সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শাবিতে ছাত্রলীগ কর্মীসহ ৮ জন আটক : ১৬ ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার

dsc_0783শাবি প্রতিনিধি ::
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ডিভাইস সরবরাহকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৮ জন আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ক্যালকুলেটরে মোবাইলের সিম লাগানো ১৬ টি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ইশরাত ইমতিয়াজ হৃদয় এবং শাবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং ও টি ট্যাকনোলজির ছাত্র আল আমিন। তাদের দুজনেরই বাড়ি বগুড়া জেলা। ওই দুজনকে আটকের পর আরও ৫/৬ জন পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। শনিবার দুপুরে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কোতোয়ালি থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার নূরুল হুদা আশরাফী। তিনি বলেন, আটককৃত হৃদয় ও আল আমিন বগুড়ার গুগল নামের একটি কোচিং সেন্টারের সাথে সম্পৃক্ত। সেই কোচিং সেন্টার থেকেই মূলত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে এই ডিভাইসগুলো পৌঁছে দেওয়া হতো। প্রতিটি ডিভাইস ৫-৬ লাখ টাকায় সরবরাহ করত এই সরবরাহকারীরা। অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৬টায় কুমারগাও বাস স্ট্যান্ড এলাকা তেকে জালালাবাদ থানাপুলিশ ৬ জনকে আটক করে। এর মধ্যে ৪জন পরীক্ষার্থী, যারা ওই বাসে আসছিল, একজন ওই কোচিংয়ের শিক্ষক কিন্তু সেই প্রকৃত হোতা, সে-ই ওই ডিভাইসগুলো দিয়ে থাকে।

dsc_0771আবাসিক হল থেকে কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে (হল থেকে) নিয়ে আসা হয়েছে। এখন তদন্ত চলছে। এ মুহূর্তে আমরা তথ্য দিতে চাচ্ছি না। কতজন আটক হয়েছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে ৬ জন আর পরে ২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষার্থী ৫ জন, যাদের মধ্যে একজনকে হল থেকে আটক করা হয়েছে। একজন শাবির, দুইজন বাইরের। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাইরে থেকে ৪ জন এবং হল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত ইমতিয়াজ হৃদয়।
বিশ্ব বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মী এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পিকে আটক করা হয়। পরে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম তার অনুসারী বাপ্পিকে জালালাবাদ থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

অপরদিকে একই অভিযোগে বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায় সমর্থিত নজরুল ইসলামের অনুসারী ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিনকে শাহপরান হলের ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে আটক করলেও জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন অস্বীকার করেন। জালালাবাদ থানার ওসি আখতার অস্বীকার করলেও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে হল থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন তদন্ত চলছে। এ মুহূর্তে আমরা তথ্য দিতে চাচ্ছি না।
ডিভাইস সরবরাহকারী চক্রের মূল হোতাকে খুজছে পুলিশ : বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের ডিভাইস সরবরাহকারী চক্রের মূল হোতাকে খুঁজছে পুলিশ। বগুড়ার গুগল কোচিং সেন্টারের সহকারী পরিচালক আরিফ অরফে তুহিন অরফে জিহান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান সিলেট জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন।

গুগল কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম : গুগল কোচিং সেন্টারের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পন্থায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার নামে তাদের সাথে চুক্তি করা হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন থেকে শুরু করে ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্ন উত্তর পৌঁছে দেওয়া এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ৫-৬ লাখ টাকা গুনতে হতো। এই ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডিভাইসগুলো সরবরাহে চারটি স্তরে কাজ করতেন গুগল কোচিং সেন্টারের প্রতিনিধিরা । প্রথম স্তরের কাজ হলো শিক্ষার্থী সরবরাহকৃত দ্বিতীয় স্তরের কাজ প্রশ্ন সংগ্রহ করা, তৃতীয় স্তরের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা এবং চতুর্থ স্তরে ওই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো।

সহকারী পুলিশ কমিশনারের অভিযান : কোতোয়ালি থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার নুরুল হুদা আশরাফী জানান, আমাদের কাছে তথ্য ছিল অনেক দিন ধরে এই চক্র শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতির চেষ্টা করছে। এমন তথ্য পাওয়ার পর থেকেই আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করা শুরু করে। আমরা খবর পাই, বগুড়া জেলার গুগল নামের একটি ভর্তি কোচিং সেন্টার এই কাজের সাথে জড়িত। গুগল কোচিং সেন্টারের সহকারী পরিচালক আবির ওরফে তুহিন ওরফে জিহান বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ফরম তারা পূরণ করে থাকেন। ফরম পূরণের আড়ালে তারা ভর্তি জালিয়াতিসহ শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে নকলে সহযোগিতা করেন। পুলিশের কাছে খবর আসে শাবির বি ইউনিটে পরীক্ষা দিতে এই নকলবাজ পার্টি সিলেট চলে এসেছে। তিনি আরও জানান, মূলত চার ভাগে এই চক্র কাজ করে। প্রথম টিম শিক্ষার্থীদের সংগ্রহ করত, দ্বিতীয় দল প্রশ্ন সংগ্রহে জড়িত, তৃতীয় দলটি প্রশ্ন সমাধানে কাজ করে আর চতুর্থ দলটি এই প্রশ্নের সমাধান টেকনোলজির মাধ্যমে তাদের কাছে প্রেরণ করত।

আশরাফি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ওই চক্রের মূল দুই হোতাকে গ্রেফতার করি। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত ইমতিয়াজ হৃদয়। হৃদয় গুগল কোচিং সেন্টারে নিয়মিত ক্লাস নেয়। ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি হৃদয় প্রথম টিমের প্রধান হিসেবে কাজ করত। অর্থাৎ, শিক্ষার্থী সংগ্রহ করত। অন্যজন শাহজালাল বিশ^বিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। ফুড অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থীর নাম আল আমিন। সেও প্রথম টিমের সদস্য। শিক্ষার্থী সংগ্রহের সাথে সেও জড়িত ছিল। আল আমিনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। ডিভাইসগুলো তারা সরবারহ করবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাদের আটক করি।

তারা প্রত্যেক ছাত্রের কাছে তারা ৫-৬ লাখ টাকা নেয় এসবের বিনিময়ে। তবে কেউ যদি পাঁচের অধিক শিক্ষার্থী জোগাড় করে দিতে পারে, তবে তার জন্য ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা ছিল। সেক্ষেত্রে তারা আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা দিয়ে এ কাজ করে দেয়।
তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাঁরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়সহ আরো বেশকিছু বিশ্ব বিদ্যালয়ে তাঁরা সফলতার সাথে এ কাজ সম্পন্ন করেছেন।
এদের কেউ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততা আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এরকম কোনো তথ্য নেই।
এ সময় জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরা মূলত জালিয়াত চক্র। তারা বিভিন্নভাবে ছাত্রদেরকে প্রতারিত করে থাকে।

এছাড়া হৃদয় ও আল আমিনকে ছাড়া অন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আরো পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান আশরাফী। তবে জিহান ওরফে আবীর ওরফে তুহিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে।
ডিভাইসগুলো পরীক্ষার্থীদের কাছে বিতরণ করার আগেই চক্রটিকে ধরে ফেলায় তাদের পুরো পরিকল্পনাটিই নস্যাৎ হয়ে যায়। তথ্যের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন ধরেই পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। যা শনিবার সকালে সফলতার মুখ দেখে।
অন্য শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা নেয়া হয়েছে। তারা প্রতারিত হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরা সবাই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

হল থেকে ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে প্রশ্নটা কিভাবে যায় এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ডিভাইসটা যাদের কাছ থেকে নিয়ে যাবে তাঁরা শিখিয়ে দেবে কীভাবে এটা বাইরে পাঠানো যায়? হলে ঢোকার সাথে সাথে প্রশ্নপত্র বন্টনের পরপরই কোনো সোর্সের মাধ্যমে তা বাইরে চলে আসবে। বাইরে আসার পর তাদের প্রশ্নপত্র সলভ টিমের লোকগুলো তা সমাধান করে তারা সিমের মাধ্যমে ফিরতি মেসেজ পাঠাবে । যা ইনবক্সে বাংলা উত্তর আসবে। প্রথমে এনসার তারপর ইএক্সপি চাপ দিলে সরাসরি মেসেজ আকারে উত্তর চলে আসে শিক্ষার্থীদের কাছে। এনসার বাটনে মোবাইল অন হয়। এটাতে কোনো কল করা যায় না। শুধু বাইরে থেকে মেসেজ আসবে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা হবে কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে মামলা করা হবে বলে জানান জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে এ ইউনিটের ও বিকেলে বি ইউনিটের পরীক্ষা হয়। এ ইউনিটের ৬১৩টি আসনের বিপরীতে ১৮ হাজার ৪৮৭ জন এবং বি ইউনিটে ৯৫০টি আসনের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৫৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: