সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উচ্চশিক্ষার নামে অনিয়ম রুখবে কে

edudailysylhetড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু ::
বাংলাদেশে প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আসন অনেক কম। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশে মানসম্মত শিক্ষার সমপ্রসারণের লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন করা হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে বর্তমানে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রয়েছে ৯৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও সরকার অনুমোদিত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাড়াও কিছুদিন পূর্বে পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসসহ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়।

অবৈধভাবে পরিচালিত এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতারিত হয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নেই। আর রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা উপাচার্যের স্বাক্ষর ছাড়া সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে না, এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ উপাচার্যের সই করা সার্টিফিকেটও অবৈধ হবে। কারণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্জিত ডিগ্রির মূল সার্টিফিকেটে উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর থাকতে হয়।

মূলত দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই বিভিন্ন সময়ে দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনাসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের ‘বিশেষ ক্ষমতার জোরে’ অনুমোদন পাওয়ায় উচ্চশিক্ষার এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ করুণ দশা বিরাজ করছে। ইতোপূর্বে এমনও দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস বন্ধ ও উচ্ছেদের জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয় বা ইউজিসি কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হলেও ‘রহস্যজনক কারণে’ দীর্ঘ সময়েও তার কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারের নমনীয় অবস্থান তথা নমনীয় মনোভাবের কারণে একশ্রেণির অসাধু লোক উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফেরিওয়ালার ন্যায় দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য করার সুযোগ পেয়েছে। ফলে মনে প্রশ্ন জাগে, বাস্তবতার আলোকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে? আর এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি কি সত্যিকার অর্থেই কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করছে কিংবা পালন করতে পারছে? তবে আশার কথা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৩৮ ধারায় সরকার কর্তৃক একটি জাতীয়, স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও দীর্ঘদিনেও তা গঠন করা হচ্ছিল না। এখন থেকে এ আইনটি চূড়ান্ত হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হবে। এ কাউন্সিল দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাক্রিডিটেশন এবং বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বিভাগের জন্য পৃথক অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি গঠন করবে। পাশাপাশি সংস্থাটি অ্যাক্রিডিটেশন ও কনফিডেন্স সার্টিফিকেট প্রদানের শর্তও নির্ধারণ করবে।

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কনফিডেন্স সার্টিফিকেট বা ক্ষেত্র মতে অ্যাক্রিডিটেশন সার্টিফিকেট দেওয়া বা স্থগিত করা বা বাতিল করতে পারবে কাউন্সিল।এ কাউন্সিলের ক্ষমতা পর্যালোচনা করে বলা যায়, কাউন্সিল যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে এবং দুর্নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ না হয়ে নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে তা এদেশের উচ্চশিক্ষার ফেরিওয়ালাদের রুখতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে। যদিও সময়ই বলে দিবে, এ কাউন্সিল সত্যিকার অর্থেই সকল প্রকার প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে কিনা বা কাজ করছে কিনা। বলা বাহুল্য, শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড। আর দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই যদি প্রকৃত অবস্থা হয়, তাহলে সেই শিক্ষা দিয়ে কীভাবে এদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? এ বিষয়গুলো কি ইউজিসি, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়?

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি; অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: