সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ বিপৎসীমার উপর অতিক্রম করছে

full_1883157890_1481731966আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সাইম উল্লাহ স্যার ছিলেন একজন আদর্শবান শিক্ষক ও সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ যিনি এখন অবসরে। স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। স্যার আমাদের ক্লাস নিতেন অনেকটা পারিবারিক পরিবেশে, আমরা খুবই আনন্দ উপভোগ করতাম যা আজও মনে পড়ে।

ছাত্রজীবনে আমরা প্রায়ই একটু একটু কনফিউজ থাকতাম আমাদের দ্বারা মীমাংসিত প্রশ্নোত্তর সমাধানে। আমাদের উপরের ক্লাসের এক ছাত্র-বড় ভাই ‘সময়ের মূল্য, রচনা লিখতে গিয়ে কি লিখেছিলেন সাইম উল্লাহ স্যার আমাদের পড়ে শুনিয়েছিলেন -বলেছিলেন এই গাঁধা উত্তরপত্রে লিখেছে -সময়ের অভাবে সে পড়তে পারেনি তাই আজ সময়ের মূল্য রচনা লিখতে গিয়ে কি লিখবে খুঁজে পাচ্ছে না!

স্যার বলেছিলেন-এই গাঁধাতো ভেরি ক্লেভার গাঁধা। স্যার বললেন আরেক গাঁধা পরীক্ষার পেপারে একটি অংকের সমাধান করতে গিয়ে প্রথমে যে সমাধান করেছিল তা ছিল সঠিক, আত্মবিশ্বাসের অভাবে সেটাকে কেটে ক্রস দিয়ে পরে যে সমাধান করেছে তা ছিল -সম্পূর্ণ ভুল।

স্যার বললেন ‘গাধায় লিখলো তে কাটলো কেন’? আমাদের সমাজে এই ধরণের ক্লেভার গাধা আর কনফিউজ লোকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাদের কাজ-ই হচ্ছে অনুমানের উপর ভর দিয়ে কান্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলা এবং মানুষকে কনফিউজ করা।

অজ্ঞতা হচ্ছে অন্ধকারের সামিল। আত্মবিশ্বাসের অভাবে বাতাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একে অন্যের সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ি। ঘটনার পিছনের ঘটনা বিচার বিশ্লেষণ না করে আবেগের বর্ষবর্তী হয়ে যা মনে করি দায়িত্ব নিয়ে তা-ই উপস্থাপন করি। ভাবি না আমাদের দ্বারা উপস্থাপিত তত্ব ভিত্তিহীন উপাত্ব সংবাদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার অনুপস্তিতিতে আপনাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে, সেটি হতেই পারে। আমরা কেউ তো আর আলোচনা সমালোচনার উর্ধ্বে নই। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কেউ যদি আপনাকে নিয়ে হিংসাত্মক মনোভাব প্রকাশ করে, কঠিন জটিল অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা করে এটার মানে কি? মানে হলো আপনি সামনের দিকে ছুটছেন সকল বাঁধা অতিক্রম করে।

মানুষরুপি ঐসব কাপুরুষ ভেড়া ছাগলদের সেই সৎ সাহস নেই যে আপনাকে সরাসরি মোকাবেলা করবে। তাই আপনার অনুপস্থিতিতে সমালোচনা তাদের নেগেটিভ চরিত্রেরই খোরাক! হতাশ হওয়ার কিচ্ছুই নেই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে জীবনের সফলতা।

আমার পূর্বের একটি আর্টিকেল শিরোনাম ছিল ‘আচার আচরণে নীতি নৈতিকতায় আমরা কি সামনে এগুচ্ছি’? সেখানে হিংসা নিয়ে একটু আলোচনা করেছিলাম, তখন ভাবিনি সমাজে হিংসা এতটা বিপদ সীমার উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। আজ আবারও তার পুনরাবৃত্তি করছি। মানুষ কেন হিংসুক হয়? বা কেন হিংসা করে, একটু আলোচনা করতে চাই যা হয়ত মানুষরূপি সেই সব সব ভেড়া ছাগলদের একটু উপকারে আসতে পারে।

হিংসা আর চুল্কানি রোগ অনেকটা সমানই। যেমন ধরেন বেগুন ও ইলিশ মাছ দেখলে বা খেলে অনেকেরই চুলকানি শুরু হয়ে যায়। আবার সমাজে মানুষরুপি কিছু ভেড়া ছাগলের দল আছে যারা অন্যের অর্জন সাফল্য দেখলে বুঝে না বুঝে লাইন ধরে ভেড়া ছাগলের মত। অতঃপর বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তাদের হিংসাত্মক আহাম্মকি আচরণের। হিংসুকের লক্ষণ তিনটি -পিছনে গীবত করা, সামনা সামনি তোষামোদ করা আর অন্যের বিপদে আনন্দিত হওয়া।

আপনারা হয়ত লক্ষ্য করেছেন কিনা জানিনা। নিজেকে সর্বক্ষেত্রে প্রথম স্থানে দেখতে চাই এটা হচ্ছে মানুষের একটা সহজাত প্রবণতা। মানুষ যখনি ঐ কাঙ্ক্ষিত প্রথম স্থানে নিজেকে দেখতে না পায় অন্য কাউকে দেখে তখনি মানুষের মধ্যে একটা জেদ কাজ করে। যতক্ষণ ঐ জেদটা মানুষ চেপে রাখতে পারে ততক্ষণ সেটা জেদ। আর যখন সেটা প্রকাশ পেয়ে যায় তখনি সেটা হিংসায় পরিণত হয়- যা প্রায়ই চোখে পড়ছে।

ইসলাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান সীমিত নিজেকে বড়ই অজ্ঞ মনে হয়। তবে যে কোনো অপব্যাখ্যা, অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার, অসামঞ্জস্য অনিয়ম আমাকে তাড়া করে কথা বলতে। হিংসা নিয়ে কথা বলছিলাম -হিংসা হল মানুষের খারাপ গুণগুলোর অন্যতম একটি। ইসলামে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারীকে খুবই নিকৃষ্ট চোখে দেখা হয়েছে। হিংসা মানুষকে শুধুমাত্র হতাশাগ্রস্ত করে না, বরং হিংসুক মানুষ তার জীবনে কখনই কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছতে পারে না। হিংসুকরা সব সময় সকল জিনিসের অধিকারী হতে চায়, তাদের একই চেষ্টাই থাকে যে, অন্যের যা আছে তার চেয়ে তার নিজেরটা ভাল হওয়া চাই। হিংসুক ব্যক্তি সমাজের অন্যান্য সন্মানিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিত্বকে হেয় করার চেষ্টা করে। কেননা তার দৃষ্টিতে সে একাই সমাজে সন্মানিত ব্যক্তি, অন্যরা নগন্য।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে হিংসুক ব্যক্তি অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে সে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেননা শুরুতেই সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। হিংসা দূর না হওয়া পর্যন্ত এটাই তার জন্য স্থায়ী শাস্তি সে অশান্তির মধ্যে সময় অতিবাহিত করে। তার চেহারা সর্বদা মলিন থাকে। অন্যের ক্ষতি করার চক্রান্তে ও ষড়যন্ত্রে সে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। প্রতিপক্ষের ভয়ে সে সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। একটা উদাহরণ দিয়ে আপনাদের বলি -ঘুণ পোকা যেমন কাঁচা বাঁশকে ভিতর থেকে খুরে খুরে খায়, হিংসুক ব্যক্তির অন্তর তেমনি হিংসার আগুন একইভাবে খুরে খুরে খায়। এক সময় সে ধ্বংস হয়ে যায় যেভাবে ঘুণে ধরা বাঁশ হঠাৎ ভেঙ্গে পড়ে।

দেখেন, দোষাদোষী না করে সমস্যা সমাধানে নিজ থেকে আন্তরিক হতে হবে। মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে মানবীয় দোষ-ত্রুটির অন্যতম হিংসা যে কোনো ভাবে জায়গা করে নিতে পারে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারো মাঝে এমন ত্রুটি থাকলে আমাদের চেষ্টা করতে হবে তা দ্রুত শুধরে নেওয়া। যে সব কারণে এমন বদঅভ্যাস আমাদের মনে জায়গা করে নিতে পারে তা থেকে মাইল দূরে থাকা উত্তম। হিংসুক বা হিংসা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি না স্রষ্টার দৃষ্টিতে ভাল না সৃষ্টির দৃষ্টিতে ভালো! আমাদের মধ্যে যদি এমন খারাপ গুণ বিদ্যমান না থাকে তাহলে তো -গুড নিউজ!

আল্লাহতায়ালা দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং এই দোয়া করা উচিৎ যে, হে আল্লাহ আপনি আমাকে এমন ধরণের ত্রুটি হতে সদা রক্ষা করো এবং আমাকে তওফিক দিন সঠিক জ্ঞানার্জনের। আমাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে অন্যায়-অবিচার হানাহানি-রক্তপাত অশান্তিতে পরিপূর্ণ। এর পেছনে অনেক ধরনের কারণ আছে তবে বিশেষ যে কারণটি সকল অশান্তির মূল তা হলো আমাদের দ্বিমুখী স্বভাব।

চোরকে বলি চুরি কর আর মালিককে বলছি স্বজাগ থাকো। গান আমরা সবাই কম বেশি পছন্দ করি শুনি কিন্তু গানের কথা মালা কি আমরা মনোযোগ দিয়ে উপলব্ধি করি? প্রায়ই করি না।

বাউল শিল্পী গান লিখেছেন ‘লাগাইয়া পিরিতের ডুরি আগলাত তাকিয়ে টানে, আমার বন্দে মহা জাদু জানে’! এই ধরণের শুভাকাঙ্কী বা বন্ধুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যাদের কাজ-ই হচ্ছে আগলাত থাকিয়া টানা। আপনার আসে পাশে হিংসুক শুভাকাঙ্খীদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে আপনার মঙ্গল নিহিত। নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ন্যায়-নীতিকে অবজ্ঞা করে আল্লাহর প্রদত্ত ঈমান আমলকে বিসর্জন দিয়ে আমরা নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছি নিজেদের জন্য একটি ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থা।

মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের দ্বারা সৃষ্ট জঞ্জাল নিয়ে আমাদের হতাশা আর গ্লানির শেষ নেই। আবার তা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের বুদ্বিজীবী স্বভাব প্রায়ই প্রতিবন্ধক হয়ে কাজ করে!

রাজনীতির মধ্যে পলিটিক্স ডুকে গেছে এটা হচ্ছে গ্রামের এক সহজ সরল মানুষের সরলোক্তি। যদিও বাক্যটি তেমন অর্থ বহন করে না। কিন্তু ঐ সহজ সরল ভদ্রলোক যা বুঝাইতে চাইছেন তা হলো রাজনীতিতে- আর সুস্থ ধারা নেই। রাজনীতিবিদের নেই নীতি নৈতিকতা দেশ প্রেম ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। দেখেন শুধু শুধু রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করা ঠিক হবে না সমাজের সকল স্তরে একটা খাই খাই অবস্থা। হাল ছাড়লে চলবে না অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

সমাজের প্রতিটি স্তরে অন্যায় অনিয়ম আকাশচুম্বী। দুইটি গ্রূপ কাজ করছে -একটি ন্যায়, নীতি, নৈতিকতাকে সামনে রেখে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাচ্ছে। আর অন্যটি নিজেদের কল্যাণে চোর, ডাকাত, খুনি চিহ্নিত অপরাধীদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সমাজে উপস্থাপন করার প্রয়াসে ব্যস্ত- ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/ তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে’। এই উপলব্ধির জন্যও একাডেমিক ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই। আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই সর্বাবস্থায় হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সুন্দর মন মানসিকতায় নিয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।

অনানুষ্ঠানিক অগোছালো আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটাতে হবে। ইচ্ছে ছিল অতি চমৎকারভাবে হিংসা ও হিংসাত্মক আচরণ যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং এর থেকে উত্তরণ প্রাসঙ্গিক আলোচনা করতে। এ চেষ্টা ও স্বাদ দুটোই ছিল কিন্তু স্বাধ্য না থাকায় সেভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি, যা অনেকটা ‘রাজনীতির মধ্যে পলিটিক্স ডুকে গেছে গ্রামের সেই সহজ সরল ভদ্রলোকের সরলোক্তির মত’। ঐ ভদ্রলোকের মত আমিও সমস্যা উপলব্ধি করতে পেরেছি কিন্তু গুছিয়ে বলতে পারিনি আপনাদের তরে। আশা করছি প্রিয় পাঠকরা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং নিজ থেকে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করবেন।

নজরুল ইসলাম
ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস লন্ডন,
মেম্বার দি ন্যাশনাল অটিষ্টিক সোসাইটি ইউনাটেড কিংডম।
আজীবন সদস্য বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনl

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: