সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পদোন্নতিতে ‘বিশে বিষ’

1480388777নিউজ ডেস্ক:: ‘বিশে বিষ’ কথাটা কোনো স্বীকৃত প্রবাদ নয়। প্রচলিত কোনো বাক্য নয়। তবে এ কথা দিয়ে লেখা কেনো? হ্যাঁ লেখার কিছু আছে বৈকি। প্রশাসনের সামপ্রতিক পদোন্নতির ক্ষেত্রে এরকম বাক্য ব্যবহার করে লেখার যৌক্তিকতা পাওয়া যায়।

পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডার বহির্ভূত অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তার মধ্যে থেকে মোট পদের ২৫ শতাংশ কোটা নির্ধারিত আছে। অর্থাত্ প্রশাসন ক্যাডারের ১০০ জন উপসচিব পদোন্নতি পেলে অন্যান্য ক্যাডার থেকে ২৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন। তবে পদোন্নতির যোগ্যতা ও শর্তাবলী পূরণ বাধ্যতামূলক। এরকম পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যাচের সমতা রক্ষার প্রচলিত বিধানও রয়েছে।

এবার ঘটেছে বিষ্ময়কর ঘটনা। যেসব কর্মকর্তা বিসিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ একুশতম ব্যাচ বলে পরিচিত সর্বশেষ এ ব্যাচের কর্মকর্তারা উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। মাঝখানে ২০তম ব্যাচের কর ক্যাডারের ২৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে একজনকেও পদোন্নতি দেয়া হয়নি। অথচ একুশতম ব্যাচের কাস্টমস ক্যাডার থেকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদোন্নতিতে অতিক্রান্ত বা সুপারসিট করা বা হওয়ার নজির আছে কিন্তু পুরো একটি ক্যাডার থেকে সকলকে উপেক্ষা বা অতিক্রান্ত বা বঞ্চিত করার নজির এবারই প্রথম সৃষ্টি হলো। তাই ২০তম ব্যাচের ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, তারা কী তবে কর্তৃপক্ষের চোখে বিষ! অথচ এই একটি মাত্র ব্যাচকেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যাচ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। মেধার দিক থেকে উন্নতদের এ ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হয়।

পদোন্নতির নানা প্রতিক্রিয়া: সোমবার দুপুর ১২টা হবে। সচিবালয়ে একজন কর্মকর্তার কক্ষে বসে পদোন্নতির বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলাম। এমন সময় তার মুঠো ফোন বেজে উঠলো। তিনি ধরলেন। ফোনটির স্পিকার আগে থেকেই অন করা ছিল। তাই অপরপ্রান্তের সব কথাই শোনা যাচ্ছিল। অপরপ্রান্তের নারী কণ্ঠে কান্নার রোল। আছড়ে পড়ছিল যেনো কর্মকর্তার টেবিলে। ‘বললেন আমার জন্য কিছুই করলেন না ভাই’। নারী কর্মকর্তা একজন মৃত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। কিংকর্তৃব্যবিমুঢ় পদস্থ কর্মকর্তাটি তাকে শান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করলেন এভাবে চার মাস পরে আবার পদোন্নতি হতে পারে তখন চেষ্টা করা হবে। কিন্তু নারীর কান্না ওই কর্মকর্তাকে এতটাই আবেগসিক্ত করছিল যে তিনি ক্রমেই বাকরুদ্ধ হয়ে এক পর্যায়ে ফোনটি কেটে দিলেন। নারীর শেষ কথাটি এরকম ছিল ভাই অপরাধ কী করেছি সেটিও যদি পারেন জানাবেন-তবে সন্তানদের বলে যেতে পারবো ‘আমি অপরাধী নই’।

একজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জেলা প্রশাসক ছিলেন তিনি পঞ্চমবারের মতো বঞ্চিত হয়ে এখনো উপসচিব। তার অধীনে চাকরি করা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এখন অতিরিক্ত সচিব। চাকরি আছে ৯ মাস। পরিবারের বাইরে আর কাউকে এ দুরাবস্থার কথা জানাতে চান না তিনি তাই নাম না দিতে অনুরোধ তার।

আরেকজন কর্মকর্তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আছেন। সত্ বলতে যা বুঝায় তার সবটাই তার মধ্যে। নিজের দাপ্তরিক কাজের বাইরে কোথাও তিনি যান না। তদ্বির তো দূরে থাক, তিনি দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে প্রশ্নপত্র জালিয়াতির অভিযোগে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ একদল শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে মাজায় দড়ি দিয়ে জনসম্মুখে ঘুরিয়েছিলেন। পরে তাদের থানাও দেয়া হয়। মামলাও হয়। কিন্তু স্বাক্ষী প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত খালাস পান ওইসব শিক্ষকেরা। এই কর্মকর্তার ভাগ্যেও পদোন্নতি জোটেনি।

দুঃখের ছুটি: গতকাল ছিল পদোন্নতির আদেশ জারির পরেরদিন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বঞ্চিত কর্মকর্তারা দপ্তরে আসেনি। কেউ কেউ এসে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাইরে এবারের পদোন্নতি নিয়ে বড় ধরনের ক্ষোভ-হতাশা তৈরি হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: