সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাহাড়ি বালি-পাথরে গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি

1-daily-sylhet-0-7জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, তাহিরপুর :: সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে বয়ে আসা প্রায় ৪০টি ছড়ার মাধ্যমে ২ যুগের ও বেশি সময় ধরে বালি, পাথরের আগ্রাসনে ফলে গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলী জমি, মসজিদ, স্কুল। ওই সব ছড়া দিয়ে প্রায় বার মাস ও নদী দিয়ে বর্ষার সময় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালি, পাথরের আগ্রাসনের কারণে অর্ধশত গ্রাম, স্কুল, ফসলী জমি নদীতে বিলীন ও প্রায় ২৩টি নদী মরু ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে এর পরিমাণ। বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের আত্মঙ্ক থাকে পাহাড়ে বসবাসকারী ৫ শতাধিক আদিবাসী পরিবার যেন দেখার কেউ নেই।

জানা যায়-সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত এলাকা তাহিরপুর, বিশ্বাম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, ধর্মপাশা, জেলা সদরের ডলুরা, নারায়ণতলা দিয়ে ভারত থেকে বয়ে আসা বিভিন্ন ছড়া ও নদী মাধ্যমে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালু, পাথর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পুকুর ভরাট, স্কুল, ফসলী জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে মরু ভূমিতে পরিণত করছে। অন্য দিকে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কারণে নদী ভাঙনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নদী পাড়ে ঘর-বাড়িহারা মানুষগুলো পথে বসেছে। তাহিরপুর উপজেলার পাঁচশোলা, বিকিবিল, লালকুড়ি, লোভার হাওর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরসহ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার খাশিয়ামারা, সোনালী তলা, টিলাগাঁও, মহব্বতপুর, ছাতক উপজেলার ইছামতি সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন নদী ও হাওরগুলোতে চৈত্র মাসে ১০-১৫ হাত পানি থাকতো সেখানে বালুর চড়ে পরিণত হয়ে নদীর নাব্যতা কমে নদীর দিক পরিবর্তন হচ্ছে।

আরো জানা যায়, ২০০৮ সালের ২০শে জুলাই অতি বৃষ্টিতে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে কালো পাহাড় নামক স্থানটির অংশ পাহাড় ধসে ও পাহাড়ি ঢলে চানপুর সীমান্তের ঘর-বাড়ি হারায় শত শত পরিবার। পাহাড়ের পাশাপাশি বসবাসকারী পরিবারগুলে বৃষ্টি হলেই থাকে পাহাড় ধসের আতঙ্কে।

তাহিরপুর সীমান্তের নদী জাদুকাটাসহ সীমান্তবর্তী কড়ই গড়া ছড়া, ছিন্তু ছড়া, রাজাই ছড়া, গারো ছড়াসহ ২০টি ছড়া দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানির সঙ্গে আসা মরাগুরা মাটি, পাথর, বালি আসছে ফলে প্রাথমিকভাবে পরিবেশ বিপর্যয় গঠিয়ে ভাঙন ও বালির নিচে চাপা পড়ছে সীমান্ত স্কুল, মসজিদ, মন্দির, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, পুকুর, স্থাপনা, বিজিবি ক্যাম্পসহ ফসলী জমি। আশপাশের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন নিরুপায় হয়ে পাহাড়ি ঢলের আতঙ্কের মাঝে বসবাস করছে। ফসলী জমির উপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবারগুলো সারাক্ষণেই রয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে। প্রবাহিত ঢলের কারণে তাহিরপুর উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম নদীসহ ১২টি নদী ও পাঠলাই, বৌলাই, রক্তি নদী নাব্যতা হারাচ্ছে প্রতি বছর। বালু, পাথর সরাতে আজ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেয় হয় নি। ফলে বালুতে ভরে যাওয়া পাহাড়ি নদীগুলোর পানির ধারণ করার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পাহাড়ি নদীতে পানি অল্পতেই ভরে যাওয়ায় পানি ক্রমাগত ভাটির দিকে নেমে আসায় বন্যার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে চেয়ারম্যান, মেম্বার, ব্যবসায়ী, স্থানীয় আদিবাসী সঙ্গে আলাপ কালে জানা যায়-সুনামগঞ্জ জেলা সীমান্তে ২ যুগের বেশি সময় ধরে মেঘালয় পাহাড়ের প্রায় ৪০টি ছড়া দিয়ে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালি, পাথরের আগ্রসন বন্ধ না হওয়ার কারণে ছোট ছোট ছড়াগুলো ক্রমাগত পাহাড়ি ঢলে এখন বড় হয়ে গুড়া মাটি, বালি, পাথরের স্তর গিয়ে পড়ছে আমন, বোরো দু’ফসলী উর্বর জমিতে। ক্রমাগত পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পাড়ের বসবাসকারী মানুষগুলো গৃহ হারা হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে।

তাহিরপুর সীমান্ত এলাকা চানপুর, লাকমা, মাহারাম, ছাতক, দোয়ারা বাজার সীমান্তের খাশিয়ামারা, সোনালী তলা, বিশ্বম্ভরপুর স্বরূপগঞ্জ, গামারীতলাসহ সীমান্ত এলাকার কৃষকগণ জানান-ছোট বড় হাওরগুলোতে বোরো, আমন ফসলী জমিতে প্রতি কিয়ারে ১৮-১৯ মন ধান উৎপন্ন হতো বালি, মরা মাটি, পাথর আসার ফলে এখন উৎপাদনে অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী মিলে এর সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানালেও এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রদক্ষেপ নেয়া হয় নি।

তাহিরপুর সীমান্তের চানপুর বাজারের ডাক্তার আজিজুল ইসলাম জানান- প্রতি বছরেই পাহাড়ি ঢলে ছড়ার মুখগুলো বড় হচ্ছে ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কায় আছি আমরা। চানপুর বাজারটি বালু, পাথরের আগ্রাসনরে শিকার হচ্ছে। তাহিরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদী ভাঙন ও তাহিরপুর সীমান্তে বালুর পাথরের আগ্রাসনের স্থায়ী সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজনীয়।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান-সীমান্তের পাহাড়ি নদী ও ছড়ার মাধ্যমে বালি, পাথরের আগ্রাসন সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান, ভারতীয় মেঘালয় পাহাড় থেকে ছড়ার মাধ্যমে বালি, পাথর তাহিরপুর সীমান্তে আগ্রাসনের কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান করা খুবই প্রয়োজন। প্রাথমিক ভাবে এই সব পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা পানির সঙ্গে পাথর, বালি আগ্রাসন বন্ধ করা খুবই কঠিন। তবে নেমে আসা প্রতিটি পাহাড়ি ছড়ার সঙ্গে মাঝারি আকৃতির নালা তৈরি করে নদীর সঙ্গে প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করে দিলে ফসলী জমির ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: