সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিমান নামতে না দেয়ার মতো ভুল কি করছি না?

burma-killing1শাহ সুহেল আহমদ ::

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে প্রয়োজনে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার করে বলেছেন, “রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতেই হবে। তারা আমাদের মুসলমান ভাই, তাদের জীবনের মূল্য আছে।”
রোববার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পুর্বঘোষিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে নাজিব রাজ্জাক কড়া ভাষায় মিয়ানমার কে হুমকি দেন। বিশ্বের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন কোন প্রধানমন্ত্রীর নিপিড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য রাজপথে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার নজির এটিই প্রথম।
আর আমরা ক্ষত বিক্ষত রোহিঙ্গা মুসলমানদের আর্তনাদ দেখে শুধু আঙ্গুল চুষি। সংবাদ সম্মেলনে রক্ত চক্ষু দিয়ে ঘোষণা দেই- “না, রোহীঙ্গাদের জায়গা এ দেশে হবে না।” কতই না মানবিক নিষ্ঠুর (!) আমরা।

মনে পড়ছে আপনাদের? গত ২৯ নভেম্বর ব্রাজিলের ফুটবলারদের যে টিম ভষ্মিভূত হল! জানেন? সেই বিমানের পাইলট বার বার সংযোগে কাকুতি মিনতি করছিলেন এই বলে যে, তাদের জালানি ফুরিয়ে গেছে। জরুরি অবতরণের যেন সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সংযোগের এই পাশে থাকা মহিলাটি পাইলটের এই মিনতিকে পাত্তাই দেননি। সামান্য একটি কারণ দেখিয়ে বিমানটিকে সেই ৯ হাজার ফিট উপরেই রাখেন। এতে কী হল? ৭৬ জন মানুষ অকাতরে ঝরে গেল। এখন সবাই সেটি শোনে কতইনা আফসোস করছে! সেই মহিলা কী ভাবছেন তা তিনি নিজেই জানেন। তবে অন্তত এটি বলা যায়, তিনি যত শক্ত মনের অধিকারীই হোন না কেন, এ আফসোস তাকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কুকড়ে কুকড়ে মারবে।

আজ আমরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাথে যেটি করছি, সেটি সেই মহিলা কর্তৃক বিমানকে নামতে না দেয়া থেকে আলাদা আর কী? আমরাও তো আজ রোহীঙ্গাদের ঢুকতে দিচ্ছি না। রাখাইনে যখন চোখের সামনে নিজের বাবা, মা, সন্তান, ভাই কিংবা বোনকে মেরে ফেলার দৃশ্য দেখে কেউ পার্শ্ববর্তী কোনো দেশে গিয়ে আশ্রয় চাইতে সীমান্তের দিকে ছুটবে, তখন কেমনে তাকে সীমান্ত থেকে আবার সেই নরকের দিকে ঠেলে দেয়া হয়? আর যারা সীমান্তের দিকে আসছে তারা কি হাট ঘাট বেঁধে আসছে? থালা-সম্বলহীন এক কাপড়ে চলে আসা এসব মানুষকে আমরা কতই না নিষ্ঠুরভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছি। আবার তারা ফিরে যাচ্ছে সেই অনিশ্চয়তার দিকে।

নিজের সামনে বাবা আর স্বামীর মৃত্যু দেখে আসা মোহসিনা বেগম নামের এক রোহিঙ্গা মহিলার বর্ণনা এ রকম, “নভেম্বরের ১২ তারিখ। সকাল বেলা হঠাৎ করেই একদল লোক অস্ত্র হাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ি ভাংচুর আর আগুন। বাড়ির পুরুষ, মহিলা শিশু সবাইকে আলাদা করে দাঁড় করানো হয়। পুরুষদের আলাদা করে দাঁড় করায়, সেখানে আমার স্বামী, চাচা, আর বাবা ছিল। সাথে ছিল আরো ২৫ থেকে ২৭ জন ওই এলাকার পুরুষ। আর মেয়েদের বলা হয় আলাদা লাইনে দাঁড়াতে। এর পর তার চোখের সামনেই হত্যা করা হয় তার পরিবারের তিনজন পুরুষ সদস্যকে।”

আর সে দেশের সেনাদের নির্যাতনের বর্ণনা শোনা যাক বৃদ্ধা লায়লা খাতুন (৬১) এর ভাষায়। তাঁর বাড়ি মংডু জেলার পেরাংপ্রু গ্রামে। তিনি বলছিলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ কয়েক শ সেনা ও পুলিশ তাঁদের গ্রাম ঘিরে ফেলে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে গুলিবর্ষণ করে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ৪০টির বেশি ঘরবাড়িতে। রাতে প্রাণ বাঁচাতে কয়েক শ রোহিঙ্গা নাফ নদীর প্যারাবনে আশ্রয় নেয়। সেখানেও গুলি চালায় পুলিশ। এতে তাঁর স্বামী খায়রুল বশর এবং তিন ছেলে কামাল হোসেন, আবদুস শুক্কুর ও লাল মিয়া নিহত হয়।”

যারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের দেশে জায়গা না দিয়ে তাদের সেখানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আন্তর্জাতিক মহলকে চাপ দিতে হবে। তাদের উদ্দেশ্যে শুধু গত ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের শিরোনামের দিকে নজর দিতে বলব। “আনানকে ঘটনা জানাতে পারলেন না রোহিঙ্গারা” শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে কাছে পেয়েও সেনাদের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ‘গণহত্যা’সহ বর্বরতার কথা জানাতে পারেননি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমরা। গত শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের খেয়ারিপাড়ায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা চারজন রোহিঙ্গাকেই ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক চাপ কোন্ পর্যায়ে আছে, সেটি এই চিত্র থেকেই অনুধাবন করা যায়। রোহিঙ্গাদের উপর এ রকম কিংবা এর চেয়েও বর বর নির্যাতনের চিত্র এখন নিত্যনৈমিত্তিক। তাই আর কতটুকু অমানবিক হলে আমরা এখনও তাদের চাক্ষস মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারি(!)?

লেখকঃ সাধারণ সম্পাদক- দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: