সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অনুপ হত্যা: সম্পদ ও টাকার জন্যই পরিকল্পিতভাবে খুন

1-daily-sylhet-0-7মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে চাঞ্চল্যকর ১৩ বছরের কিশোর অনুপ দাশ’র নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দিপংকর দাশ গতকাল হবিগঞ্জের আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দিয়েছে। তার দেয়া জবান বন্দি লিপিবদ্ধ করেন বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত সুলতানা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঘাতক দিপংকর দাশকে আদালতে নিয়ে হাজির করলে সে বিনা প্ররোচনায়, স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি প্রদান করেছে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ্য করেছে।

উপজেলার বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের হলিমপুর গ্রামের ধনঞ্জয় দাশের ছেলে দিপংকর দাশ তার দেয়া জবান বন্দিতে জানায়, মৃত কিশোর অনুপ চন্দ্র দাশের পিতা মৃত অন্তু দাশের সাথে মামলায় সন্দেহভাজন ধৃত আসমী গোপাল দাশের টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। উক্ত টাকা মামলার বাদী অনুপ দাশের মা উষা রানী দাশ পরিশোধ করতে না পারায় হলিমপুর গ্রামের সুখুময় দাশের ছেলে গোপাল দাশ, উমর চাদ এর ছেলে ভাসু দেব ও দিপংকর দাশ মিলে গত ২৯ নভেম্ব^র বিকেল বেলা হলিমপুর বাজারের ব্রীজের উপর বসে কিশোর অনুপ দাশকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই মতে গত ৩০ নভেম্বর রাত অনুমান ৮/ ৮.৩০ ঘটিকার দিকে হলিমপুর বাজারে ভুবন দাশের দোকানে পৌছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার পথে অনুপ দাশকে পেয়ে তার পথরোধ করে। পরে তারা ৩ জন মিলে পরস্পর সহায়তায় অনুপকে হত্যা করে। গোপাল দাশ মৃত অনুপ দাশের গলা টিপে ধরে এবং ভাসুদেব মৃত অনুপের নাক, মূখ ও চোখ ধরে রাখে। তাকে ( দিপংকর) দাড়িয়ে কেউ আসছে কি না খেয়াল রাখতে বলা হয়। সে দাড়িয়ে ছিল। পরে অনুপ দাশের লাশ পাশের একটি ডুবায় লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ৩ ঘাতক গোপাল দাশের বাড়ির পিছনে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত গভীর হলে লাশ গুম করে ফেলার জন্য। রাত অনুমান ১২/ ১২.৩০ টার দিকে ৩ জন মিলে অনুপের লাশ ডুবা থেকে তোলে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জ্যোতিময় দাশের বাড়ীর পিছনে স্যানেটারী টয়লেটের ট্যাংকির ঢাকনা উঠিয়ে অনুপের লাশ ফেলে দেয়া হয়। এবং পুণরায় ট্যাংকির ঢাকনা বসিয়ে দেয়া হয়। এরপর তারা যার যার বাড়ীতে চলে যায়। তারপর গোপাল দাশ আমাকে (দিপংকর)কে হুমকী দেয় ঘটনা কাউকে না বলার জন্য। নতুবা আমার পরিবারের ক্ষতি করবে। তাই কাউকে বলিনি। দিপংকর আরো জানায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর সে পুলিশের কাছেও এই বক্তব্য দিয়েছে।

অপর একটি সুত্রে জানাযায়, হলিমপুর গ্রামের মৃত অনুপ দাশের পিতার রেখে যাওয়া প্রায় ২০ কেদার জমি রয়েছে। এরমধ্যে একই গ্রামের প্রন্তা দাশ ও মাদাই দাশ অনুপের পিতার নিকট টাকা পাওনা দাবী করে প্রায় ৭ কেদার জমি জবর দখলে নেয়। এটা জানতে পেরে গোপাল দাশ বাকী জমি টুকু টাকার বদলে তার নামে দেয়ার জন্য অনুপ ও তার মাকে চাপ দেয়। এতে অনুপ ও তার অসহায় মা উষা রানী দাশ রাজি হয় নি। এই থেকেই গোপাল দাশ ক্ষিপ্ত ছিল অনুপের পরিবারের উপর। সুত্রে জানায়, গোপাল দাশ ও ভাসু দেব এক সাথে মিলে এলাকায় সুদি ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা অন্যের কাছ থেকে কম সুদে টাকা এনে বেশী সুদে টাকার ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

এদিকে অনুপ দাশের মৃতদেহকে ময়না তদন্ত শেষে হলিমপুর শ্বশ্মানঘাটে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর থেকে মৃত অনুপের মা উষা রানী দাশ অপর ছেলে মেয়েদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পিত্রালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। অপর দিকে ঘটনার পর থেকেই গ্রাম পুরুষ শুন্য রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: