সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে ইমাম-বাওয়ানী চা-বাগানে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট চলছে

unnamed-6মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ:: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী চা- বাগানে বকেয়া বেতন-ভাতা’সহ বিভিন্ন দাবীতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার থেকে এ ধর্মঘট শুরু করে শ্রমিকরা। তাদের ন্যায্য বকেয়া বেতন ভাতা না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।unnamed-4

জানাযায়, উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে অবস্থিত ইমাম-বাওয়ানী চা বাগানের প্রায় সাড়ে ৪ শত শ্রমিকদের এরিয়া বিলসহ বকেয়া বেতনের ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮ শত ২৮ টাকা বকেয়া রয়েছে ১ বছর ধরে। বকেয়া দেয়ার দাবী জানিয়ে কোম্পানীর সহকারী মহা ব্যবস্থাপক বরাবরে বিগত ০৮ অক্টোবর আবেদন করেন শ্রমিকরা। এরপ্রেক্ষিতে ১৬ নভেম্বর উক্ত বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে বকেয়া বেতন-ভাতা না দেয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে চা বাগানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়।unnamed-5

বুধবার ২য় দিনের মতো ধর্মঘট চলছে। ফলে কোম্পানীর প্রতি দিন ক্ষতি হচ্ছে কয়েক লক্ষাধিক টাকা। অধিকার আদায়ের দাবীতে ধর্মঘটে যাওয়ায় পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন চা শ্রমিকরা। রির্পোট লেখা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা তাদের খোঁজখবর নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। ইমাম চা বাগানের সভাপতি নির্মল রবি দাষ ও বাওয়ানী চা বাগানের শ্রমিক সমিতির সভাপতি স্বাধন মালকার জানান, তারা এক বছর ধরে আমাদের বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে বাগান ম্যানাজার ফখরুল ইসলাম। ঘর বাড়ি মেরামত করে দেয়া হচ্ছে না। অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথ বেচে নিয়েছি। দাবী না মানলে ঘরে ফিরবো না। শ্রমিকরা জানান, প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা শ্রমিকরা দিলেও মালিক পক্ষ সে টাকা জমা না দেয়ায় তারা ভবিষ্যতে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভব্যনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে টিলা বাবু আব্দুল জলিল তালুকদার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে স্বীকার করে অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী শ্রমিকদের ধর্মঘটের খবর পেয়ে চা বাগানে যান। সেখানে ধর্মঘটরত শ্রমিকদের শান্তনা দেন। পাশাপাশি তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবী বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, চা বাগানের সাড়ে ৪ শত শ্রমিক প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার চা পাতা সংগ্রহ করেন। এতে প্রায় ১ হাজার ৩ শত ২০ কেজি চা উৎপাদন হয়। যার বাজার মুল্য ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। শ্রমিকদের দু’ দিনের ধর্মঘটের ফলে প্রায় ৪ লাখ টাকা কোম্পানীর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের বকেয়ার মধ্যে রয়েছে এরিয়া বিল ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫ শত ২৩ টাকা, আর্নলিভ ৩০ হাজার টাকা, ফেষ্টুভেল লিভ ৬০ হাজার টাকা এবং আর্নলিভ ( বিগত বছর গুলোর) ৭ লাখ ২৫ হাজার ৩ শত ৫ টাকা। মোট ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮শত ২৮ টাকা শ্রমিকদের বকেয়া প্রায় ১ বছর ধরে আটক রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: