সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

খালেদাকে নিয়ে বঙ্গবীরের সমালোচনার কড়া জবাব ফখরুলের

bnp20161125194248ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান ও জোট থেকে জামায়াতকে ত্যাগ না করার বিষয় নিয়ে নানা সমালোচনা করেন।

তবে একই অনুষ্ঠানে পরবর্তী বক্তার বক্তব্য দেয়ার সময় এসব সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

এতে সন্মানিত আলোচকবৃন্দের বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী সমালোচনার সুরে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে চান না। আপনি সেখান থেকে বের হন। যান না একটু ড. কামালের বাসায়, যান না একটু আসম আবদুর রবের বাসায়, যান না একটু বি চৌধুরীর বাসায়, যান না একটু জাফরুল্লার বাসায়। কিন্তু তিনি যাবেন না।

বঙ্গবীর আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আমার বাসায় এসেছিলেন ১০ বার। আমি না হয় আপনার বাসায় গেলাম ৫ বার। কতবার যাওয়া যায়। লজ্জা সরম বলতে তো একটা বিষয় আছে’।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ ড. এমাজউদ্দিন প্রবীণ শিক্ষাবিদ। তিনি আপনাকে জামায়াত ছাড়ার কথা বললেন। অথচ আপনারা বললেন এমাজউদ্দিন বিএনপির কেউ না, আবার বলেন জাফরুল্লাহ বিএনপির কেউ না। এভাবে বলতে পারেন না। তারা বিএনপি না হলেও বিএনপির হিতৌশী। তাদের অসন্মান করা ঠিক না’।

জামায়াতকে এখনো না ছাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেয়ামত হয়ে গেলেও জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি কিছু করতে পারবে না। এ সময় বঙ্গবীর নিজেকে এখনো বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবি করে বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানীর স্মৃতিচারণ করে নানা বক্তব্য দেন।

পরবর্তীতে প্রধান বক্তার বক্তব্যে শুরুতেই বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন ভাসানী পরিষদের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম ভেবেছিলাম ভাসানীর জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বক্তব্য শুরুর কিছুক্ষণ পরই তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন খালেদা জিয়া ঘর থেকে বের হন না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কেউ অস্বীকার করলে ধরে নিতে হবে তিনি সত্যকে স্বীকার করছেন না।  ১৯৮২ সাল থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত আজকের আলোচনার প্রধান অতিথিকে নিয়ে তিনি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে চলেছিলেন। সে কথা তো অস্বীকার করা যাবে না। একজন গৃহবধু স্বাধীনতার পতাকা তুলে ধরে ঘর থেকে ঘরে ছুটে গিয়েছেন, মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তিনি সেই নেত্রী ১/১১ পর্যন্ত গৃহবন্দী ছিলেন। তার দৃঢ়তার কারণে, আপোষহীনতার কারণে তৎকালীন সরকার জরুরি অবস্থা তুলে নিতে বাধ্য হয় এবং নির্বাচন দিতেও বাধ্য হয়’।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ঘরে বসে নেই। একজন গৃহবধু সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি অন্যতম প্রধান নেতা। আজকে জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে মওলানা ভাসানীকে অনুসরণ করে তিনি বলেছেন আমার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আমি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাবো। এতে যদি আমার মৃত্যু হয়, হবে।  সেভাবেই তিনি নেমেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এক হাজারের বেশি তরুণ নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।  পাঁচ`শ নেতাকর্মী গুম করে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী পঙ্গু হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ নেতাকর্মী মামলায় জর্জরিত হয়ে গেছে। আমরা লড়াই করছি। সংগ্রাম করছি। সবসময় অবস্থা একরকম যায় না। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপি চেয়ারপারসন গণতন্ত্রের পক্ষের নেত্রী। মওলানা ভাসানীর পথ অনুসরণ করতে পারলে বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী,গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী,  সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্ল্যাহ প্রমুখ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: