সর্বশেষ আপডেট : ৩১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কি দিয়েছে বিপিএল, কি পেয়েছে বাংলাদেশ?

full_496928439_1481326629খেলাধুলা ডেস্ক: শেষ হয়ে গেলো বিপিএলের চতুর্থ আসর। চার আসরের মধ্য এবারের আসরকেই বেশি এগিয়ে রাখছেন সমালোচকরা। তারা বলছেন মাঠের ভিতরে ও বাহিরে দারুন ভাবে সফল এবারের আসর। ভালো দর্শক সমাগম যেমন দেখা গেছে মাঠে। তেমনি প্লেয়ারদের ভিতরেও দেখা গেছে দারুন প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্লেয়াররা কতটা সমঝতা রাখতে পেরেছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিপিএলের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো কিছু তরুণ খেলোয়ার তুলে অানা। এবারের আসর কি সেটা পেরেছে? হ্যা এবারের আসর সে দিক থেকে দারুণ সফল। তরুণ খেলোয়ার উঠে আসার সাথে সাথে জাতীয় দলের খেলোয়াররাও তাদের যোগ্যতার সাক্ষর রেখেছেন।

বিপিএলের এবারের আসরে শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের। শীর্ষ ১০ বোলারের মধ্যেও রয়েছে ৬ বাংলাদেশী।

শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের মধ্যে বাংলাদেশের ৭

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসরে শুরু থেকেই ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়ে আসছিলেন তামিম ইকবাল। দারুণ খেলেও চিটাগং ভাইকিংসকে ফাইনালে নিতে পারেননি দলটির অধিনায়ক। তবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হওয়ার সান্ত্বনা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার।

অবশ্য ‘অলিখিত’ সেমিফাইনাল শেষে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে, তামিমই বিপিএলের এবারের আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হবেন। চিটাগং ভাইকিংস দলনায়কের চেয়ে ১২৫ রান পিছিয়ে ছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে রাজশাহী কিংসের হয়ে ফাইনাল খেলা সাব্বির রহমান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ২৬ রান করে সাব্বির শুধু ব্যবধানই কমিয়েছেন।

বিপিএলের চতুর্থ আসরে রান সংগ্রহের তালিকায় আধিপত্য অব্যাহত রেখেছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকায় থাকা সাতজনই বাংলাদেশি। তামিম ছাড়া শীর্ষ দশে থাকা অপর পাঁচজন হলেন- মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদি মারুফ, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন ও মুমিনুল হক।

বিপিএলের এবারের আসরে ১৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৭৬ রান করেছেন তামিম ইকবাল। করেছেন বিপিএলের রেকর্ড সর্বোচ্চ ৬টি হাফসেঞ্চুরি। ৫৩টি চারের পাশাপাশি ১১টি ছক্কা হাঁকান চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক। আর মাত্র ১১ রানের জন্য আহমেদ শেহজাদের (৪৮৬) করা বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড ভাঙতে পারেননি তামিম।

ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য উপহার দিয়ে খুলনা টাইটান্সেকে প্লে-অফে তুলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। দলকে ফাইনালে তুলতে না পারলেও ১৪ ম্যাচে ২টি হাফসেঞ্চুরির সাহায্যে ৩৩.০০ গড়ে ৩৯৬ রান করে তালিকার দুই নম্বরে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের অলরাউন্ডার। ৩১টি চারের সঙ্গে ১৪টি ছক্কা হাঁকান টাইটান্স দলনায়ক।

তামিম ও মাহমুদউল্লাহর কাছাকাছিই রয়েছেন সাব্বির রহমান। রাজশাহী কিংসের তারকা খেলোয়াড় ১৫ ম্যাচে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান করেন। ২৯টি চারের সঙ্গে ১৭টি ছক্কা হাঁকান টুর্নামেন্টের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান সাব্বির।

আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে সবার হৃদয় জয় করা মেহেদী মারুফ ১৪ ম্যাচে করেছেন ৩৪৭ রান। এবারের টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন মারুফ। তিনি রয়েছেন তালিকার ছয় নম্বরে।

১২ ম্যাচে ৩৪১ রান করে এর পরের স্থানে রয়েছেন বরিশাল বুলসের অধিনায়ক মুশফিক।

ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৩০ বলে ২৭ রান করা মুমিনুল রয়েছেন তালিকার নয় নম্বরে। ১৫ ম্যাচে ৩৩১ রান করেছেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেয়া মোহাম্মদ মিঠুন তালিকার দশ নম্বরে রয়েছেন। ১২ ম্যাচে ৩২০ রান করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

শীর্ষ ১০ বোলারের মধ্যে বাংলাদেশের ৬

বিপিএলের চতুর্থ আসরে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার মোহাম্মদ শহীদ। শেষদিকে ছিটকে পড়ার আগে দারুণ ছন্দে ছিলেন শফিউল ইসলামও। তবে দুজনই ইনজুরিতে পড়ায় বোলারদের শীর্ষ তিনে কোন বাংলাদেশী নেই। শীর্ষ জায়গা দখল করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভো। ১৩ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২১ উইকেট নেন এই ক্যারিবিয়ান বোলার।

১৪ ম্যাচে ২০ উইকেট নেয়া জুনায়েদ আচেন দুই নাম্বারে। ১৩ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের স্পিনার মোহাম্মদ নবী তালিকার তিন নম্বরে রয়েছেন।

ইনজুরির কারণে শেষ দিকে ছিটকে পড়া শফিউল ১৩ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছেন; বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তিনি শীর্ষে।

৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নেয়া শহীদ ছয় নম্বরে রয়েছেন। রুবেল হোসেন ১২ ম্যাচে ১৫ এবং তাসকিন আহমেদ ১১ ম্যাচে সমান উইকেট নিয়ে যথাক্রমে সাত ও আট নম্বরে রইলেন। ফরহাদ রেজা ১৪ ও আরাফাত সানি ১৩ উইকেট নিয়ে শীর্ষ দশের শেষ দুটি জায়গা দখল করেছেন।

এছাড়াও এবারের বিপিএল থেকে উঠে এসেছে কিছু তরুণ খেলোয়াড়।

আফিফ হোসেন
যারা ক্রিকেট সম্পর্কে খুভ ভালো খোজ খবর রাখেন তারা ছাড়া বেশিরভাগই জানতেন না আফিফের নাম। এক ম্যাচই আফিফ চলে এসেছেন আলোয়। যারা আফিফকে জানেন তারা আফিফের ব্যাটিংয়েই মুগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু আলোতে আসতে আফিফ দেখিয়েছেন বোলিং কারিশমা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সহ-অধিনায়ক মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে রাজশাহী কিংসের হয়ে ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন ১৭ বছর বয়সী অফ স্পিনার। পাঁচ শিকারের মধ্যে দ্বিতীয়টি আবার টি-টোয়েন্টির ভয়ংকরতম ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে (৫) বোল্ড করে। আফিফ অবশ্য এলিমিনেটরে চিটাগংয়ের সঙ্গে উইকেটশূন্য থেকেছেন। কোয়ালিফায়ারে এক ওভার করে ফিরিয়েছেন ভয়ংকর মূর্তিতে ব্যাট করতে থাকা নিকোলাস পুরানকে। আর অভিষেকেই দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই মনে রাখতে হবে।

আবু জায়েদ
আবু জায়েদ যেনো বিপিএলে এসে কিপ্টামিটা শিখাচ্ছিলেন। ব্যাটসম্যানদের কিভাবে বেধে রাখতে হয় সেটা খুভ ভালো করেই জানেন আবু জায়েদ। ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট, পরিসংখ্যানটা হয়তো খুব উজ্জ্বল নয়। তবে জায়েদকে চিনতে হবে ইকোনমি দিয়ে। ৫.৪৩ ইকোনমিতে আছেন শীর্ষ পাঁচে। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কাজটা দারুণভাবে করেছেন ঢাকার এই পেসার। বিপিএলের শুরুর দিকেও আবু জায়েদ ব্যস্ত ছিলেন কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে। ইংল্যান্ড সিরিজের পর বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ কিছুদিন কাজ করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, হোসেন আলী, আলী আহমেদের মতো কিছু পেসারদের নিয়ে। জায়েদও ছিলেন ওয়ালশের অনুশীলন। তবে বিপিএল যত সামনে এগিয়েছে ততই তিনি অপরিহার্য উঠেছেন ঢাকা দলে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৩ উইকেট—এই বিপিএলে তাঁর সেরা বোলিং। তবে জায়েদ নিজেও মানবেন, তাঁর সেরা বোলিং বরিশাল বুলসের বিপক্ষেই, ৪ ওভারে ১ মেডেনে ১২ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। সেদিন ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান বিস্মিত হয়ে বলেছিলেন ‘আমি মনে করি পুরস্কারটা রাহীরই (জায়েদ) প্রাপ্য ছিল।’

নাজমুল ইসলাম
নাজমুলের উদ্‌যাপনটা বেশ পরিচিতি পেয়েছে বিপিএলে। উইকেট পেলেই হাত দিয়ে ফণা তোলেন। তাঁর সর্প-ভঙিটা সংক্রমিত হয়েছে সতীর্থদের মধ্যেও! তবে নাজমুলের বোলিংয়ে যে আসলেই কিছু বিষ আছে, সেটি টুর্নামেন্টে দেখা গেছে। রাজশাহীর হয়ে ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁর বোলিং ধার বোঝা যাবে না। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন নিয়মিত, ইকোনমি ৫.৯৬ সেটিই বলছে। নাজমুলের সেরা বোলিং রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ হলেও সেদিন রংপুরের ব্যাটসম্যানদের কাছে সবচেয়ে বেশি দুর্বোধ্য ছিল নাজমুলের বোলিং। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ৮ রান দিয়ে ১ মেডেনসহ নিয়েছেন ৩ উইকেট। কাল ফাইনালেও রাজশাহীর অন্যতম ভরসা হবেন তিনি।

সাইফউদ্দিন
গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অসাধারণ বোলিং করে উচ্চকণ্ঠেই সাইফউদ্দিন জানিয়েছিলেন আগমনী বার্তা। কিন্তু সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাঁর স্বপ্নযাত্রায় বড় ধাক্কা। অবশ্য বিসিবির ছাড়পত্র পেয়েই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে বিপিএল খেলেছেন সাইফউদ্দিন। ৯ ম্যাচে পেয়েছেন ৯ উইকেট। ২০ বছর বয়সী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার যে ‘ম্যাচ উইনার’, সেটি দেখা গেছে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে। ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনি।

হাসানুজ্জামান
৯ ম্যাচে ১৪৩ রান। আহামরি কোনো ইনিংসও নেই তাঁর নামের পাশে। তবুও হাসানুজ্জামানকে রাখতে হবে এই তালিকায়। রাখতে হবে তাঁর দুটি ইনিংস দেখে। কুমিল্লার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে ৩০ বলে ৩৭ করেছিলেন হাসানুজ্জামান, খুলনা টাইটানস পেয়েছিল ১৪৪ রানের লড়াইয়ের পুঁজি। ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত জিতেও যান তাঁরা। কদিন আগে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে খুলনা যে অনায়াসে ১৫৮ রান তাড়া করেছিল, সেটিতেও হাসানুজ্জামানের বড় অবদান। হাসানুজ্জামান ১৯ বলে ৪০ রান করে খুলনার কাজটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছিলেন তিনি। হয়তো সামর্থ্যের শতভাগ দেখা যায়নি খুলনার এই ওপেনারের কাছ থেকে। তবে তাঁর সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: