সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জামালগঞ্জে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মূখে হাসির ঝলক

unnamed-2হাবিবুর রহমান, সুনামগঞ্জ:: হাওড় অধ্যাষিত জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা জুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলনে আবারো আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে কৃষক কৃষানীরা। পুরো দিগন্ত জুড়ে মাঠে মাঠে সবুজ আর সোনালী ফসলের জলকানির দৃশ্য এখন গোটা উপজেলার জুড়ে আর বিকালে হালকা বাতাস, সকালে শিশির ভেজায় দুলছে রোপা আমন ধানের শব্দে মুখরিত। সেই সাথে দুলছে কৃষকের মন। আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়ছে মাঠে গ্রামে। কৃষকদের চোখে এক রাশ হাসির ঝলক।দেখছে সোনালী স্বপ্ন। আর প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের উৎসব।

আর এ ফসল কাটার মহোৎসবে ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন এলাকার কষকরা। শীতের সকাল থেকে পড়ন্ত বেলা পর্যন্ত মাঠে-মাঠে ফসল কর্তনের চিরাচারিত দৃশ্য এখন গ্রাম জুরে।একদিকে কৃষকরা ধান কেটে বাড়ির আঙ্গিনায় জড়ো করছেন।
অপরদিকে মেশিন দিয়ে মাড়াই কাজ সম্পন্ন করছেন।মাড়াই কাছ শেষে বাতাসে ধান উড়িয়ে গোলায় তোলার কাজে ব্যস্ত এখন।

এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় জেলার জামালগঞ্জে রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোগ বালাই ও পোকা-মাকড় দমন করায় ভালো ফলন হয়েছে উপজেলার প্রতিটি জমিতে।এ ধানের ফলন বিঘাপতি ১৮-১৯ মন। বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য ৭শ থেকে সারে ৭শত টাকা। তবে ধানের বাজার মূল্য কিছুটা বাড়িয়ে সরকারি উদ্যোগে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ধান কিনে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার কৃষকরা।
সরেজমিনে সোমবার সকালে কয়েকটি হাওড় গেলে কৃষকের অভিযোগে প্রতিবেদককে জানায়- প্রকৃত কৃষকেরা উপজেলা খাদ্য গুদামে মান সম্মত ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে তাদের ধান রাখা হয়নি। কিন্তু দালালদের গুনগুত মান কম থাকা সত্ত্বেও তাদের ধান রাখা হয়েছে। এ বছর ন্যায্য মূল্যে সরকারী গুদামে ধান বিক্রি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা।এছাড়া আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা পড়েছেন ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে মহা দুঃশ্চিন্তায়।

জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, উপজেলায় এ বছর ৩ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ করা হয়ে। এর মাঝে উফসি জাতের ধান ২৩শত হেক্টর ও দেশী জাতের ১২শত। বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে ব্রীধান-৫১,৫২,২৯,২৮,ও বি আর২২,দেশী জাতের বিরই ধান,গাইন্ড,চাপাশাল।উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৭হাজার ৬শত ৪০ মে:টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলন ভাল হওয়ায় এবার প্রায় ৭ হাজার ৭শত ধান লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

জানাযায়,উপজেলার নূরপুর, রামনগর,শাহাপুর,জয়নগর, লম্বাবাক, নয়াহালট,চানপুর ও জামালগঞ্জ,নতুন পাড়া,দূলভপুর,ফাজিলপুর হাওরসহ বিভিন্ন মাঠে কৃষকেরা আমন ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি ধানের গোলা তৈরি করে নতুন ধান ঘরে তুলছেন সবাই। প্রতি ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের নানা উৎসব।পাশাপাশি কৃষকের মূখে রঙ্গিন হাসির ঝিলিক বয়ে যাচ্ছে।

জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাফায়েত আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান,এবার রোগ বালাই না থাকায়ও আবহাওয়া অনুকলে থাকায় এবং এলাকার মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।অঞ্চলের জমিতে কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক পযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের পশিক্ষণ মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি সম্ভাব্য সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এজন্য এবার আশার চেয়ে ফলন অনেক ভাল হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: