সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২০ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিজয়ের পতাকা নিয়ে গোলাপগঞ্জে বি-বাড়ীয়ার হিফজুল

unnamed-2জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ:
বিজয়ের পতাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ পৌর সদরে দেখা যায় ছিপছিপে গড়নের এক যুবক। উত্তরের হিমবাতাসে পতপত করে উড়ছিল বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা ৪/৫টি পতাকা। চোখের পলক ফেলতেই অনুভূত হলো, লাখো শহীদের রক্তঝরা বিজয়ের দিন ঘনিয়ে এসেছে। আর মাত্র একদিন পরই ১৬ ডিসেম্বর। ব্যস্ত জীবনে চলার পথেই যেনো মিললো বিজয় দিবসের শিহরণ। বোঝা গেলো, রক্ত দিয়ে কেনা লাল সবুজের পতাকা দেখে এভাবেই হয়তো অনেক পথিকের মনে বিজয় আনন্দের ঝড় বয়ে যায়। আর সেই অনুভূতিতেই পথের মাঝে দাঁড়িয়ে পতাকা কেনেন অনেকে। কেউ আবার দাঁড়িয়ে থেকে উড়ন্ত পতাকার দিকে তাকিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ খোঁজেন। ভাবনাটি অনেকাংশেই মিলে গেলো মৌসুমী পতাকা বিক্রেতা হিফজুল্লার সঙ্গে কথা বলে। তার ভাষ্যমতে, শূন্যে পতাকা উড়তে দেখে অনেকের মনই উতলা হয়ে ওঠে। বিজয় দিবসের আনন্দে তাই অনেকে সেই পতাকা কিনে বাড়ির ছাদ, বেলকনি, গাড়ি, রিকশা ও মোটারসাইকেলের সামনে ওড়াতে চান। এই সুবাদে তার মতো মৌসুমী পতাকা বিক্রেতাদের বাড়তি উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায় লাল-সবুজের পতাকা। সবার মনে পতাকা কিনে ওড়ানোর সাধ জাগাতে তাই ব্যাগে নয়, বাঁশের মধ্যে বেঁধে তা ফেরি করা হয়। তারা দূর- দূরান্ত থেকেও আসে বলে জানায় হিফজুল্লাহ।

বাড়ি কোথায় প্রশ্ন করতেই হিফজুল্লাহ বলে, সে এই জেলার অধিবাসী নয়। তার বাড়ি বি-বাড়ীয়া জেলায়। বিজয়নগর থানার ইসলামপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে সে।পেশায় কৃষক।পরিবারে মাকে নিয়ে তার সংসার। ছোট দুই ভাইও রয়েছে তার। ছোট বেলা থেকেই সে কৃষি কাজ করে । দরিদ্রতার কারনে লেখাপড়া টিকমত করতে পারেনি হিফজুল্লাহ।

এই অল্প বয়সে তাকে নিতে হয়েছে সংসারের হাল। বছরের ১১ মাস ১০ দিন মানুষের দোকানে থাকলেও হিফজুল স্বাধীনতার মাস ডিসেম্বর আসলেই জাতীয় পতাকা, রাবার ও ব্যান্ড বেজ নিয়ে চলে আসে শাহজালাল (র:) শাহপরানের(র:) এর পূর্ণভূমী সিলেটের গোলাপগঞ্জে । হিফজুল্লাহ আরো জানায়, সে একা নন। তার সঙ্গে গ্রাম থেকে আরও ৯ জন কৃষক এখন সিলেটে। সবাই জাতীয় পতাকা বিক্রি করছেন।

সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে পতাকা বিক্রি করেন। রাতে এক জায়গায় মিলিত হন।সিলেট নগরীর একটি মেস ভাড়া নিয়ে সবাই একত্রেই থাকেন। এতে শক্তি ও সাহস পান তারা। বিজয়ের মাসের প্রথম সপ্তাহে আসেন। আর বিজয় দিবসের পরদিন চলে যান। প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১৫শ টাকার পতাকা বিক্রি করেন একেকজন। তবে কেবল পতাকাই নয় ‘বিজয় দিবস’ লেখা রাবার ব্যান্ড, হ্যান্ড ফ্লাগও বিক্রি করেন। সঙ্গে পতাকার ছাপ দেওয়া স্টিকারও থাকে। এতে প্রায় দ্বিগুণ লাভ থাকে বলেও জানান হিফজুল্লাহ ।

দরদাম সম্পর্কে জানতে চাইলে হিফজুল্লাহ জানান, ফুট হিসাবে পতাকা বিক্রি করেন তারা। ছয় ফুটের পতাকা ১শ ২০ থেকে ১শ ৫০ টাকা, পাঁচ ফুটের পতাকা ৮০ থেকে ১শ টাকা, চার ফুটের পতাকা ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এভাবে সর্বনিম্ন দুই ফুট উঁচ্চতার পতাকা বিক্রি করা হয়। এছাড়া ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে বিজয় দিবস লেখা রাবার ব্যান্ড, হ্যান্ড ফ্লাগ ও স্টিকার রয়েছে। তবে বিজয় দিবসের দিন ও সময়ভেদে দামের হেরফের হয় বরাবরই।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: