সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

barlekha-picবড়লেখা সংবাদদাতা ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন আলম হত্যাকান্ডে মামলা নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে। হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত বুধবার রাতে শাহবাজপুর বাজার থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মাসুক আহমদকে (৫৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেফতারকৃত মাসুক আহমদ উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটনের আস্থাভাজন। তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে রাতেই তিনি থানাসহ বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাসুক সায়পুর গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আলমকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্থানীয় সন্ত্রাসী কাজল মিয়া। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাজল মিয়ার দুটি বসতঘর, একটি দোকান ভাঙচুর ও ঘরগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ প্রধান আসামি কাজল মিয়া ভোরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় জেলেদের হাতে ধরা পড়েন। তিনি সোনাই নদী দিয়ে ভারতে ঢুকার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় বিজিবির নয়াগ্রাম বিওপির টহল দল উপস্থিত হলে স্থানীয় লোকজন ও জেলেরা কাজলকে তাদের নিকট তুলে দেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় বিজিবি তাকে বড়লেখা থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

গত ১ অক্টোবর আদালতে হত্যার ঘটনার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন কাজল। কাজল আদালতে স্বীকার করলেও আলম হত্যার বিভিন্ন আলামত থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার নেপথ্যে কারো ইন্ধন থাকার বিষয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পুলিশ হত্যাকান্ডের নেপথ্যের মাস্টারমাই-দের তথ্য বের করতে কাজলকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত (২৬ অক্টোবর) কাজলের ৪৮ ঘন্টার রিমা-ের অনুমতি প্রদান করেন। এরপর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্তকালে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই করে পুলিশ গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগ নেতা মাসুককে গ্রেপ্তার করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হওয়ার আশঙ্কায় নিজ দলীয় প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন আলম। এ হত্যাকান্ডের পেছনে পরোক্ষভাবে ইন্ধন দেন নিজ দলীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও আ.লীগ নেতা। পুলিশ এবার খুঁজছে আলম হত্যার নেপথ্যের নায়কদের।
ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন গ্রেফতারকৃত মাসুক আহমদ তার আস্তাভাজন স্বীকার করে বলেন, তিনি থানায় গেছেন ঠিকই; কিন্তু তাকে ছাড়িয়ে আনতে সুপারিশ কিংবা তদবির করেননি। তবে আলম হত্যাকান্ডে মাসুক জড়িত থাকলে তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, আলম হত্যাকান্ডে গ্রেফতার কাজল মিয়া রিমান্ডে থাকাকালীন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে সূত্র ধরে পুলিশ মাসুক আহমদকে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকান্ডের আড়ালের ইন্ধনদাতাদের ব্যাপারে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: