সর্বশেষ আপডেট : ১২ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বক্তব্যে কমলগঞ্জে তোলপাড়

01-daily-sylhet-kamalgonj-news2-1কুলাউড়া অফিস:: মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলামের সম্প্রতি দেয়া এক বক্তব্য নিয়ে কমলগঞ্জসহ পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিকৃত, পবিত্র মসজিদ ও সনাতনীদের গণেশ পূজা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। তার এ বক্তব্যের একটি একটি অডিও গত ক’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় সেটি নিয়েই চলছে এখন ব্যাপক সমালোচনা। ৪২ দিন আগে ১৭ অক্টোবর ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল অডিওটি। শিক্ষা কর্মকর্তার এ বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষক সমাজে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

উল্লেখ্য যে, গত ৫ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম। ক্রস ভিজিটের আলোকে বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন কমলগঞ্জের ইউএনও, জেলার সবক’টি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ। বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে কমলগঞ্জের শমশেরনগর সুইস ভ্যালীতে পর্যালোচনা সভা করেন। সভায় কমলগঞ্জ ছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী, কমলগঞ্জের ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষকতার পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত বেশ ক’জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কমলগঞ্জের একজন শিক্ষক ও কুলাউড়ার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান। জবাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগকে নানাভাবে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিকৃত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র গণেশ দেবতাকে নাড়ু খাওয়ানো নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। মন্তব্য করেন পবিত্র মসজিদ নিয়েও। শিক্ষকদের চাঁদার টাকায় আয়োজিত ভূরিভোজনে অংশ নেয়ার প্রাক্কালে অনুষ্টিত সেই আলোচনা সভায় উপস্থিত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর কেউই চাকরি হারানোর ভয়ে তখন প্রতিবাদ বা সমালোচনা করেননি। কিন্তু তার ওই বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয় কমলগঞ্জ তথা মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে। কমলগঞ্জের শিক্ষক সমাজে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সভায় উপস্থিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা কেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি তা নিয়ে শিক্ষক সমাজেই দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে কয়েকজন শিক্ষক এ ঘটনার তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, ওনার বক্তব্য ও মন্তব্য শুনে মনে হয়েছে বিতর্কিত কথা বলে বিতর্কিত হতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। তাই ক্ষমার অযোগ্য এ ধরনের অসংলগ্ন কথা বলেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান বলেন, ওনার বক্তব্যটি আমি শুনেছি। সত্যিই দুঃখজনক। শিক্ষিত সমাজ গড়ার কারিগর হয়ে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে পুরো শিক্ষক সমাজ লজ্জিত। এব্যাপারে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে দাবি উঠেছে। সেটা সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখা দরকার।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গকুল চন্দ্র দেবনাথ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি এই ধরনের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য করিনি। এটা পরিকল্পিত অপপ্রচার। যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপনার বক্তব্যের অডিওতে স্পষ্ট শোনা গেছে এ ধরনের বক্তব্য ও মন্তব্য করতে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক তাহমিনা খাতুন বলেন, এ ধরনের কোনো কিছু আমি শুনিনি। এ ধরনের বক্তব্য বা মন্তব্য তিনি করার কথা নয়। যদি করে থাকেন তা হলে বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: