সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২০ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠাতে জটিলতা : আটকে আছে অর্ধলক্ষাধিক পাসপোর্ট

01-daily-sylhet-passportনিউজ ডেস্ক:
নারীকর্মীর শর্ত জুড়ে দেয়ায় বাংলাদেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী পুরুষকর্মী যেতে পারছে না সৌদি আরবে। দেশটি থেকে আনা চাহিদাপত্র অনুযায়ী দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিতে গেলে তারা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। তারা বলছেন, তিনজন পুরুষকর্মীর পাসপোর্ট জমা দেয়ার পাশাপাশি তাদের একজন করে নারীকর্মীর পাসপোর্টও দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ৭৫ জনে ২৫ জন করে নারীকর্মী দিতে হবে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। বিদেশে কর্মী প্রেরণকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) বলছে, এই নিয়মের ফলে যেসব এজেন্সির নারীকর্মী পাঠানোর অনুমোদন নেই তারা সবচেয়ে অসুবিধায় রয়েছে। এছাড়া যাদের অনুমোদন রয়েছে তারাও চাহিদা অনুযায়ী নারীকর্মী জোগান দিতে পারছে না। ফলে মৌখিকভাবে দেয়া জটিল এই শর্তে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর গতি কমে গেছে।

গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সমস্যার কারণে অনেকে নিরুৎসাহিত হয়ে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে তৎপরতা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বলছে, এই সময়ে কমপক্ষে ৫০ হাজার পাসপোর্ট জমা না নিয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলা হচ্ছে, তারা জুড়ে দেয়া নারীকর্মীর শর্তে নয় বরং দূতাবাসের কনস্যুলার সেকশনে লোকবলের অভাবের কারণে পর্যাপ্ত পাসপোর্ট জমা নিতে পারছেন না। এদিকে সময় মতো পাসপোর্ট জমা দিতে না পারার কারণে অনেকের মেডিকেল রিপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। অপরদিকে এই বিষয়টি সুরাহার জন্য বায়রা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ছুটছেন। কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে তা আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গতকালও সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব কাস্টমার রিলেশনস, মিনিস্ট্রি অব লেবার অ্যান্ড সোসাল ডেভেলপমেন্ট মি. আদনান আবদুল্লাহ আলনুয়াইম-এর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। বৈঠকে সৌদি কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে করা চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত তেমন কোনো আলোচনা হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, ২০০৮ সালে অন্যতম শ্র্রমবাজার সৌদি আরব বাংলাদেশিদের নতুন ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়। সাত বছর পর সীমিত আকারে তা চালু হলেও, অগ্রাধিকার দেয়া হয় নারী গৃহকর্মীদের। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবে নারীকর্মী পাঠাতে চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ। প্রতি মাসে ৫০ হাজার কর্মী নেয়ার চাহিদা দেয় দেশটি। কিন্তু, নিরাপত্তাহীনতা ও নানা নির্যাতনের আশঙ্কায় এ পরিমাণ কর্মী যাচ্ছিল না সৌদিতে। অনেকে আবার নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশেও ফিরে আসছিলেন। এ অবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সৌদি আরব সফর শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশটিতে একজন নারী গৃহকর্মীর সঙ্গে একজন করে তাদের নিকটাত্মীয় পুরুষকর্মীও যাবে। নিকটাত্মীয় বলতে বাবা, ভাই বা স্বামী যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সে মোতাবেক চলতি বছরে ১৯শে মে থেকে একজন নারীকর্মীর সঙ্গে বিনা খরচে একজন করে নিকটাত্মীয় (বাবা, ভাই, ছেলে ও স্বামী) যাওয়া শুরু হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির কোটায় একজন অনাত্মীয়ও যান। এরপর চলতি বছরের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় সৌদি সরকার।

এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় সৌদি আরবের চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, নির্মাণসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়ার সব বাধা ওঠে যায়। নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাওয়ার পর প্রত্যেক মাসেই কর্মী পাঠানোর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছর আগস্টে ৭ হাজার ২২ জন, সেপ্টেম্বরে ৮ হাজার ১৩২ জন এবং অক্টোবরে ১১ হাজার ১৭৮ জন, নভেম্বরে ২৭ হাজার ৭৭৮ জন এবং চলতি মাসে এ পর্যন্ত গেছে ৫ হাজার ২৬৯ জন গেছে। কিন্তু বর্তমানে এই গতি আর নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত তিন সপ্তাহ ধরে ৩ জন পুরুষের বিপরীতে একজন নারীকর্মী দিতে না পারলে পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে না ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস। এ ব্যাপারে এজেন্সিগুলোর মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বায়রার নির্বাহী কমিটির এক মেম্বার জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহে ৫০ হাজারেরও বেশি চাহিদাপত্র এসেছে। নারীকর্মী দিতে না পারায় তারা সেগুলো জমা নিচ্ছে না। ফলে দেশটিতে বাজার উন্মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না। এতে করে সৌদি গমনেচ্ছু অনেকের মেডিকেল রিপোর্টও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো চুক্তি ও চাহিদা মতো কর্মী পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে গত ২০শে নভেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও জানিয়েছেন বায়রা নেতারা। এছাড়া তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বিষয়টি জানিয়েছে। বায়রা নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, প্রায় ১১০০ এজেন্সি রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র তিনশ’ এর মতো এজেন্সি নারীকর্মী পাঠাতে পারে। বাকিদের সে অনুমোদন নেই। ফলে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। এছাড়া যাদের অনুমোদন আছে তারাও চাহিদা মতো নারীকর্মী যোগান দিতে পারছেন না। ফলে তারাও বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমরা বিএমইটিতে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো যুক্তি নেই। বায়রার এই সদস্য বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আমাদের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে কনস্যুলার সেকশনে লোকবল সংকটের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অচিরেই তা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

সর্বশেষ গতকাল থেকে জমা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। রুপায়ণ এন্টারপ্রাইজের এমডি শহীদ উল্লাহ জানান, তার কাছেও প্রায় ১ হাজার চাহিদাপত্র রয়েছে। সে পাসপোর্টগুলো তিনি জমা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে বায়রা মহাসচিব মো. রুহুল আমিন বলেন, সৌদি দূতাবাস বলছে, পুরুষ কর্মীদের যত বই (পাসপোর্ট) আমরা জমা দেবো, তার ২৫ শতাংশ নারীদের বই জমা দিতে হবে। বায়রা মহাসচিব বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটি বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে এ বিষয়টি উল্লেখ নেই বলে জানি। বায়রার সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ নারীকর্মী দেশটিতে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী নারীকর্মী পাওয়াও যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, যদি শতকরা ২৫ ভাগ নারী পাঠানোর শর্ত হয়েই থাকে তবে আমরা বলতে পারি, ইতিমধ্যে ৭৪ হাজার নারীকর্মী সৌদিতে পাঠিয়েছি। সে অনুপাতে পুরুষকর্মী পাঠাতে পারিনি। এই হিসাবে আরো প্রায় দেড় লাখ পুরুষকর্মী যাওয়ার কথা।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকেও দেশটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তারা চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র পুরুষকর্মীর পাসপোর্ট জমা নেয়ার বিষয়টি আশ্বাসের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে জেনে নিতে বলেন। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমরা চুক্তির বিষয়টি গতকাল তাদের সামনে তুলে ধরেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শুধু বাংলাদেশেই না, ভারত ফিলিপাইনকেও তারা এই ধরনের চাপে রেখেছে যেন নারীকর্মী পাঠায়। তাদের ওখানে নারীকর্মীর সংকট রয়েছে। মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: