সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ২৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাথমিক কাজ শুরু মেট্রোরেলের; খুলবে সম্ভাবনার দ্বার

full_1600399740_1479900111নিউজ ডেস্ক:: উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল। দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, দীর্ঘ এ পথ পাঁচ বছর পর মাত্র ৩৫ মিনিটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে। কারণ, এ পথেই নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল (এমআরটি-৬)। মিরপুর থেকে মতিঝিল, ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এ সড়কের বুক চিরে নির্মাণ করা হবে স্বপ্নের মেট্রোরেলের উড়াল লাইন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে রাস্তার নিচে থাকা সেবা সংস্থার লাইন সরানোর কাজ। আর ১০টি উন্নয়নকাজের মতো নির্মাণকালীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। উন্নয়নের স্বার্থে অধিকাংশ মানুষ তা মেনে নিয়েছেন। তবে তাদের দাবি, কাজ যেন শেষ হয় নির্ধারিত সময়েই।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আগারগাঁওয়ে ৬০ ফুট রাস্তার মাথা থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত রোকেয়া সরণির ডান পাশের রাস্তার মাঝের লেন পরিখার মতো করে খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে তিন লেনের রাস্তা পরিণত হয়েছে দুই লেনে। মাঝের লেন খুঁড়ে দুই পাশে খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কাজ চলে।

দিনের বেলায় কাজ না চললেও রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলছে থেমে থেমে। সকালে ও সন্ধ্যায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। গাড়ি একেবারে নিশ্চল। মিরপুর-১০ থেকে বিজয় সরণি_ এ পথে সবচেয়ে বেশি বাস চলাচল করে।

দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আবদুল জলিল জানান, ৫ নভেম্বর মেট্রোরেলের কাজ শুরুর পর থেকেই এ অবস্থা। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন জানান, এখন চলছে সেবা সংস্থার লাইন সরানোর কাজ। আগামী জুনে পাইলিংয়ের মাধ্যমে শুরু হবে মেট্রোরেলের মূল কাজ। তারা চেষ্টা করছেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন যথাসম্ভব কম হয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের সুফলের জন্য মানুষ এ সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেবে।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, তারা আসলে মেট্রোরেলের সুফল ভোগের জন্যই দুর্ভোগ মেনে নিচ্ছেন।

রোকেয়া সরণির সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) নিচেই রয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ১৩২ কেভির বিদ্যুতের তার। মেট্রোরেলের জন্য নির্ধারিত পথের আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১০ নম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পথে তার রয়েছে ডিভাইডারের নিচে। লাইনের প্রায় দুই যুগ আগে এই বৈদ্যুতিক তার স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৯ সাল নাগাদ রাস্তার ওপর দিয়ে যে মেট্রোরেল চলবে, তার ভায়াডাক্টের খুঁটি বসানো হবে ডিভাইডার বরাবর। তাই বিদ্যুতের তার না সরিয়ে উপায় নেই।

গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে তার স্থানান্তরের কাজ। তার স্থানান্তর কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানান, তার স্থাপনের জন্য রাস্তার যে অংশ খোঁড়া হচ্ছে, নকশা অনুযায়ী সেখানে অন্য কোনো সেবার সংস্থার লাইন নেই। কিন্তু রাস্তা খোঁড়ায় বিভিন্ন সংস্থার পাইপ পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া গেছে গার্মেন্টের পানি নিষ্কাশনের পাইপ। পাইপ ভেঙে পানি তার বসানোর জন্য খোঁড়া পরিখায় ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কারণে কাজে গতি কিছুটা কম।

ডিএমটিসির পরিচালনা বোর্ডের সদস্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. শামছুল হক জানান, ঢাকায় কোনো সেবা সংস্থার লাইন পরিকল্পিতভাবে বসানো হয়নি। এ কারণে সব প্রকল্পে বিঘ্ন ঘটেছে। মগবাজার ফ্লাইওভারে ১২২ বার নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে।

সেবা সংস্থার পরিসেবার লাইন সরানোর কাজ চলছে রোকেয়া সরণির বাঁ পাশেও। মেট্রোরেলের স্টেশন নির্মাণের জন্য এসব লাইন সরানো হচ্ছে। সেবা সংস্থাগুলোর ঠিকাদাররা সম্মিলিতভাবে এ কাজ করছেন। কাজীপাড়ায় আওলাদ বেডিং স্টোর নামে একটি দোকানের সামনে ঘেরাও দিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু এখানেও রয়েছে সমস্যা।

ওয়াসার ঠিকাদার মেসার্স ইয়াতিম অ্যান্ড কোম্পানির মালিক আরিফুল ইসলাম জানান, মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশন নির্মাণ এলাকার সেবা সংস্থার লাইন পাঁচ দিনে সরানোর কথা ছিল। কিন্তু লাইন, রাস্তা থাকার কথা ছিল সেভাবেই। রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের পুরুত্ব থাকার কথা ছিল চার ইঞ্চি। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত। রাস্তা কাটার জন্য যে এক্সক্যাভেটর আনা হয়েছিল, সেটির দাঁত ভেঙে গেছে। পুরুত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিটি স্টেশন এলাকার ৩০০ মিটারের সেবা সংস্থার লাইন সরাতে ১৫ দিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

তিতাসের সাইট সুপারভাইজার আবদুল্লাহ যোবায়ের জানান, তিতাস, ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিটিসিএলসহ ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লাইন সরানো হচ্ছে। এগুলো ফুটপাতের পাশ ঘেঁষে মাটির নিচে রয়েছে। সেখান থেকে মূল রাস্তার নিচে স্থানান্তর করা হবে এসব লাইন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উত্তরার দিয়াবাড়ী (তৃতীয় পর্ব) থেকে পল্লবী, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, খেজুরবাগান, খামারবাড়ি, সোনারগাঁও মোড়, দোয়েল চত্বর, প্রেস ক্লাব হয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বর পর্যন্ত রাস্তার ওপরে উড়াল সড়কে (ভায়াডাক্ট) বসবে ডাবল রেললাইন। এ লাইনেই চলবে মেট্রোরেল।

জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ভায়াডাক্ট নির্মাণ করবে। এর জন্য ১৩টি সেবা সংস্থার লাইন সরাতে হবে। ২০১২ সালে প্রতিদিন এ পথে চার লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। ব্যয় হবে ২১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা। বাকি টাকার জোগান দেবে সরকার।

২০২৪ সালে সব কাজ শেষ হবে। তবে ২০১৯ সালেই দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: সমকাল

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: