণ নিয়ে আছে ধোঁয়াশা। প্রথম দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারনা করা হলেও এখন ও পর্যন্ত এ সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য দিতে পারেননি কেউই। উল্টো অনেক ব্যবসায়ী ধারনা করছেন ইচ্চাকৃতভাবেই লাগানো হয়েছে আগুন। তবে কে বা কারা লাগিয়েছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য না দিতে পারলেও অভিযোগের তীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দিকেই! যার মূলে রয়েছে জমি ও রাস্তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দীর্ঘ দিনের বিরোধ।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা গলির ব্যবসায়ী মেহেদি কাবুল ডেইলি সিলেটকে জানান, মুদ্রন শিল্পে কাজ করা অনেক মানুষের জন্য এটা অনেক বড় আঘাত। আগুন লাগার দিন ভোর ছয় টা পর্যন্ত কাজ হয়েছে বিভিন্ন প্রেসে। এরপর বিশ্রামের জন্য প্রেস বন্ধ করে সবাই বাসা বাড়িতে চলে যায়। সে সময় যদি আগুন লাগত তাহলে হয়তো ধারনা করা যেত প্রেস মেশিন চালু থাকায় শর্ট সার্কিটের কারনে আগুন লেগেছে। কিন্তু প্রেসের শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর জনমানবহীন গলিতে আগুন লাগার ব্যাপারটি সন্দেহ জনক। তিনি বলেন, যদি প্রেসের মানুষ থাকা অবস্থায় আগুন লাগত তাহলে শতাধিক মানুষের প্রাণহানীর আশংকা থাকতো। যে বা যারা এই আগুন লাগানোর কাজ করেছে তারা হয়ত শুধু সম্পদের ক্ষতি টাই চেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাথে বিরোধ প্রসংগে তিনি বলেন, তারা রাস্তাসহ মুক্তিযোদ্ধা গলির মুখের কিছু জমির দাবি করে আসছেন অনেক দিন থেকেই। যে কারনে ব্যবসায়ী দের সাথে বিরোধের সুত্রপাত হওয়ায় এখনো পর্যন্ত গলির রাস্তা পাকা হয়নি, বড়ও হয়নি! কামরান সাহেব মেয়র থাকাকালীন সময়ে এই রাস্তা করার জন্য টেন্ডার আহবান করলেও কিছু মানুষের অঙুলি হেলনে তা আর সম্পন্ন হয়নি। যে কারনে জিন্দাবাজারের বুকে অবস্থিত হয়েও প্রকাশনা শিল্পের এই মার্কেটের রাস্তা আজো গ্রামের মেঠো পথের মত। আজ যদি বড় পাকা রাস্তা থাকত তাহলে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পারত খুব সহজেই। কিন্তু রাস্তা ছোট থাকায় দমকল বাহিনীর গাড়ি ঢুকতে না পারায় পুরো জায়গাটাই আগুনে পুড়ে গেছে।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস এর একটি রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো তা দেওয়া হয়নি। মেহেদি কাবুল জানান এই রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তি করনীয় সম্পর্কে একটা পদক্ষেপ নিতে পারবেন তারা। তিনি বলেন, এ সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি ঘটন করা হলে ভাল হয়। তবে মামলা করা সম্পর্কে তিনি বলেন, সবাই মামলা করার কথা বলছেন কিন্তু কার বিরুদ্ধে করব,আমাদের হাতে তো কোন তথ্য প্রমান তো নেই।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা গলির প্রেস ব্যবসায়ীদের কথা বলে জানা গেছে তাদের কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বীমা করা নেই, যেহেতু বীমা নেই, সেহেতু আগুন লাগার জন্য কোন ক্ষতিপূরণও তারা পাচ্ছেন না। পরিবার নিয়ে এখন তাদের অনিশ্চিত জীবনের দিকে পা বাড়াতে হচ্ছে। এ ঘটনার আশু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি দের সাব্যস্ত করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার আহবান জানান তারা। ব্যবসায়ীরা বলেন যদি পিক আওয়ারে এই দুর্ঘটনা ঘটত তাহলে অনেক মানুষই বিপদে পড়তে পারতেন, প্রশাসনের এটা ভেবে সামনে এগুনো উচিত!

এ ব্যাপারে পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা ডেইলি সিলেটকে বলেন, আগুন লাগার ব্যাপারটি রহস্য জনক, ব্যবসায়ীরা না করলে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে এ ব্যাপারে মামলা করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: