সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে ভূমিখেকোদের অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকিতে অসহায় কদুপুর গ্রামবাসী

unnamed-2মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের কদুপুর গ্রাম। গ্রামীণ জনপদের শান্ত এ গ্রামটিতে হঠাৎ অশান্তির দাবানল। এর কারণ ১০৪ বিঘা বসতবাড়ি ও ফসলী জমি।একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের শকুনি দৃষ্টিতে অশুভ ছায়া পড়েছে গ্রামবাসির উপর। তাদের মিথ্যা মামলা, হামলা আর প্রতিনিয়তই প্রাণনাশের হুমকিতে ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার এখন বসতভিটা আর পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায়।

জানা যায় পূর্বপুরুষের বসতভিটা আর কৃষি ক্ষেতের জমি উত্তরাধিকার সুত্রেই মালিক তারা। যুগ যুগ থেকে তাদের দখলে থাকা ব্যবহ্রত এই পৈত্তিক সম্পত্তি হঠাৎ একটি চক্র নিজেদের ভোগ দখলে নিতে মরিয়া। ওই ভূমিখেকো চক্রটি নানা মিথ্যার আশ্রয় প্রশ্রয়ে যে কোন মূল্যে এই জায়গা তাদের করে নিতে চায়। তাদের এমন লোভাতুর দৃষ্টিতে অসহায় গ্রামের বাসিন্দারা। এই ভূমিখেকো চক্রটি প্রভাশালী হওয়ায় যে কোন সময় প্রাণনাশের মত বড় ধরণে অঘটনের শংঙ্কা রয়েছে তাদের। ওই ভূমিদস্যুরা লোক মুখে রটাচ্ছে তারা যে ভাবেই হউক স্থানীয় গ্রামবাসীর বসতভিটা উচ্ছেদ করে ১০৪ বিঘা জায়গা তারা দখলে নেবে। দূর্ভোগ্রস্থ গ্রামবাসীদের অভিযোগ সুত্রে জানা যায় তাদের পূর্ব পুরুষ থেকে কদুপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ওই জায়গা ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে বসবাস করছেন। তারা ওই জায়গায় নিজেদের বসতবাড়ি ও কৃষিক্ষেত চালিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের লোভাতুর দৃষ্টি পড়ে ওই জায়গার উপর। তারা নানা ছলনায় মিথ্যার আশ্রয় আর কৌশলে ওই জায়গা তাদের করায়াত্ত করতে চায়। এজন্য তারা মিথ্যা মামলা আর একাধিক হামলা, বসতবাড়ি পুড়ানোসহ প্রাণনাশের চেষ্ঠা ও হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে নিরিহ গ্রামবাসীর উপর। তারা অহেতুক নিরিহ গ্রামবাসী কৃষিজীবী মানুষকে নানা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই ভূমিখেকোদের ছত্রছায়ায় স্থানীয়দের বরাতে ইতিমধ্যেই তারা ১৮জনকে আসামী করে গত ৩১ অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে সদর থানায় একটি মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেছে। তাদের এই মিথ্যা মামলার প্রেক্ষিতে দূর্ভোগে পড়া গ্রামবাসীরা বাধ্য হয়ে তাদের পক্ষ থেকে ভূক্তভোগী একজন মোঃ আবু সাইদ বিবাদি হয়ে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য স্থানীয় চিহ্নিত মামলা, হামলা ও জুলমবাজ উচ্ছৃঙ্খল উঠতি সন্ত্রাসী ও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে ৮ জনকে আসামী করে সদর থানায় গত ৩ নভেম্বর ২০১৬ইং তারিখে মামলা দায়ের করেন। থানা দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায় মামলায় উল্লেখিত বিবাদীগণ ওই এলাকারই বাসিন্ধা। তাদের সাথে পূর্ব থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ৩০ অক্টোবর ২০১৬ ইং তারিখে অফিসবাজার ভূমি অফিসে গেলে পূর্বপরিকল্পনানুযায়ী ওৎপেতে থাকা ওই বিবাদিগণ প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশী অস্ত্র নিয়ে দলবলে হামলা চালায়। এবং হামলা ও ধ্বস্তাধ্বস্তির একপর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা লুটও করে। তাদের হামলায় আহতের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। একই ভাবে ওই এলাকার আরেকজন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি মোঃ জুবায়ের আহমদ ওই উঠতি সন্ত্রাসী ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে তার বসতভিটা পুড়িয়ে প্রাণে হত্যার চেষ্ঠায় ওদের বিরুদ্ধে ৮জনের নাম উল্লেখ করে গত ৪ নভেম্বর সদর থানায় জিডি করেন। এর পর থেকে ওই সন্ত্রাসী ভূমিখেকো চক্রটির অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন যাপন করছেন তারা। অনুসন্ধানে জানা যায় কদুপুর গ্রামের স্বর্গীয় গুরুধন দেবনাথ ও তার ৩ ভাইয়ের ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করেন ওই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্ধা। জায়গা জমি বিক্রি করে ওই ৪ভাই তখনই স্বপরিবারে চলে যান ভারতে। সে দেশের কমলপুর সাবডিভিশনে তারা স্থায়ী ভাবে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করেন। একে একে ৪ ভাই তাদের সন্তান সন্তুতি রেখে প্রকৃতির নিয়তি অনুযায়ী পরলোকগমন করেন।এখনও ওখানে তাদের সন্তান ও আত্মীয় স্বজন রয়েছেন। ২০১৩ সালের ‘খ’ তফসিলের অর্পিতসম্পত্তি নিয়ে সরকারের একটি সিন্ধান্তের সুয়োগ কাজে লাগিয়ে একটি ভূমিখেকোচক্র গিয়াসনগরের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেনের দস্তখত জাল করে মায়া রাণী নামক জনৈক এক হিন্দু মহিলাকে গুরুধন দেবনাথের মেয়ে এবং তাদের বংশের একমাত্র ভূয়া উত্তরাধীকারী বানিয়ে ৪৫ বিঘা জমি নামজারি করে নেয়। এবং বাকি ৫৯ বিঘা জমি একই কায়দায় নামজারি করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে তাদের এই ভূয়া মালিক সাজার রহস্য। জায়গার প্রকৃত মালিক ও ভোগদখলে থাকা স্থানীয় বাসিন্ধারা তাদের ক্রয়কৃত জায়গার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে মহামান্য আদালতের স্মরণাপন্ন হলে চিহ্নিত ওই ভূমিদস্যুদের শুরু হয় দৌঁড় ঝাঁপ। একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু হলে ওই চক্রটি নানা মিথ্যা মামলা হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে ওই সকল জায়গার প্রকৃত মালিকদের। অসহায় গ্রামবাসী তাদের পূর্বপুরুষের বসতভিটা আর ক্ষেতের জমি ওই সকল ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: