সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিকলে বেঁধে মাকে বন্দি

0008414_kalerkantho-16-12-28নিউজ ডেস্ক:: কক্ষটি অন্ধকার। বিদঘুটে গন্ধ কক্ষজুড়ে। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দরজা। ভেতরে ৬৫ বছর বয়সী মীরা দে। পায়ে তাঁর শিকল পরানো। খাটের সঙ্গে বাঁধা। বাইরে কোনো আগুন্তুকের কণ্ঠ শুনলেই মীরা বলে ওঠেন, ‘ইবা কন, কন আইস্যািদে, কিল্লা আইস্যািদে (এটা কে, কে আসছে, কী জন্য আসছে)। অ্যাই ভাত খাইয়ুম। অ্যারে দুঁয়া ভাত দে’। বাইরে থেকে কেউ তাঁর কথায় জবাব দেয়, কেউ দেয় না। এ কক্ষেই চলে তাঁর খাওয়াদাওয়া, প্রাকৃতিক কাজ।

রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরী মোহন বাড়ির বিধবা নারী এই মীরা দে। বাড়ির ওই কক্ষটিতে তিন মাসের বেশি সময় ধরে কাটছে তাঁর বন্দিজীবন। পায়ে শিকল পরিয়ে অন্ধকার ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন তাঁর সন্তানরা। প্রায় দেড়-দুই বছর ধরে এই বৃদ্ধা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিন মাস ধরে মীরাকে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে সচেতন প্রতিবেশীরা তাঁর সন্তানদের ওপর ক্ষুব্ধ।

প্রতিবেশীরা জানায়, মীরার মানসিক সমস্যা আছে; কিন্তু পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন কিংবা পাগল নন। তিনি প্রতিবেশী ও স্বজনদের চিনতে পারেন। ভাত খেতে চান, শিকল খুলে দিতে বলেন। ডাক্তারের কাছে যাবেন কি না জিজ্ঞেস করলে ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দেন। এ রকম নারীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হলে সুস্থ হয়ে উঠবেন। অথচ তাঁর সন্তানরা সেটি না করে তাঁকে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি অবস্থায় রেখেছেন ঘরের মধ্যে।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মীরা দের স্বামী বিরেন্দ্র দে মারা যান বহু বছর আগে। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে অঞ্জন দের দোকান আছে রাউজানে। কাঞ্চন দে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন কর্মসূত্রে। মীরার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দেড় বছর আগে মীরার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। অস্বাভাবিক আচরণের কারণে এর আগে কখনো শিকল পরিয়ে রাখা হয়নি। কিন্তু তিন মাস ধরে তাঁকে দুর্গন্ধময় একটি কক্ষে শিকল পরিয়ে তালাবদ্ধ রেখেছেন তাঁর সন্তানরা।

প্রতিবেশী এক প্রতিবাদী তরুণ বলেন, ‘মীরার মানসিক কিছু সমস্যা থাকলেও তিনি সব কিছু চেনেন, আমি ডাক দিলে আমার ডাকে সাড়া দেন, খেতে চান, শিকলপরা থেকে মুক্ত হয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে চান। চিকিৎসা পেলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’ এই প্রতিবাদী তরুণের মা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বাইরে থেকে এসেছি বুঝলে আমাকে ভাত দিতে বলেন। সাধ্যমতো চেষ্টা করি তাঁকে খাবার দিতে। তাঁর ছেলেরা তাঁকে মেডিক্যালে না নিয়ে কেন শিকল পরিয়ে রেখেছেন বুঝছি না, সব সময় শিকল খুলে দিতে বলেন মীরা। খারাপ লাগে তাঁর জন্য।’ প্রতিবেশী রত্না চৌধুরী ও কমলা চৌধুরী বলেন, ‘শিকলপরা থেকে মুক্ত হতে আর্তনাদ করেন বৃদ্ধা মীরা।’

মীরার ছেলে অঞ্জন দের স্ত্রী শিবু দে বলেন, ‘দেড় বছরেরও অধিক সময় ধরে শাশুড়ি অসুস্থ। ওষুধ খেতে চান না। ঝোঁপ-জঙ্গলে চলে যান। তাই তাঁকে গত তিন মাস ধরে শিকল পরিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। সেই ঘরেই তাঁকে খাবার দেওয়া হয়। তিনি প্রকৃতির ডাকে সারা দেন সে ঘরেই।’

আরেক ছেলে কাঞ্চন দে বলেন, ‘মানসিক সমস্যার কারণে তাঁকে (মাকে) কিছুদিন ধরে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা করাব।’

রাউজান পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট দিলীপ চৌধুরী বলেন, ‘মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ায় ঘরের মধ্যে এক মহিলাকে আটকে রাখার কথা শুনেছি। বিষয়টি আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখব।’ এদিকে এ প্রতিনিধি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মীরার ছবি তোলার সময় তিনি মুখ ঢেকে রাখেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: