সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মায়ের চিকিৎসার জন্য মেয়ের এ কেমন বিজ্ঞাপন!

full_686443604_1480142331আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হলো মা-সন্তানের সম্পর্ক। মাকে ভালোবেসে সন্তান তার নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এমন হাজারো নজির রয়েছে। সম্প্রতি, ১৯ বছরের একজন তরুণী মায়ের চিকিৎসার খরচ বহনের জন্য নিজেকে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। তার দেয়া এই বিজ্ঞাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।

আলোচিত এই তরুণীর নাম কাও মেনজিউয়াং। তিনি চীনের গ্যঝাং শহরের অধিবাসী। কারো মতে, ‘মেয়েটি যা করেছে তা একদমই ঠিক করেছে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এ ঘটনা সমর্থন করে।’ আবার কেউ বলছেন, ‘যদিও এই মেয়েটি হয়তো নিষ্পাপ। তবুও এই ঘটনা বাড়াবাড়িই বটে। এ ধরনের কাজ সমর্থন করা অনুচিত।’ আবার অনেকে বলছেন, ‘মেয়েটির জায়গায় থাকলে আমরা হয়তো একই কাজ করতে বাধ্য হতাম।’তবে সত্যিই কি মেয়েটার আচরণ সঙ্গত, না কি একটু বাড়াবাড়ি?

কাও মেনজিউয়াং ৪৫ বছরের অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের শরীর বিক্রির কথা লিখেছেন। নিজের পারিবারিক অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, দক্ষিণ চিনের গ্যঝাং শহরের মেয়ে তিনি। মায়ের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড়। তাই মাকে সুস্থ করে তোলাটা তারই দায়িত্ব। তার মা সারাজীবনই চাষবাস করে সংসার চালিয়েছেন। বেশ কিছুদিন হলো মায়ের ত্বকে ক্যানসার ধরা পড়েছে। তিনি গ্যঝাংয়ের সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি। এরই মধ্যে তার ডান উরুতে গভীর সংক্রমণ শুরু হয়েছে।

ডাক্তারদের মতে, কাওয়ের মাকে আরো বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা বাঞ্ছনীয়। কাওয়ের মায়ের কোন স্বাস্থ্য বীমা করা নেই। চিকিৎসার জন্য এখনই দরকার ৩৫ লক্ষ ইউয়ান। সেই অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য কাওয়ের পরিবারের নেই।

এজন্য কাও নিজের স্বল্পবসনে তোলা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, ‘কোন সহৃদয় ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে আমাকে কিনে নেন, তবে আমি মায়ের চিকিৎসা করাতে সক্ষম হব। পরিবর্তে এই অর্থ হস্তান্তরিত হওয়ার পর আমি ওই ব্যক্তির ইচ্ছেমতো চলব। তিনি যা বলবেন, আমি তাই করব। আমি যা বলেছি তার অন্যথা করবো না। যিনি আমাকে সবচেয়ে বেশি টাকা দেবেন, আমি তারই কাছে নিজেকে বিক্রি করব।’

এটা লেখার পর কাও নিজের যোগাযোগ নম্বর দিয়ে জানিয়েছেন, আর্থিক টানাটানিতে বেশিদূর পড়তে পারেনি। হাইস্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকে পড়েছেন। এতে মাসে তার এক হাজার ইউয়ানেরও কম রোজগার হয়। বৃদ্ধ বাবা আর ছোট ছোট ভাইবোনদের পিছনে তার সব টাকা শেষ হয়ে যায়। তবে এখানেই শেষ হয়ে যায়নি কাওয়ের লড়াইয়ের গল্প।

হুয়াং কিলিয়াং নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার হাসপাতালে কাওয়ের মাকে দেখে এসে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কাওয়ের বলা প্রত্যেকটা শব্দ সত্যি। হুয়াং জানিয়েছেন, কাওয়ের মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য একজন সহৃদয় ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে। এর বদলে কাওকে কী দিতে হবে- এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

সেই ব্যক্তির কল্যাণে আপাতত মেনজিউয়াংকে নিজেকে এভাবে বিক্রির প্রয়োজন পড়ছে না। ‘কাওকে এখন আর কিছুই বেঁচতে হবে না বলে জানিয়েছেন সেই ব্যক্তি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: