সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৮ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গ্রীসের বেইল আউট এবং দৃশ্যমান পদ্মা সেতু

652মোঃ কায়ছার আলী:: “হেমলক আমার কাছে মরণ বিষ নয় বরং অমৃত সূধা” I to die and you to live. Which রং better God only knows. (শেষ উক্তি সক্রেটিসের)। বিশ্বের সর্বপ্রথম চিন্তাবিদ বিশ্বব্যাপী কর্তৃক স্বীকৃত মহান দার্শনিক যাকে তাঁর চিন্তার দর্শনের জন্য ৭০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করতে হয়। শাসকদের চাপিয়ে দেয়া মৃত্যু দন্ডকেই বরং তিনি সম্মানের সাথে বেছে নিয়েছিলেন। এথেন্সের পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনোই পলায়ন পর হতে চাননি। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নশ্বর দেহের শেষ হলেও আজও তাঁর চিন্তাধারার অবসান হয়নি। তাঁর শিষ্য প্লেটো, প্লেটোর শিষ্য এরিষ্টটলের মধ্য দিয়ে চিন্তার এক নতুন জগৎ সৃষ্টি হয়। যা মানুষকে আজকের সভ্য পৃথিবীতে উত্তোড়িত করেছে। পৃথিবীর প্রথম জন্মন্ধ মহাকবি হোমার, ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস, গণিতবিদ থেলিস, জ্যামিতির জনক ও গণিতজ্ঞ ইউক্লিড, মহাজ্ঞানী পিথাগোরাস, বিজ্ঞানী এনাক্সাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস এ মাতৃভূমির তথা সমগ্র পৃথিবীর জ্ঞানের আলোকিত সন্তান। এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য ওয়ার্ল্ড, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন পত্র- পত্রিকা যতই পাঠ করছি ততই মুগ্ধ হয়ে পড়ছি গ্রীকদের প্রাচীন ঐতিহ্য বা অনেক অজানা কাহিনী সম্পর্কে। খ্রীষ্টপূর্ব ৮ম-৬ষ্ঠ শতকে প্রাচীন গ্রীস বিভক্ত ছিল ২০০টিরও বেশি নগর রাষ্ট্রে যেমন- এথেন্স, স্পারটা, আরগোস, ডেলফি, থিবিস ইত্যাদি। নগর কেন্দ্রিক সরকার দ্বারা উন্নয়ন হলেও একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল কিন্তু তারা ছিল সার্বভৌম। হোমারীয় যুগে গ্রীকদের প্রধান পেশা ছিল কৃষিকাজ ও পশুপালন। ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণের যুক্ত করে গ্রীকরা ২৪টি অক্ষরের বর্ণমালা সর্বপ্রথম উদ্ভাবন করে। ট্রয় নগরী ধ্বংস, জিউসের ইচ্ছায় পৃথিবীতে বৃষ্টিপাত বা অনাবৃষ্টির কাহিনী সেখানে প্রচলিত। প্রায় ১০০০ বছর পূর্বে তারা লৌহ নির্মিত দ্রব্যাদির উদ্ভব ঘটায় এবং ৪০০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রীসে এক মহান সভ্যতা গড়ে উঠে। তারা বিজ্ঞান, শিল্প, স্থাপত্য, গণিত ও রাজনীতি, সাহিত্য, কলা, দর্শন, ফিলসফি শব্দের প্রথম ব্যবহার ও খেলাধুলায় (অলিম্পিক গেমসের প্রতিষ্ঠা ৭৭৬ খ্রীষ্টপূর্ব) বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। তারাই বিশ্বে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রের ধারণা ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করে। এজন্য ইতিহাসের অভিধায় গ্রীসকে “ধ্রুপদী সভ্যতার দেশ” বলা হয়। শুধু গণতন্ত্রের আঁতুড় ঘরই নয় অর্থনৈতিক শৌর্য বীর্যেও ছিল বিশ্বসেরা। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের আলোতে ভরপুর এথেন্স নগরী থেকে গ্রীক সভ্যতা ধীরে ধীরে মিশর, ইস্তাম্বুল ইতালিসহ বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে পড়ে। খ্রীষ্টপূর্ব ৩৩৮ অব্দে মহাবীর আলেকজান্ডার এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। দেশটি ১৪৬ খ্রীষ্টাব্দ নাগাদ রোম সাম্রাজ্যের অংশে পরিনত হয়। ১৪৬০ খ্রীষ্টাব্দে গ্রীস তুরস্কের দখলে যায়। ১৮২০ সালে অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে বেরিয়ে এসে বৃটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ছত্রছায়ার স্বাধীন রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। ১৮২১-১৮২৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে গ্রীস স্বাধীনতা অর্জন করে ১৮২৯ সালে। ১৯৬৭ সালে রাজা দ্বিতীয় কনস্ট্যান্টিনোপল নির্বাসিত হলে গ্রীস স্থায়ীভাবে সাধারণতন্ত্রী রাষ্ট্র হয়। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের সদস্য পদ অতঃপর নানা উত্থান পতনের পর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ১৯৭৪ সালে গ্রীস প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হয়। খ্রীষ্টপূর্ব ৫ম থেকে খ্রীষ্টপূর্ব ২য় শতাব্দী পর্যন্ত গ্রীস উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে উঠে। অথচ সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের গ্রীসই সাম্প্রতিক সময়ে কাঁদে অর্থনৈতিক মহাসংকটের যাতাকলের ফাঁদে পড়ে। গ্রীসের আছে সোনালী অতীত ইতিহাস, নেই শুধু অর্থনীতি। বিশ্বব্যাপী আলোচিত স্বরণ কালের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের ঘটনা একটু শেয়ার করছি। ২০১০ সাল থেকেই গ্রীসের অর্থনৈতিক সংকটের সূত্রপাত। ২৯ লাখ লোকের পেনশনের পরিমান শতকরা ৪৫ ভাগ কমানো হয়, ওগঋ এর পরামর্শ অনুযায়ী এবং ঋণের পরিমাণ ৩২০ বিলিয়ন ডলার যা কিনা জিডিপির শতকরা ১৮০ ভাগ। অথচ কিছুদিন আগের এই ঋণের পরিমান ছিল জিডিপির ৬০ ভাগ অর্থাৎ কৃচ্ছতা সাধন করেও তারা ঋণের পরিমাণ কমাতে পারেনি। অর্থনৈতিক সংকটের কারনে তাদের সপ্তাহব্যাপী ব্যাংকগুলো বন্ধ ছিল এবং ১০ লাখ লোক চাকরি হারিয়েছেন। এই মুহুর্তে কর্মক্ষম গ্রীসবাসীর চার ভাগের এক ভাগ বেকার এবং ২লাখ দেশত্যাগ করেছে। যাদের অধিকাংশই দেশে প্রকৌশলী, ডাক্তার অথবা আইটি সেক্টরে কাজ করতেন। উন্নত বিশ্বের দেশ হিসেবে গত ৩০শে জুন দেশটি Bankrupt বা দেউলিয়া হিসেবে পরিগণিত হয়। কারণ দাতাদের ঋণের কিস্তি তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধে অসমর্থ হয়। ইতোঃপূর্বে ২০০১ সালে আর্জেন্টিনা, জিম্বাবুয়ে ও সোমালিয়া দেউলিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। শুধু গ্রীস নয় কোন না কোন ভাবে আমরা সকলেই সারা পৃথিবীজুড়ে আজ ঋণের আবর্তে আপর্তিত ও জর্জরিত। দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে ছোট ছোট অক্ষরে যে শর্তগুলো জুড়ে দেয়া হয় তার সংক্ষিক্ত নাম সুদ। যা পরিশোধের পথ অত্যন্ত কঠিন। ঋণ গ্রহীতা হতে পারে এক বা একাধিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশ। শর্ত সাপেক্ষে সুদ কারো আসলে মাফ থাকে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিস্তির মাধ্যমে সুদে-আসলে লোন ছাড়া ব্যাংককে তা পরিশোধ করতেই হয়। আর কিস্তি সময়মত পরিশোধ না করলে কি পরিস্থিতিতে পড়তে হয় আজকের গ্রীসই তার একটি জ্বলন্ত বা বাস্তব উদাহরণ। মূলত ১৯৪৪ সালের বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাঠামোগত সাহায্য করে শর্ত সুপাশিমালার ভিত্তিতে যেমন-গ্রহীতা দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা, সরকারী ব্যয় হ্রাস করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ সেবামূলক খাত ও কৃষি খাতে ভর্তুকি হ্রাস করা প্রকৃত মজুরি হ্রাস ও ঋণ সংকোচন, দাম নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার, জনসেবামূলক খাত, কৃষি উপকরণ, বিদ্যুৎ, রেলওয়ে বেসরকারীকরণ, উঁচু কর ও সুদের হার বাড়ানো, আমদানী অবাধ করা, মুক্তবাজর প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি। গ্রীসের বামপন্থী সরকার অনেক শর্ত মেনেও সেখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি। বেশ কয়েকবার কৃচ্ছতা সাধন কর্মসূচী পার্লামেন্ট পাস হলেও তাদের অর্থনৈতিক ধস অব্যাহত থাকে।এদিকে গ্রীস সরকার এর প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস আন্তর্জাতিক ঋণ দাতাদের চুড়ান্ত সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ৫ জুলাই ২০১৫ গণভোটের ঘোষণা দেয়। গণভোটে না ভোট বিজয়ী হয়। এ গণভোটের বা ন্যায়ের লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশটির জনগণ ঋণ দাতাদের দেয়া কঠোর কৃচ্ছতা সাধনের শর্ত সম্বলিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব (বেইল আউট) প্রত্যাখান করে। বেইল আউট হলো কোন দেশকে দেয়া আর্থিক সহায়তা কর্মসূচীর নাম। এ ব্যবস্থায় পুরোনো হিসাব থাকলে নতুন অর্থ সহায়তা দেয়ার আগে সেই পুরোনো ঋণ পরিশোধ করার শর্ত থাকে, আবার তা না করেও নতুন ঋণ গ্রহণ করা যায় (যদি দাতারা চায়)। বর্তমানে গ্রীসকে তৃতীয় বেইল আউট প্যাকেজ দিয়ে সহায়তাকারী তিন পক্ষ IMF, ECB এবং Troika নামে পরিচিত। দেশটির পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে পার্লামেন্টে সর্বশেষ অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব ঋণদাতাদের কাছ থেকে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো অনুমোদন করে। ঋণের সাগরে ভাসাগ্রীস ঋণের ভারে তলিয়ে যাবে অথবা ভেসে থাকবে অথব শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে তা কিছুদিনের মধ্যে পরিস্কার হয়ে যাবে। আমরা বিশ্ববাসী চাই তাদের সুদিন ফিরে আসুক, যুবকদের কর্মসংস্থান হোক এবং বৃদ্ধদের পেনশন বাড়–ক। ব্যাংকগুলো সর্বদা চালু থাকুক, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উজ্জ্বল জ্যোতিস্ক আলোকিত ও কিংবদন্তি মহান ব্যক্তিদের অমর, অক্ষয়, অবিনশ্বর আত্মা সর্বদা শান্তি পাক এবং আপামর জন সাধারণ (Citizen and Subjects) ভাল থাকুক অর্থাৎ পুরাতন ঐতিহ্য ফিরে পাক-সেই আশায় পথ চেয়ে রইলাম। এত গেল গ্রীসের কথা। আমাদের স্বপ্নের বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ইতোঃপূর্বে বিভিন্নœ কথা-বার্তা হয় এবং ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার অর্থ নেবে না বলে পরিস্কার জানিয়ে দেয়। আবারো আরেক প্রভাবশালী ঋণদাতা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে ঊঈঋ এর ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা লাগবে না কলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণে বর্তমান সরকারের এক নম্বর চ্যালেঞ্জ বৈরী আবহাওয়া, প্রমত্ত পদ্মার ভয়াল ভাঙ্গন, সরু বালুকাময় উপেক্ষা করে রাত-দিন অর্থাৎ তিন শিফ্টে অতি দ্রুত কাজ চলছে। বর্তমানে নদীর মধ্যে কয়েকটি পিলার এখন দৃশ্যমান। নদীর দুইপাশে সংযোগ সড়কের কাজ ও প্রায় শেষের দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে আধুনিক ও প্রযুক্তির স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে এক সময়ের নিঝুমপুরী মংলা বন্দর দীর্ঘ ১৮ বছর লোকাসানের বোঝা টানার পর এ বন্দর হতে যাচ্ছে এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান। শিল্প নগরীর খুলনাসহ নতুন আর এক বাংলাদেশ। দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে নব দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্চে। পদ্মা সেতুর জন্য আমাদের প্রাণ প্রিয় জন্মভূমি, পিতৃভূমি ও মাতৃভূমি অর্থনৈতিক দিক থেকে সিঙ্গাপুরের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ব্যয়ে আগামী বছরের শুরুতেই পদ্মা সেতুতে রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের চেয়ে মংলা বন্দরের দুরত্ব ৯৫ কিঃমি কম অর্থাৎ কাছের বন্দর। এ জন্য ভারত,নেপাল ও ভূটান পণ্য আমদানী-রপ্তানীতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। মুন্সিগঞ্জের লৌহ জন উপজেলার মাওয়া ও শরিয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে চার লেন বিশিষ্ট ৬.১৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ এবং ২২ মিটার চওড়া পদ্মা বহুমুখী সেতু বিদেশী সাহায্য ছাড়া নিজস্ব অর্থনীতি দিয়ে এতবড় বিশাল কাজ যে করা যায় তা দেখতে এখন পদ্মার পাড়ে মানুষের ঢল। আর বেশি দিন নয় ২০১৮ সালের যে কোন দিন পদ্মা সেতুর দ্বার খুলে দেওয়া হবে। আর সেই দিনটি হবে ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন।

লেখকঃ সহকারী প্রধান শিক্ষক, ফরক্কাবাদ এন.আই স্কুল এন্ড কলেজ, বিরল, দিনাজপুর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: