সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাষাণী মায়ের কান্ড!

manobptacar-news-daily-sylhet-copyহাবিবুর রহমান, সুনামগঞ্জ:: মাসখানেক অতিবাহিত হয়নি বাল্যবিবাহের শিকার এক স্কুল ছাত্রী স্বামীর বাড়ি থেকে পিতার বাড়িতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে।
ফের স্বামীর বাড়িতে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় জোরপূর্বক পাঠানোর জন্য প্রায় দিন-রাত মা বাবা ওই কিশোরীকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন চালিয়েছে প্রতিবেশীদের সামনেই।

এমনি করে শারিরীক নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর চেষ্ঠা করলে বাল্য বিবাহের শিকার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামের নিপা আক্তার লিপি শুক্রবার গভীর রাতে আত্বহননের হুমকি দিয়েছেন।’
জানা গেছে, প্রায় মাস খানেক আগে এসএসসি পরীক্ষার্থী উপজেলার কামড়াবন্দ গ্রামের বাচ্চু মিয়া ও রহিমা দম্পতির কিশোরী কন্যা লিপিকে স্কুলের জন্ম নিবন্ধন গোপন করে পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আমড়িয়া গ্রামের আজিজুল ইসলাম (২৯) এর নিকট বিয়ে দেন।
লিপি তাহিরপুর উপজেলার আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়া কথা থাকলেও বাল্যবিবাহের শেকলে বন্ধি হওয়ায় তার ফরম ফিলাপ করা হয়নি। এদিকে শুক্রবার রাতে জোর করে ফের স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর জন্য লিপির মা রহিমা বাড়িতে বেধরক ভাবে লিপিকে মারধোর করে লিপিকে।

এক পর্যায়ে লিপি স্বামীর বাড়ি যাবেনা বলে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার সময় প্রতিবেশীদের নিকট বলে যায় আমি পুলিশী সহায়তা চাই না হলে আমি আত্বহত্যা করব আর এ মৃত্যুও জন্য দায়ি থাকবে আমার মা রহিমা বেগম ও বাবা বাচ্চু মিয়া।

প্রতিবেশীরা জানায়, বিয়ের এক সপ্তাহ পরই স্বামীর বাড়ি থেকে নিপা আক্তার লিপি পিতার বাড়িতে চলে আসে। এরপর স্বামীর বাড়িতে জোড় করে পাঠানোর জন্য প্রায়-দিন রাত মা রহিমা ও পিতা বাচ্চু মিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে মারপিঠ করতে থাকেন। গত কয়েকদিন ধরে মারপিঠ আর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে লিপি রাতে চাচা সাচ্চু মিয়া টেইলারের ঘরে আশ্রয় নেয়। এদিকে নৈত্যনৈমক্তিক মারপিঠের কারনে প্রতিবেশীরাও পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে।
নিপা আক্তার লিপি প্রতিবেশীর এক মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে জানায়, স্বামীর বাড়ি যাইনা বলে স্বামী ও আমার আমার বাবা প্রায় রাত দিন আমায় মারপিঠ করে, আমার মা-পাষাণী, আমি বিয়ে বসতে ইচ্ছুক ছিলাম না, আমাকে জোর করেই বিয়ে বসতে বাধ্য করা হয়, আমি আবার লেখা পড়া করতে চাই। আমাকে জোর করেন স্বামীর বাড়ি পাঠালে আমি আত্বহত্যা করব এবং এ মৃত্যুর জন্য দায়ি থাকবে আমার মা-বাবা।’
মা রহিমা বেগম মেয়েকে মারপিঠের অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, মারপিঠ করিনা তো , সামান্য শাসন করছি , দেহি বুঝাইয়া যদি জামাইর বাড়িত পাঠাইতাম পারি।’

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধরের বক্তব্য জানতে শনিবার সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিয়য়টি খোঁজ নিয়ে দেখব আইনি ভাবে ওই কিশোরীকে কীভাবে সহযোগীতা করা যায়। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক, এমনকি সন্তানের প্রতি মা-বাবার এমন আচরণ আইনের পরিপন্থিও বটে।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: