সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বৌদ্ধ থেকে আইএসের শীর্ষ সদস্য হওয়া নীল মারা যায়নি!

full_1211788717_1480137879আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মেলবোর্ন থেকে নীলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কেন্দ্রস্থলে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নীল প্রকাশ তখন থেকেই হয়ে গেল আইএসের শীর্ষ সদস্য সংগ্রহকারীদের একজন আবু খালেদ আল-ক্যাম্বোডি। অথচ নীলের ইচ্ছে ছিল সে একজন র‍্যাপ সঙ্গীত শিল্পী হবে। বছর দেড়েক আগে, ২০১৫ সালের মে মাসে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরাকের মসুলে এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছে নীল।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১২ সালে। তখন কোন এক সময়ে তরুণ নীল প্রকাশের একজন বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল, সে কি ধার্মিক? “আমি একজন বৌদ্ধ”, জবাব দিয়েছিল নীল, “কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন”। “তাহলে তুমি বৌদ্ধ নও, তুমি বিভ্রান্ত”, বলেছিল নীলের সেই বন্ধু। সামান্য এই কটি বাক্য বিনিময়ই নীলের জীবনের অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি দেশে নীলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ আগে নীল নিজেকে তুরস্ক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়।

তার মানে, নীল বেঁচে আছে। এতদিন বহাল তবিয়তেই বেঁচে ছিল। নীলের জন্ম হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। তার বাবা এসেছেন ফিজি থেকে। মা ক্যাম্বোডিয়ার। ২০১২ সালে কুড়ি বছর বয়সে প্রথম ক্যাম্বোডিয়া সফর করে নীল।

পরে আইএসের এক প্রচারণা ভিডিওতে নীল বলেছিল, ক্যাম্বোডিয়া গিয়ে যে বৌদ্ধ ধর্ম সে দেখেছে, তা তার কাছে ‘কোন মানে তৈরি করেনি’।

সেবার অস্ট্রেলিয়া ফিরে এসে মুসলমান ধর্ম গ্রহণে উদ্যত হয় সে, তবে এই ধর্মটি সম্পর্কে সে খুব কমই জানত। পরে সে একদল মুসলমান বন্ধুর সাথে সময় কাটাতে শুরু করে এবং ধর্মটি সম্পর্কে জানতে থাকে।

এক পর্যায়ে সে কলেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরে মেলবোর্নে জুম্মার নামাজ পড়ানো হত এমন একটি স্থানীয় অবকাশ কেন্দ্রে গিয়ে হারুন মেহিচেভিচের সাথে পরিচিত হয় নীল। হারুন বসনিয়া থেকে মেলবোর্নে এসে বসতি করা এক অভিযুক্ত চরমপন্থি। এরপর থেকেই প্রকাশ মেলবোর্নের আল ফুরকান ইসলামিক সেন্টার এবং বইয়ের দোকানগুলোতে সময় কাটাতে শুরু করে।

এসব জায়গাতেই সে হারুন এবং অন্যান্যদের দ্বারা চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর এক বছর পর্যন্ত জীবনাচরণ বদলায়নি নীল, এক পর্যায়ে এ কারণে সে লজ্জিত হয়।

“আমি নিজেকে বললাম, এ আমি কি করছি? আমার চাকরি আছে, আমার রোজগার আছে, একটি গাড়ি আছে, ঘর আছে—তাহলে আমি কি আত্মত্যাগ করলাম? আল্লাহর জন্য আমি কি করলাম?”

এরপর তার সবকিছু বিক্রি করে দেয় নীল এবং ‘হিজরত’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া হয়ে সিরিয়ার রাক্কায় প্রবেশ করে নীল। তার ভাষায় যেটি ছিল ‘জিহাদের ভূমি’। এরপর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে নীল।

এরমধ্যে একটি ঘটনায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরি নিয়ে আক্রমণ চালায় এক ১৮ বছরের তরুণ নুমান হায়দার, যাকে পরে গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে আইএসের ১২ মিনিটের একটি প্রপাগাণ্ডামূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নীলকে নুমান হায়দারের প্রশংসা করতে দেখা যায়। সূত্র: বিবিসি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: