সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জামালগঞ্জে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে রেজিয়া

unnamed-2জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: দিনবদলের পালায় আজ অনেক নারীদের মধ্যেই চেতনা জাগ্রত হয়েছে। স্বামীর অভাব পরিবারের অচলাবস্থায় সামাজিক নানা সমস্যা থাকার পরেও থেমে নেই নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার কাহিনী। পুরুষের পাশাপাশি সংসারের হাল ধরে নারীরা স্বাবলম্বী হয়েছেন এমন কাহিনী কমই শুনা যায়। এখনও অনেক নারী আছেন যারা অল্প শিক্ষিত হয়েও সয়সারের হাল ধরেছেন। সুখী করতে পেরেছেন পরিবার সংসার সন্তানদের লেখাপড়া সহ তার মেধা বুদ্ধি এবং পরিশ্রম করে পৌছে গেছেন তেমনই এক নারী জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তেলিয়া গ্রামের আবুল খয়েরের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৩২) পিতার বাড়ী সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় শিমুলবাগ ইউনিয়নের থলেরবন্দ গ্রামে। ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে আর লেখাপড়ার সুযোগ পায়নি রেজিয়া। বিয়ে হয়ে যায় জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়া গ্রামের দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ুয়া আবুল খয়েরের সাথে বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী সংসার ভালই চলছিল হঠাৎ স্বামীর মাথায় বুদ্ধি আসে বিদেশ পাড়ি জমানোর। সহায় সম্বল যাহা ছিল সব বিক্রি করে টাকা দেয় এক দালালের কাছে। বিদেশ যাওয়া থেকে প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে তিন সন্তানের জননী রেজিয়া বেগমের। বাড়ীটি নদীর ভাঙ্গনে প্রায় বিলিনের পথে। রেজিয়ার মাথায় বর্জাগাত নেমে আসে কি ভাবে স্বামী সংসার ছেলে মেয়ে নিয়ে চলা যায়। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি আসে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার। চলে আসে জামালগঞ্জ প্রাণী সম্পদ অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল লতিফ সাহেব এর কাছে। উনার পরামর্শ মতে ৪০ টি ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটিয়ে প্রাণী সম্পদ অফিসের পরামর্শ মতে বাচ্চাগুলাকে রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকেন। ধাপে ধাপে ৪০ টি হাঁস থেকে রেজীয়া বেগমের এখন ৪০০ টি হাঁসের ফার্ম। প্রতিদিন যে ডিম দেয় তা দিয়ে সংসারের খরচ বাচ্চাদের লেখাপড়া খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৯/১০ হাজার টাকা উপার্জন করে রেজিয়া। বছরে প্রায় লক্ষাধিক টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছে রেজিয়া। রেজিয়া স্বামী অল্প শিক্ষিত থাকায় প্রতিদিন সকালে হাঁসগুলাকে খাবার খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন জলভূমিতে নিয়ে যায় আবার বিকেলে খামারে নিয়ে আসে।

রেজিয়া জানান, অভাবের সংসারে যখন চোখে পথ দেখি নাই তখন হাঁস পালনের বুদ্ধি মাথায় আসে তখন প্রানী সম্পদ অফিসের লতিফ ভাই এর সহযোগীতায় বর্তমানে আমি আল্লাহর রহমতে স্বাসলম্বী হতে পেরেছি। আমার তিনটি ছেলে মেয়ে স্কুলে লেখাপড়া করে তারাই আমার সম্পদ। বর্তমানে হাঁস পালন করে একটি বাড়ী ও কিছু জমি ক্রয় করেছি। আগামী বৎসর বাড়ীতে ঘর উঠাব। আমার ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে পারলেই আমি খুশি। এ ব্যাপারে রেজিয়া মেয়ে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী শামছুন্নাহার তানিয়া বলেন, আমাদের পারিবারীক অবস্থা খুবেই খারাপ ছিল। বর্তমানে মা এবং বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমে হাঁসের ফার্ম করে আমরা স্বাসলম্বী হতে পেরেছি। আমরা তিন ভাই বোন লেখাপড়া করছি। দুয়া কইরেন আমরা যেন লেখাপড়া কইরা মানুষ হইয়া বাবা মার মুখ উজ্জল করতে পারি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মমিনুর রহমান বলেন, রেজিয়া হাস পালন করে পারিবারিক ভাবে সাবলম্বী হয়েছে। আমরা তাকে হাস পালনের জন্য উৎসাহিত করেছি। আমাদের পরামর্শক্রমে হাস পালন করে রেজিয়া এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। আমাদের ডিএলও স্যার তার হাসের ফার্ম পরিদর্শন করে সন্তেুাষ প্রকাশ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: