সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভিসি বিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ : ৪২ হাজার শিক্ষার্থী বিপাকে

1413445652শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ::

ভিসিবিহীন ১৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এমন ঘোষণার পর সেখানে অধ্যয়নরত প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ভর্তি হওয়ার সময় ভিসি আছে কী নেই, সেটি দেখে ভর্তি হয়নি। এটা দেখার দায়িত্ব ইউজিসির। অন্যদিকে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় গণমাধ্যমে পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভিসি নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিলেও সরকারই নিয়োগ দিতে দেরি করছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এমন বিজ্ঞপ্তি তাদের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারও সনদ অবৈধ বলার এখতিয়ার ইউজিসির নেই। তারা কেবল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার নিয়োগের চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এখতিয়ারের বাইরে ইউজিসির এই বিজ্ঞপ্তি খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বাধ্য হয়ে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে সুর নরম করেছে সংস্থাটি। বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, ভিসিবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষর করেন। যখন ভিসি নিয়োগ হয় তখন তিনি সেখানে স্বাক্ষর করেন। তার মানে সনদ অবৈধ না। ইউজিসি কেন এই সনদগুলোকে অবৈধ বলেছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভুল বুঝছে। তারা ভাষাগত সমস্যায় পড়েছে। ইউজিসির বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ, এ কথা কোথাও বলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় এলেই স্বাক্ষরে প্রকাশ হবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে গিয়ে ভাষাগত ভুল করেছে সংশ্লিষ্ট শাখা। বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সংশোধনী দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আগে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেয়ার বিধান আছে। এখানে বিষয়টি ইউজিসি এড়িয়ে গেছে। যা ৪২ হাজার শিক্ষার্থীকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই ১৮বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে ইউজিসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত সোমবার বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০১০ সালের ভিসি নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পেশ করেছি। নিয়োগ দেবেন প্রেসিডেন্ট। সেখান থেকে অনুমোদন না পেলে আমাদের কী করা আছে। আরো বলা হয়, রাষ্ট্রের অনুমোদন দেয়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট অবৈধ ঘোষণা করার কোনো আইনগত ভিত্তি বা এখতিয়ার নেই ইউজিসির। ইউজিসি কেবল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মনিটর করতে পারে।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন বলেন, ২০১৩ সালের ২২শে অক্টোবর ভিসি নিয়োগের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট প্যানেল দেয়া আছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ভারপ্রাপ্ত ভিসি নিয়োগ দিয়েছে। বিষয়টি সরাসরি ইউজিসিকে দুবার জানিয়েছি।পিপলস ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও ইউজিসির সাবেক সচিব মো. মোফাক্কর বলেন, আমাদের ভিসি নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এরপরও কেন ইউজিসি এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে? আমি ইউজিসির সচিব ছিলাম, ৩২ বছর ইউজিসিতে চাকরি করেছি। এ ধরনের ঘটনা কখনও সেখানে ঘটেনি।

ইউজিসির সূত্র বলছে, নর্দান ইউনিভার্সিটির ভিসি নেই প্রায় ৩ বছর। এরকম আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি না থাকার পরও তাদের নাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এটাও বিজ্ঞপ্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষাবিদেরা বলছেন, বৈধ ভিসি থাকা না থাকার দায় কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের একার নয়, সরকারেরও আছে। কারণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই পদে নিয়োগের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে। মন্ত্রণালয়ে ফাইল যাওয়ার পর অনেক সময় বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ আছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও আজ্ঞাবহ ভিসি নিয়োগের চেষ্টা করে। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইউজিসির। সেই কাজটি না করে ইউজিসি শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর আগেও এ ধরনের কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি ইউজিসি দিয়েছে যা নিয়ে প্রশ্নের মুখে সংস্থাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। পরের স্থানে রয়েছে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, সেখানেও প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। পিপলস ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। আরো যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল, জেডএইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রণদা প্রসাদ সাহা, কাদিরাবাদে আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সৈয়দপুরের আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, কুমিল্লার বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, রয়েল ইউনিভার্সিটি, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, সাউথ এশিয়া ইউনিভার্সিটি, জার্মান ইউনিভার্সিটি, নর্থ ওয়েস্টার্ন, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন।

খবর : দৈনিক শিক্ষা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: