সর্বশেষ আপডেট : ২০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কানাইঘাটে পিতৃ স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই সন্তানের মৃত্যু

unnamed-3কানাইঘাট প্রতিনিধি:: কানাইঘাটে পিতৃ স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে সেই ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী মারজানার গর্ভজাত সন্তানের। অকালে সন্তান জন্ম ও ঠান্ডার প্রভাবে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

উল্লেখ্য সে উপজেলার ৩নং দিঘীরপার পূর্ব ইউপির দর্পনগর পশ্চিম পূর্বকোনা গ্রামের হত দরিদ্র এবাদুর রহমানের মেয়ে কানাইঘাট সড়কের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। একই গ্রামের প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী বাবুল আহমদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণ ও পরে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশার ফলে কিশোরী মারজানার গর্ভে জন্ম নেয় ঐ নবজাতক শিশুটি। এ ঘটনায় মারজানা বেগমের মা হুসনা বেগম (৪৮) বাদী হয়ে একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের পুত্র সৌদি প্রবাসী মোঃ বাবুল আহমদ (৩৫) এবং মারজানাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতনের ঘটনায় বাবুল আহমদের ভাই দুলু মিয়া (৪৫), ফারুক মিয়া (৩১), প্রবাসী বাবুল আহমদের স্ত্রী সিফা বেগম (২৭) কে আসামী করে গত ২৫অক্টোবর সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। মামলা নং- ৫৬৯/১৬ইং। বিজ্ঞ আদালত দরখাস্ত মামলাটি এফআইআর গণ্য করে আসামীদের গ্রেফতার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কানাইঘাট থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবিরকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি এফ.আই করা হয়। থানার মামলা নং- ০৮, তাং- ১০/১১/২০১৬ইং। এ ঘটনায় ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মারাজানার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মারজানা বেগম প্রতিবেশি সৌদি প্রবাসী বাবুল আহমদের বাড়ীতে গৃহের কাজকমের্র পাশাপাশি নিয়মিত ভাবে লেখাপড়া করে আসছিল। বাবুল আহমদ বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। গত ফেব্রুয়ারী মাসে বাবুল আহমদ প্রবাস থেকে ছুটি নিয়ে নিজ বাড়ীতে আসে। এরপর থেকে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী কিশোরী মারজানাকে তার স্ত্রী সিফা বেগমের অগোচরে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখাত। সে মারজানাকে বিয়ের প্রলোভন, তার নামে ব্যাংকে একাউন্ট, স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলে এসব কথাবার্তা বলে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা চালায়। বিষয় গুলো সে প্রবাসী বাবুল আহমদের স্ত্রী সিফা বেগমকে খুলে বললে সিফা বেগম মারজানা বেগমকে ধমক দিয়ে শাসিয়ে দেয়। বিগত ২০ মার্চ প্রবাসী বাবুল আহমদ তার স্ত্রীর অগোচরে গভীর রাতে ঘুমন্ত মারজানার কক্ষে ঢুকে হাত-পা বেঁধে মুখে ওড়না পেঁচিয়ে তাকে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণ করে। এরপর সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার মারজানার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। এভাবে দৈহিক সম্পর্কের একপর্যায়ে মারজানা ৫ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে সে ঘটনাটি জেনে তার মা হোসনা বেগম ও বাবা এবাদুর রহমানকে জানালে তারা গ্রামের মুরব্বীয়ানদের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। গ্রামের কতিপয় মাতব্বররা বিষয়টি সমাধান করে দেবেন এভাবে কালক্ষেপন করলে মারজানা বেগমের ইজ্জত হরনকারী প্রবাসী বাবুল আহমদ এরই ফাকে গত সেপ্টেম্বরে সবার অগোচরে সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। বাবুল আহমদের পরিবারের সদস্যরা অন্তঃসত্বা মারজানাকে বাবুল আহমদের সাথে বিয়ে দিবেন বলে আশ^স্ত করে ঘটনাটি কাউকে আর না বলার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের বলেন। গত ২০ অক্টোবর বাবুল আহমদের গৃহে বসবাসরত মারজানা বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে গর্ভপাতের ঔষধ জোরপূর্বক ভাবে খাওয়ার জন্য বাবুল আহমদের ভাই ফারুক আহমদ, দুলু মিয়া ও বাবুল আহমদের স্ত্রী সিফা বেগম চেষ্টা করে। সে ঔষধ খেতে অস্বীকৃতি জানালে বেধড়ক মারধর এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য উপর্যুপরি পেটে লাথি মারলে মারজানা বেগম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঐদিন তার নিজ ঘরে সাড়ে ৬ মাসের একটি অসুস্থ নবজাতক ছেলের জন্ম দেয়। কিন্তু পিতৃ স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই সন্তানের মৃত্যু হওয়ায় মারজানার সামনে এখন ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছে। এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন এখন মারজানার জীবনের দায় ভার নেবে কে?

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: