সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুরে দুই সাংবাদিকের চাঁদাবাজি মামলার তদন্ত শুরু

30সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দৈনিক যগান্তর এর তাহিরপুর প্রতিনিধি হাবিব সারোয়ার আজাদ ও তার সহোদর দৈনিক ভোরের কাগজ এর তাহিরপুর প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন শাহ বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলার তদন্ত গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়েছে। এই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাহিরপুর থানার এসআই মুহিতকে। গত ১৭ই নভেম্বর দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি মামলা নং-সি আর ১৮৩/১৬ইং,ধারা-৩৮৫/৩৪ দায়ের করেছেন তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের বিশিষ্ট বালি ও পাথর ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানাযায়,গত ৮ই নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘাগটিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারের পাথর ভাঙ্গার মিলে গিয়ে হাবিব সারোয়ার আজাদ ও সাজ্জাদ হোসেন শাহ তাদের পত্রিকার সম্পাদকের নাম ভাঙ্গিয়ে ১লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। সেই সাথে ২১হাজার টাকা মূল্যের ১টি মোবাইল ফোন। তাদের কথা মতো চাঁদার টাকা ও মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকার করায় ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানী করার হুমকি দেয়।
এব্যাপারে বাদাঘাট ন্যাশনাল প্রাইভেট স্কুলের প্রিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম বলেন,আজাদ ও তার সহযোগী আলম শেখ আমার কাছে ৫০হাজার টাকা চাঁদা চায়। তাদের কথা মতো চাঁদার টাকা না দেওয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার স্কুল ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। উত্তর বড়দল ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী বলেন,দুই সহোদরের অত্যাচার দিনদিন বেড়েই চলেছে,তাদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ভাবে লোকজনকে হয়রানী করে। বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উত্তর বড়দল ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুক মিয়া বলেন,আজাদ ও সাজ্জাদের অত্যাচারে সাংবাদিক সমাজসহ এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। যাদুকাটা নদীর বালি-পাথর ব্যবসায়ী হাজী রহিম উদ্দিন বলেন,আজাদ ও সাজ্জাদ বাহিনীর চাঁদাবাজি ও অত্যাচার থেকে আমরা মুক্তি চাই,এজন্য তাদের পত্রিকার কর্তৃপক্ষদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন,আদালতের নির্দেশে হাবিব সারোয়ার আজাদ ও সাজ্জাদ হোসেন শাহর চাঁদাবাজি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে,এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হবে।

উল্লেখ্য,গত ১৭/০৩/১৫ইং তারিখ রাত ৯টায় সীমান্তের শাহ আরেফিন মেলায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধৌলাই খেয়ে সালিশের মাধ্যমে মুসলেখা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে আজাদ মিয়া। এঘটনার এক সপ্তাহ পর ২৪/০৩/১৬ইং তারিখে দুপুর ১২টায় বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনের মহিলা কয়লা শ্রমিকদের কাছে চাঁদা চাইলে সেখানে আবারও গণধৌলাই খায়। এছাড়া চাঁদাবাজির জন্য ২০০৪সালে চাঁনপুর সীমান্তে ১বার ও বাদাঘাট বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম মুসা মিয়ার দোকানের সামনে ১বার গণধৌলায়ের শিকার হয় দুই সহোদর। আজাদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদ রমজানকে ডেকে নিয়ে মারধর করায় তাহিরপুর থানায় জিডি নং ৬৩১,তারিখ:২০/০৪/১১ইং দায়ের করা হয়। একারণে সাংবাদিক রাজুকে উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দীর্ঘদিন যাবত হয়রানী করে আজাদ মিয়া। একই কারণে মাইটিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়ার উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে আজাদ ও সাজ্জাদ বাহিনী। এঘটনায় আজাদ ও সাজ্জাদসহ ১০জনের বিরুদ্ধে আদালতে,মামলা নং-৪৪/২০১৩,ধারা-৪২০/৩৮৫/৩৮০/৩২৫/৩২৪/৩০৭ ও ৩৪ দায়ের করা হয়। আর এই মামলা থেকে রক্ষা পাওয়া জন্য আজাদ মিয়া তার ছেলে শিপু সারোয়ারকে আগুন দিয়ে পুড়ে দূর্নীতিবাজ এসআই জামাল উদ্দিনকে দিয়ে সাংবাদিক মোজাম্মেলের নামে মিথ্যা এসিড মামলা দায়ের করে। এছাড়া বড়ছড়া কয়লা আমদানী কারক সমিতির অর্থ সম্পাদক ব্যবসায়ী কুদ্দুছ মিয়া কাছে ২লক্ষ টাকা চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় আদালতে-৩৮৫/৫০০/৫০১/৫০২/১০৯ধারায়,১১৫/২০১১নং মামলা দায়ের করা হয়। তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক,সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খাঁ ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি,চাঁরাগাঁও কয়লা আমদানী কারক সমিতি সভাপতি জয়ধর আলীর কাছে পৃথক ভাবে আজাদ মিয়ার ৫লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের ছেলে পারুল খাঁ বাদী হয়ে গত ২৯শে জানুয়ারী আদালতে,চাঁদাবাজি মামলা নং-১০/১৫ইং,ধারা-৪২০/৩৮৫/৩৪ ও কয়লা সমিতির সভাপতির ছেলে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২২শে জানুয়ারী চাঁদাবাজি মামলা নং-০৮/২০১৫ইং,ধারা-৪২০/৩৮৫/৩৪ দায়ের করে। তাদের চাঁদাবাজির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গত ২৫.০৪.২০১১ইং তারিখে ০৫.৯০৫…০৬.০৩.০৩১.২০১১নং স্মারকে আজাদ ও সাজ্জাদকে তাহিরপুরের ইউএনও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এছাড়া ২০০২সালে স্কুলের ছাত্রীদের উত্যক্ত করার কারণে আজাদের মাথায় গুল ঢেলে,গলায় জুতার মালা পড়িয়ে সাড়া এলাকা ঘুরানো হয়। ২০০৪সালে ৭ই নভেম্বর এক শিশুকে বলৎকারের ঘটনায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে আজাদ মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই নির্যাতিত শিশুর মা। এঘটনায় আজাদ মিয়াকে তার বাবা তেজ্য করে দিলে সে মদ খেয়ে তার বাবা বদ মিয়াকে মারধর করে। পরে আজাদ মিয়াকে থানায় সোপর্দ করে তার বাবা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাবিব সারোয়ার আজাদকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধির পদ থেকে বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘বিকাশ ফকির’সহ প্রায় ২০থেকে ২৫টি ফেইক আইডি তৈরি করে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ বিভিন্ন ভাবে লোকজনের মানহানি ও হয়রানী করছে। তাদের অত্যাচার,হয়রানী ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায় তাহিরপুর উপজেলাবাসী।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: