সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাইনাস হচ্ছেন নাদেল-সেলিম!

nadel-salim-news-daily-sylhet-0-9-copyহাসান মো.শামীম::
পরিবর্তনের ছোয়া লাগছে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে । নতুন বছরের শুরুতে নতুন নেতৃত্বের পথে এগুচ্ছে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা । দীর্ঘ দিন থেকে অনির্বাচিত এডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত দুই ক্রীড়া সংস্থায় বইছে নির্বাচনি হাওয়া । উচ্চ আদালত থেকে নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা তৈরির নির্দেশনা আসার পর থেকে নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে সিলেটের এ দুই শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থায়।

তবে নির্বাচনী আনন্দের সাথে বইছে বিষাদ রাগিনী। জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুসারে এডহক কমিটির কোনো সদস্যই আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় আপাতত দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ব হারাতে যাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল আর সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অবসান হতে যাচ্ছে মাহি উদ্দিন সেলিমের অধ্যায় । এরই মধ্যে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান দিয়েছেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী। এজন্য বর্তমান এডহক কমিটি থেকে পদত্যাগ ও করেছেন তিনি । তবে নতুন ভোটার তালিকা প্রনয়নের ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশের ব্যাপারে আপত্তি তুলেছেন তার সমর্থিত প্যানেল । তাদের মতে যেহেতু স্থগিত হওয়া নির্বাচন পুনরায় হবে সেহেতু এর জন্য নতুন ভোটার তালিকা হওয়াও নিস্প্রয়োজন। এর জন্য স্থগিত হওয়া নির্বাচনের সেই সময় কার ভোটার তালিকাই চলমান থাকবে । নতুন ভোটার যুক্ত করা হলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারেও বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি ।

নির্বাচন মানেই সিলেটের দুটো ক্রীড়া সংস্থায় নতুন নতুন মুখ। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের ২৮.৩ অনুচ্ছেদে আর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ক্ষেত্রে ২৩.৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্টই বলা আছে তা। সে হিসেবে সিলেটের দুটো ক্রীড়া সংস্থায়ই পুরনো মুখগুলোর পরিবর্তে নতুন মুখ আসতে যাচ্ছে। কারণ সিলেট জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা-দুটোই চলছে এডহক কমিটি দিয়ে। গঠনতন্ত্রে এডহক কমিটির জন্য ৯০ দিন সময় বাঁধা থাকলেও জেলা কমিটি দেড় বছর কাটিয়ে দিয়েছে আর বিভাগীয় কমিটি কাটিয়ে দিয়েছে ৩ বছর ৯ মাস। তবে নির্বাচন হলে তাদের দিন ফুরোবে।

রিকাবীবাজারস্ত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের একটি কক্ষে অনেক দিন কার্যক্রম চালানোর পর বিভাগীয় স্টেডিয়াম হওয়ায় স্বরুপে আবর্তিত হয় বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা । ক্রিকেটের জন্য আলাদা স্টেডিয়াম নির্মাণ ও বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্ট আয়োজোনের সুযোগ পাওয়ায় সংস্থার পদ গুলো হয়ে উঠে হট কেক । ঝিমুতে থাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা তখন পদ প্রত্যাশী সংগঠকদের ভিড়ে হয়ে উঠে মুখরিত ।এরপর নির্বাচন স্থগিত রেখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের প্রিয় ভাজন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল হয়ে যান বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রধান । তবে দক্ষ হাতেই অর্পিত দ্বায়িত্ব সফল ভাবে পালন করেন তিনি ।

স্থানীয় একটি দৈনিকের সম্পাদক ও রাজনীতিবিদ নাদেল তার সাংগঠনিক ক্যারিশমায় হয়ে উঠেন সবার প্রিয় ভাজন । তাকে ঘিরে বহু সমালোচনা থাকলেও দিন শেষে ক্রীড়া ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য । ডেইলি সিলেটের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন ‘ কোন জায়গাই কারো জন্য চিরস্থায়ী নয় , আর সংস্থার আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ও কারো নেই সেহেতু আমার ও নির্বাচন করার সুযোগ নেই।’ তবে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বা কবে নাগাদ হতে পারে সে সম্পর্কে তিনি কোন ধারনা দিতে পারেননি ।

অপর দিকে সামনের নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার ব্যাপারটি প্রথম দিকে স্বীকার না করলেও পরে অন্য ব্যবস্থা করার ইঙ্গিত দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম । তবে ঢাকায় মিটিং এ ব্যস্ত থাকায় এ ব্যাপারে ডেইলি সিলেটকে সম্পূর্ণ তথ্য দিতে নিজের অপারগতার কথা জানান সেলিম । ব্যবসায়ী থেকে ক্রীড়া সংগঠক হওয়া মাহি উদ্দিন সেলিমকে বলা হয়ে থাকে ‘ওয়ান ম্যান শো’। প্রচারপ্রিয় আত্নকেন্দ্রিক সেলিমের বেশির ভাগ কাজই লোক দেখানো এমনটাই মনে করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক ক্রীড়া সংগঠক। জেলা ক্রীড়া সংস্থার চেয়ার থেকে সরে যাওয়া মাহী ঊদ্দিন সেলিমের জন্য অনেক বড় বিষাদের কারণ হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন ।

এ ব্যাপারে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক ইমরান চৌধুরী ডেইলি সিলেটকে বলেন, নির্বাচন বান্ধব পরিবেশ হলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব । নাদেলের সব অসমাপ্ত কাজ আমি সফল ভাবে সমাপ্ত করব । তবে নতুন ভোটাড় তালিকা নয় আগের তালিকা দিয়েই ভোট হতে হবে’। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালত কে অবগত ও করেছেন বলে তারা জানান ।

উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি জে এন দেব চৌধুরীর দ্বৈত বেঞ্চ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র (সংশোধিত) এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের (সংশোধিত) আলোকে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালত তালিকা জমা দেওয়ার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেটের পুলিশ সুপারকে গত ৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। আদালতের নির্দেশনার পর বেশ নড়েচড়ে বসেছে দুটো ক্রীড়া সংস্থা।

নির্বাচন দরজায় করাঘাত করছে। প্রাণ ফিরে পেয়েছেন সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্টরা। আর তাদের সকলেই মনে করেন এতে করে দীর্ঘদিন ধরে এডহক কমিটি থাকায় ক্রীড়াঙ্গনে যে স্থবিরতা ছিল নির্বাচিত কমিটি এলে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: