সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সৈয়দ মহসিন আলী ও আমাদের প্রত্যয়

unnamed-2সৈয়দা সানজিদা শারমিন:: বাবার জন্মের আগে দাদীর পরপর তিনটি শিশুপুত্র মারা যায়। বাবা দাদীর গর্ভে এলে তিনি নিয়ত করেন এবারও পুত্র সন্তান হলে তাকে মানবসেবায় উৎসর্গ করবেন । মহসীন’ নামের অর্থ সাহায্যকারী- এটা দাদী না জানলেও ঠিক করেন উপমহাদেশের বিখ্যাত দানবীর ও সমাজসেবক হাজী মুহাম্মদ মহসীনের নামানুসারে নাম রাখবেন মহসীন। বেঁচে থেকে সে যেন হাজী মুহাম্মদ মহসীনের মতোই দানশীল ও মানবদরদী হয়। মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে বাবার জন্ম হয় আর নাম রাখা হয় ‘মহসীন’। না, এবার আর কোনো বিপদ নয়। ধীরে ধীরে বাবা বড় হতে থাকেন। হযরত শাহ মোস্তফা (রহ.)- এর বংশধর ধনাঢ্য জমিদার দাদা সৈয়দ আশরাফ আলী বাবাকে লেখাপড়ার জন্য নিয়ে যান কলকাতায়। সেখানে তাঁকে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করান। ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে কিশোর মহসীনের নামের স্বার্থকতার সৌরভ। স্কুলের গরীব ছেলেমেয়েদের সাহায্য করা, নিজের বই ও নতুন জামা অসহায় সহপাঠীদের দিয়ে দেওয়া, বাবার কাছে বায়না ধরে টাকা চেয়ে ও গোপনে টাকা নিয়ে গরীব, অনাথ ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতন দেওয়া, নিজের টিফিন খাওয়ানো, দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য নিজের খাতায় খুব বেশি না লিখে তাদের সাহায্য করা- এসবের প্রতিই তিনি ছিলেন আগ্রহী ।

১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু মৌলভীবাজার সফরে যান। এ সময় ছাত্রলীগের পক্ষে ব্যতিক্রমী তোরণ নির্মাণ করে জাতির জনকের নজর কাড়েন তরুণ সৈয়দ মহসিন আলী । দাদা রাগ হয়ে দাদীর কাছে অভিযোগ তোলেন। শুনে দাদী আনন্দে শুকরিয়া আদায় করেন। বুঝতে পারেন, দয়ালু আল্লাহ তার নিয়ত কবুল করেছেন, তার আদরের মহসীন, হাজী মোহাম্মদ মহসীনের মতই হতে চলেছেন । এরপর তরুণ সৈয়দ মহসিন আলী ফিরে আসেন নিজ দেশে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তাঁর রাজনৈতিক শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে এবং ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু মৌলভীবাজার সফরে গেলে ছাত্রলীগের পক্ষে ব্যতিক্রমী তোরণ নির্মাণ করে তিনি জাতির জনকের নজর কাড়েন । সিংহ হৃদয়ের মহসীনকে চিনতে ভুল করেননি বঙ্গবন্ধু, তিনি তাকে কাছে টেনে নেন পরম মায়ায়। শুরু হয় নতুন এক উজ্জীবিত, মায়ার পাগল মুজিব সৈনিকের সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধু শেখালেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয় ও দেশপ্রেম কাকে বলে । জাতির জনকের নির্দেশে মাত্র ২৩ বছর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। সম্মুখযুদ্ধে অস্ত্র হাতে শরীরে অসংখ্য বুলেট বরণ করেও পিছপা হননি। মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন শেষে স্বাধীন দেশ গঠনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাবা । ২০০৮ সালে তিনি লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন । তিনি ভুলতে পারেননি সহ-মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের কথা। স্বাধীনতার যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেন শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের। শুরু হয় জমিদার বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ বিলিয়ে দেওয়ার কাজ । আশির দশকের শুরুতে বিপুল ভোটে মৌলভীবাজার পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যেন মানবপ্রেমিক এক মহসীনের জন্ম হয়। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। জনগণের ভালবাসায় দেশের শ্রেষ্ঠ পৌর চেয়ারম্যানের সম্মানসহ তিন-তিনবার পৌর চেয়ারম্যান, জেলা যুবলীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন। কিন্তু ততদিনে হারিয়ে ফেলেন তার বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পদের সিংহভাগই । ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নিজ কর্মের গুণে লাখো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে হন সংসদ সদস্য । বাবার এতো সাফল্যে আমরা খুব খুশি হতাম না। কারণ, আমার জন্মের আগেই মৌলভীবাজারে ৩৬, শ্রীমঙ্গল সড়কে সৈয়দ বাড়িটি হয়ে যায় গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল। সুস্থ-অসুস্থ শরীর নিয়েই আমার মাকে রান্না করতে হতো প্রতিদিন মণ মণ চালের ভাত। তাও আবার বাবার ইচ্ছায়, যখন-তখন । বাসায় পাইনি কখনো নিজস্ব শোবার ঘর। পড়ালেখা করার নিরিবিলি পরিবেশ আশাও করতাম না। মা সারাদিন রান্নাঘরের আগুনের তাপ সহ্য করে একটু বিশ্রামের জায়গা পেতেন না। গভীর রাতেও বাবা-মা’র শোবার ঘরে ছিল মানুষের কোলাহল। বাধ্য হয়ে মা সৈয়দা সায়েরা মহসিন এখানে সেখানে ঘুমিয়ে রাত কাটাতেন। এমনকি অনেক সময় পরনের পোশাক পরিবর্তনের জায়গাও খুঁজতে হতো । বাবা নিজে এমবিএ ডিগ্রিধারী হলেও আমাদের লেখাপড়ার প্রতি ছিল না কোনো নজর। আমরা তিন বোন, কে কোন ক্লাসে পড়তাম, আদৌ পড়ালেখা করতাম কি না- এসবের কিছুই জানতেন না তিনি। অনেক দিন পর পর বাবার সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য দেখা হতো । বাবা ধমক দিয়ে বলতেন, এই বাড়িটা তোমাদের না। এটা তো এসব সাধারণ মানুষের বাড়ি। তাদের জন্যই মন্ত্রীপাড়ায় আসতে পেরেছ । বাবার প্রতি ভালবাসার কারণে আমার মা এসব মেনে নিয়েছেন, কখনোই বাধা দেননি। তবে আমরা বড় হয়ে আস্তে আস্তে আমাদের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য আকুতি জানালাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। বাবা সিগারেটের নেশার মতোই মানুষের সঙ্গে থাকার নেশা ছাড়তে পারলেন না । অনেকের মতো আমরাও বাবাকে না চিনে ভুল বুঝতে শুরু করলাম। কখনো কান্না করতাম, নিজেকে বোঝাতাম, না খেয়ে থাকতাম। কিন্তু পরিবর্তন কিছুই হলো না। দিনে দিনে বাবা যেন আরো বেপরোয়া জনপ্রেমিক হয়ে উঠলেন। সৈয়দ বাড়ি পরিণত হলো সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল ।

২০০১ সালের পর নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলো জানমাল ও ইজ্জত বাঁচাতে বাবার কাছে আশ্রয় নিলো। বাবার খরচে আহতদের চিকিৎসা দেখে মনে হলো এ যেন এক সরকারি হাসপাতাল। যেখানে মাকে হতে হল সেবিকা, আর আমরা হলাম স্বজন । আমরা বুঝলাম তাকে বাধা দেওয়া অর্থহীন। সব মেনে নিলাম। একদিন সুযোগ পেয়ে বাবাকে বললাম, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই। জায়গা-জমি সব বিক্রি করে জনকল্যাণে উৎসর্গ করছ। আমাদেরকে ভালোভাবে লেখাপড়াও করাচ্ছো না। আমরা ভবিষ্যতে কী করবো?’ বাবা উত্তর দিলেন ‘তোমরা সৈয়দ মহসীন আলীর সন্তান- এটাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।’ মহান আল্লাহ তোমাদেরকে দেখবেন। আমার অভিভাবক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তোমাদেরকে ছায়া দেবেন। প্রিয় মৌলভীবাজারবাসী তোমাদের অভিভাবক হবেন । এরপর বাবা দ্বিতীয়বার এমপি হয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হলেন।

৩৪, মিন্টু রোডে সরকারি বিশাল বাসা পেলেন। আমরা আনন্দে আত্মহারা। ভাবলাম ছোটবেলায় কষ্ট হলেও এখন মন্ত্রীপাড়ায় আরামে থাকবো। কিন্তু বিধি বাম। এখানেও ঋণ করে গড়ে তুললেন প্রিয় মৌলভীবাজারের মানুষের জন্য থাকার ঘর ও মিনি হসপিটাল। জটিল রোগীদের বিদেশে পাঠিয়ে করাতেন চিকিৎসা। উপরে নীচে হাটার জায়গা নেই, যেখানে নিয়মিত অবস্থান করেন শতাধিক রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজন এবং প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা নিতে আসা অসংখ্য মানুষ । আমাদের মা-ও মানুষের প্রেমে পড়ে গেলেন। আমরাই শুধু বাবাকে বলতাম, তুমি এসব কী করছ? এখানেও আমরা থাকার জায়গা পাচ্ছি না। বাবা ধমক দিয়ে বলতেন, এই বাড়িটা তোমাদের না। এটা তো এসব সাধারণ মানুষের বাড়ি। তাদের জন্যই মন্ত্রীপাড়ায় আসতে পেরেছ। অথচ তারা তো নীচে থাকে। আর দয়া করে তোমাদেরকে থাকতে দিয়েছে দ্বিতীয় তলায়। তার জন্য শুকরিয়া আদায় কর। আর পছন্দ না হলে বাড়ি ফিরে যাও । ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় সিঙ্গাপুর যাওয়ার সময় বাড়ির রোগীদের দায়িত্বে থাকা জনিকে বলে গেলেন, ‘আমার রোগীদের যেন কোন অযত্ন না হয়। আমি সুস্থ হয়ে ফিরে এসে জটিল রোগীদের আরও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করব ।’ সারা জীবন যে মানুষটি হাজার হাজার রোগীকে নিজ খরচে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন, পৈত্রিক জায়গায় গৃহহীন মানুষকে ঘর তুলে দিয়েছেন, দুঃস্থ-অনাথ মানুষের জন্য অকাতরে অর্থ বিলিয়ে দিয়েছেন, কতটুকু সৎ হলে সেই মানুষটিকে আজ মন্ত্রী থাকা অবস্থায়ও তার চিকিৎসার টাকা যোগাড় করতে আমাদেরকে মানুষের কাছে হাত পাততে হলো!

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ এই বীর যোদ্ধা চলে গেলেন বীরের মতই তার প্রিয় জাতির জনক ও বীর শহীদ যোদ্ধাদের কাছে। তারা সাজিয়ে রেখেছেন এই রাজপুত্রের জন্য ওপারে রাজপ্রাসাদ। কিন্তু আমাদের গেলো সরকারি বাড়ি আর গাড়ি। ঢাকায় থাকলো না কোনো আশ্রয়স্থল। সম্বল বলতে শুধু রইল মৌলভীবাজারে দাদার রেখে যাওয়া পুরনো পানি পড়া টিনের ঘর। চলাচলের জন্য থাকলো চড়লেই শরীর ঘেমে যাওয়া ভাঙা একটি পুরনো গাড়ি। বাবার এখন প্রায় তিন কোটি টাকার ঋণ। ঘরে অবিবাহিত আদরের ছোট বোন, আর বাবাকে ও বাবার প্রিয় মানুষদেরকে সারা জীবন সার্ভিস দেওয়া শোকাহত মা । ভাবলাম কী করবো আমরা? মনে হলো বাবার সেই কথা- ‘তোমরা সৈয়দ মহসীন আলীর সন্তান- এটাই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।’ মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখলাম । সত্যিই বাবা, তোমার পরিচয়ই তো আজ আমাদের জন্য বিরল সম্মান। তুমি বীরের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান নিয়ে চলে গেলে। রেখে গেলে কোটি মানুষের চোখের জলে ভেসে যাওয়া তোমার প্রিয় দেশ। তোমার প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তোমার প্রিয় বন্ধু মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা আমাদেরকে সান্তনা দিলেন, সাহস যোগালেন, তোমার প্রিয় মৌলভীবাজারবাসী আমাদের অভিভাবকের দায়িত্ব নিলেন । তোমার আশ্রয়ে থাকা মানুষগুলো আজ এতিমের মতো আমাদের কাছে আশ্রয় খুঁজে বেড়ায়। হ্যাঁ বাবা! আমরাও কথা দিলাম, তোমার মতই তাদেরকে মায়ার জালে বেধে রাখব।

প্রিয় মৌলভীবাজারবাসীর কোলাহলে মুখরিত থাকবে তাদেরই প্রিয় সৈয়দ বাড়ি । যে বাড়ির কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পুকুর তুমি কখনো ভরাট করনি ছিন্নমূল মানুষের গোসলের অসুবিধা হবে বলে। সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার ভয়ে বাড়িতে তোলনি কোনো সীমানাপ্রাচীর। দরিদ্র অসহায় মানুষ বাড়িতে ঢুকতে বাধা পেতে পারে- এমন আশংকায় বাড়িতে রাখনি কোনো পাহারাদার। মন্ত্রী হলেও ছিল না তোমার কোনো প্রটোকল। বিনা বাধায় ভিক্ষুকও যখন তখন চলে যেতো তোমার শোবার ঘরে। আলাদা কোনো ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর না থাকায় যে কেউ সরাসরি হ্যালো বললেই তোমাকে পেয়ে যেতো। বাড়ির ফলমূল, পুকুরের মাছ যখন তখন নিয়ে যেতে কেউ তোমার অনুমতির প্রয়োজন মনে করতো না । প্রতিজ্ঞা করছি বাবা, তাদের সেই আশ্রয়স্থল কখনোই কেড়ে নেবো না। তোমার সকল সফলতা ও কৃতিত্বের অংশীদার আমার মা সৈয়দা সায়েরা মহসীনের নেতৃত্বেই আগামী দিনে মৌলভীবাজারে তাদের সেই আশ্রয়স্থল মায়ের আদরের মতোই আরো মায়াময় হবে। সঙ্গে থাকবে তোমার সপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের তিন বোনের দৃঢ় অঙ্গীকার । আগের মতোই বাড়িতে থাকবে না কোন সীমানা প্রাচীর, পাহারাদারের কোন প্রয়োজন হবে না। ছিন্নমূল মানুষের গোসলের জন্য বাড়ির পুকুর আরো পরিচ্ছন্ন ও গভীর হবে।

নতুন নতুন ফলগাছ বুনে ও মাছের চাষ করে তা সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে তাদের অধিকার আরো বাড়িয়ে দেবো । তুমি তোমার অতি আদরের তিন নাতি-নাতনিকে ঘরের বাইরে নিয়ে চিত করে শুইয়ে দিতে। আর বলতে, ‘তাদেরকে আমি আকাশ দেখাচ্ছি, আকাশ দেখলেই তাদের মন আকাশের মতো বড় ও উদার হবে ।’ তোমার শেখানো মানবপ্রেম ও দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে তোমার মতোই তোমার প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পাহারাদার হয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে আজীবন ভূমিকা রাখবো । তুমি চেয়েছিলে আমরাও যেন তোমার মতো উদার হই। তাই তুমি তোমার অতি আদরের তিন নাতি-নাতনিকে ঘরের বাইরে নিয়ে চিত করে শুইয়ে দিতে। আর বলতে, ‘তাদেরকে আমি আকাশ দেখাচ্ছি, আকাশ দেখলেই তাদের মন আকাশের মতো বড় ও উদার হবে ।’ এখন আমরাও প্রতিদিন আকাশ দেখবো বাবা, আকাশের শেখানো উদারতা প্রিয় মৌলভীবাজারবাসী তথা দেশবাসীর মাঝে বিলিয়ে দেব । তুমি গান ভালবাসতে, তোমার সবচেয়ে প্রিয় গান ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’ সত্যি বাবা, তুমি ছিলে মানুষের জন্য, আমরাও জীবন উৎসর্গ করবো জীবনের জন্য । তোমার সাফল্যে আর কর্মে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি অনেক আগেই চলে যাওয়া তোমার মমতাময়ী মা। দানবীর মহসীন হয়েই তুমি ফিরে গেছো যার কোলে। তোমার মহসীন নামকরণ আজ শতভাগ সার্থক । কিন্তু দুঃখ একটাই। তুমি মহসীন হলে কিন্তু হাজী মহসীন হয়ে যেতে পারলে না। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তোমার সস্ত্রীক পবিত্র হজে যাওয়ার কথা থাকলেও ১৪ সেপ্টেম্বর তুমি উঠে গেলে দুনিয়ার শেষ মানববাহী গাড়ীতে, তোমার প্রিয় সাদা পোশাক গায়ে জড়িয়ে । যারা তোমাকে বুঝতে না পেরে বিভিন্ন সময় কষ্ট দিয়েছিল, দুঃখ প্রকাশ তো তারা করেছেই, অনেক মানুষের মতই চোখের জলে তারাও ভাসছে আজ । দেশ গঠনে তরুণদের উজ্জীবিত করতে সকল বক্তব্যের শেষে তুমি তরুণদেরকে নিয়ে গাইতে ‘আমরা করবো জয় …’ গানটি। আমরাও আজ অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে গাইতে শুরু করলাম, ‘আমরা করবো জয়, আমরা করবো জয় নিশ্চয়, বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়, আমরা করবো জয় …।’

লেখিকা: মরহুম সৈয়দ মহসীন আলীর কন্যা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী ফাউন্ডেশন, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: