সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাতকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান- সচিব ও পিআইওর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা আত্বসাতের অভিযোগ

2-daily-sylhet-666-2হাবিবুর রহমান, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জের ছাতকে সোলার প্যানেল স্থাপনের বরাদ্দের চালের টাকা আত্বসাতের অভিযোগ এনে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সিলেট দূর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাবিখা প্রকল্পের ১৯ মে.টন চাল বিক্রির ৫ লাখ টাকা আত্বসাতের অভিযোগ এনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এবং ইউপি সচিবের অপকর্মের তদন্ত দাবি করা হয়েছে।’
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের তৎকালীন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্বরত থাকা সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ২০১৫ সালের ২ আগষ্ট ১৯মে.টন চাল উক্তোলন করে কালোবাজারীদের নিকট বিক্রি করে দেন।’ কিন্তু চেয়ারম্যান বরাদ্দের ওই চাল উক্তোলন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের যোগসাজসে সোলার প্যানেল স্থাপন না করেই চাল বিক্রির ৫ লাখ টাকা পরস্পরের যোগসাজসে আত্বসাত করেছেন বলে ওই ইউনিয়নের ভোটার সিরাজুল ইসলাম জনস্বার্থে দুদকে চলতি বছর গত ১৪ নভেম্বর অভিযোগ দাখিল করেন।’

ইউপি সচিব মাসুকের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই প্রকল্পের ব্যাপারে আমার জানা নেই’ ঠিক এই মুহুর্তে মনে পড়ছে সোলার প্যানেল স্থাপনের কোন বরাদ্দ ছিল কীনা?।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কদর মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মঙ্গলবার সকালে নিজেই তৎকালনী সময়ে প্রকল্পের চেয়ারম্যান দাবি করে বলেন, চাল বিক্রির টাকা আমার নিকট জমা রেখেছি , আমি আত্বসাত করিনি , সোলার স্থাপনের কাজ চলছে। কী আইনে তিনি বরাদ্দের চাল বিক্রির টাকা নিজের কাছে জমা রাখলেন , চেয়ারম্যানের দায়িত্বে না থাকা সত্বেও সরকারি টাকা নিজের নিকট জমা রাখার দাবিটি ইউনিয়ন পরিষদের নীতিমালার পরিপন্থী কী না? এমন প্রশ্নের উওরে তিনি বললেন আমার বড় ধরণের ভুল হয়ে গেছে।’

ওই ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত বলেন, প্রায় ১৬ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও চাল উক্তোলন করে বিক্রি করে দেয়া হল,প্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা সরঞ্জামাধী সোমবার পর্য্যন্ত পরিষদে দেখা যায়নি, এ ধরণের কোন নমুনাই যেখানে নেই, সেখানে সাবেক চেয়ারম্যান বরাদ্দের চাল বিক্রির টাকা কোন আইনে নিজের পকেটে জমা রাখলেন? তিনি আরো বলেন,যেখানে প্রকল্পই বাস্তবায়ন হয়নি, সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার প্রকল্পের বরাদ্দ ছাড় দিলেন কীভাবে ?
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মামুন আহমদ বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না, প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই তো বরাদ্দ ছাড় দিয়েছিলাম। সরজমিনে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছ কী না? পরিদর্শনে কবে গিয়েছিলেন’? সোলার প্যানেল পরিষদের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে এমনটি দেখার পর বরাদ্দ ছাড় দিয়েছিলেন নাকি অফিসে বসেই বিল ছাড় দিয়েছেন এমন একাধিক প্রশ্নেরও উওর তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন ভাই যা হবার হয়ে গেছে, এখন ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সাবেক চেয়ারম্যানকে চাঁপ দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে দেখেই বরাদ্দ ছাড় দেয়ার কথা, সেক্ষেত্রে পিআইও কি দেখে বরাদ্দ দিলেন সেটা তিনিই জবাব দেবেন, উচিত ছিল প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে চিঠি দিয়ে অব্যয়িত প্রকল্পের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনাটা। তিনি আরো বলেন ,চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায়ও বরাদ্দের টাকা নিজের পকেটে রাখার এখতিয়ার উনার নেই, আর এখন তো তিনি ওই পরিষদের চেয়ারম্যান না, কাজেই পিআইও, সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান সবাই এ অপকর্মের সাথে জড়িত , তাদেরকে দুদকের পাশাপাশী উপজেলা প্রশাসন থেকেও তদন্তের মুখোমুখি দাড় করা নো হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: