সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সড়কের নীরব কান্না যেন কেউ শুনছে না !

1-daily-sylhet-0-10মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার জনতার বাজার থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার একমাত্র ভাইপাস সড়কের নীরব কান্না যেন কেউই শুনছে না। ওই সড়কের আথানগিরি থেকে গজনাইপুর পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষদের। সড়কটি যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নীরবে-নিভৃতে কাদঁছে গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটি। সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচের আস্তর ও ইটের খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খানা-খন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তিত পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ যাত্রীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় সড়কের অনেকস্থানে বড় বড় গতের্র সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায়ই উক্ত সড়কে যানবাহন ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। সড়কের দুরাবস্থা দেখার যেন কেউ নেই? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মৌলভীবাজারের সীমান্ত এলাকা আথানগীরি ও নবীগঞ্জের শতক, তারালিয়া, লামরোহ, মাহমদপুর, গজনাইপুরসহ ১০/১২টি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের জন্য একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। জ¦ালাময়ী বেহাল দশায় ঝাঝরা হয়ে গেছে সড়কের মায়াবী বুক। দূর্ভাগা মানুষের আকুতি-মিনতি, ফরিয়াদ কোন কিছুই যেন কানে ডুকছেনা কানওয়ালা কর্তা বাবুদের। নাকি খাঁটি সরিষার তৈল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন তারা এ হিসাবও যেন বুঝা বড় দায়। বিশেষ করে ৬/৭টি গ্রাম থেকে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন দিনারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও দিনারপুর কলেজে যাওয়া আসা করে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এই সড়কের বেশীর ভাগ অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। unnamed-3

কিন্তু প্রশ্ন হলো কর্তা বাবুদের কারোও কি কখনও এসব সড়ক দিয়ে চলাচলের সৌভাগ্য হয়না..? নাকি বড় বড় দামী গাড়ি দিয়ে দাপিয়ে বেড়ান বলে এসব ভাঙ্গা ও মরন ফাঁদ নজড়ে আসেনা তাদের। দূর্ভোগের শিকার স্থানীয় পথচারী, শিক্ষার্থী ও যাত্রী সাধারনের অভিযোগ নির্বাচনের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা ভোট আদায় করেন, কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আর জনগনের কথা মনে থাকেনা।

সুন্দর আলী নামের এক বৃদ্ধ রিক্সা চালক বলেন, “ভাতিজা আমি গরীব মানুষ, সংসার চালানির লাগি রিক্সা চালাই কিন্তু আমরার এই সড়কের অবস্থা খারাপ অওয়ায় রুজি রুজগার কম অয়। ৫ মিনিটের রাস্তা সময় লাগে আধা ঘন্টা।

দিনারপুর কলেজের একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী জানায়, “আমরা শতক থেকে প্রায় ২/৩ কি.মি. জায়গা পায়ে হেঁটে কলেজে যাই। কারণ চলাচলের প্রধান এই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে যে যেখানে যেতে ২০/৩০ মিনিটে কলেজে পৌঁছার কথা সেখানে লেগে যায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময়। সড়কের দশা বেহাল হওয়ায় আগের মতো এখন গাড়ী পাওয়া যায় না তাই অপেক্ষা করে সময় নষ্ট না করে আমরা পায়ে হেঁটেই কলেজে যাই। হেঁটে গিয়ে অনেকটা ক্লান্ত হয়ে যাই যার কারণে ক্লাসে তেমন মনযোগ থাকে না। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়তে হয় পরীক্ষার সময়, কারণ পরিক্ষার নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়া যায় না। তাই যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”unnamed-2

স্থানীয় জনতার বাজার সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের ম্যানাজার লুৎফুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। যাত্রীদের যাতায়েতে চরম ভোগান্তী পোহাতে হয়। গাড়ীর মালিকরা চালকদের ওই সড়ক দিয়ে গাড়ী না চালানোর জন্যও নির্দেশ দেন বলে উল্লে করে বলেন, প্রয়াত তৎক্ষালিন সমাজ কল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী নবীগঞ্জের জনতার বাজার টু মৌলভীবাজার সড়কটিকে আঞ্চলিক মহা সড়ক করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে ছিলেন। কিন্তু সড়ক টি অবস্থা এখনও বেহাল।

এদিকে গত বুধবারে দিনারপুর এলাকায় ঘঠেছে এক করুন ঘটনা। ওই দিন বিকালে দিনারপুর এলাকার বাসু নামের লোক হঠাৎ এক ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে মৌলভীবাজার হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সড়কের অবস্থা ভাল হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হলে করুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটতনা বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। বাসু বাবুর যেদিন মারা যান ওদিন , হবিগঞ্জ সিলেট সংরক্ষিত আসনের এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ওই এলাকায় গিয়েছিলেন একটি পোগ্রামে। বাসু বাবু তখন একটি রিক্সা দিয়ে নিজে ঠেলে এমপি কেয়া চৌধুরীকে গ্রামে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ওই দিন রাতেই এমপি কেয়া চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে #বাসু কাকা আমাকে ক্ষমা করবেন শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন।

এতে তিনি লিখেন, “জীবনের রঙ্গমঞ্চে কত না লীলা খেলা, গত ১১ই নভেম্বর, দেওপাড়া গ্রামের নমসুদ্র পাড়ায় গিয়েছিলাম। নমসুদ্র পাড়ার যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল অবস্থা দেখাতে, আমাকে সেদিন নিয়ে গিয়েছিলেন, গ্রামের মুরব্বি, বাসু কাকা। পেশায় তিনি মৎসজীবী। দূর-দুরান্ত থেকে মাছ ধরে বাজারে তা বিক্রি করতেন। জীবন-জীবিকা এখানকার সকলেরেই এক রকম।

দিনারপুর পরগণার পাহাড়ি ছড়ার পানিতে, বছরের ১২টি মাসই প্লাবিত থাকে, নমসুদ্র পাড়ার এই সড়কটি। এই সড়কে উন্নয়নের কাজ কখনই হয়নি। গাড়ি তো দুরের কথা, ঠিকভাবে পায়ে হেটেও চলাচল করা যায়-না এখানে। বাসু কাকা, একটি রিক্সা জোগাড় করে, নিজে ঠেলে, সেদিন তার গ্রামে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।সন্ধ্যায়, সিলেট থেকে ফেরার পথে খবর পেলাম- বাসু কাকা আর নেই। আজ সকালে, প্রচন্ড বুকের ব্যথায়, কাকা প্রয়াত হয়েছেন। খবরটা শুনেই মনটা ভীষন খারাপ হয়ে গেছে। বাসু কাকা আমাকে ক্ষমা করবেন।”

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: